মেয়েদের স্টাইল, ছেলেদের ফ্যাশন – শুধু এটুকুই নয়। শাস্ত্র মতে কান ফুটো বা কর্ণভেদ করলে তুষ্ট হন বুধ গ্রহ। বুধ মানে বুদ্ধি, ব্যবসা, কথা বলার স্কিল। বুধ দুর্বল থাকলে পড়ায় মন বসে না, বিজনেসে লস, কথায় জড়তা আসে।

জন্মের পর মাথা মুন্ডন, উপনয়ন, বিয়ে – হিন্দু শাস্ত্রে ১৬টা সংস্কার। তার মধ্যে ৯ নম্বর হল ‘কর্ণভেদ সংস্কার’ বা কান বিঁধানো। আজকাল সবাই ভাবে এটা শুধু সাজ। কিন্তু জ্যোতিষ আর আয়ুর্বেদ বলছে অন্য কথা। কান ফুটো করলে নাকি ভাগ্যই খুলে যায়!

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

১. কোন গ্রহ প্রসন্ন হন? আসল গেমটা বুধের জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী, কান বুধ গ্রহের প্রতিনিধিত্ব করে। বুধ হলেন সৌরজগতের ‘প্রিন্স’। বুদ্ধি, স্মৃতিশক্তি, কথা বলার ক্ষমতা, ব্যবসা, হিসাবনিকাশ, কমিউনিকেশন – সব বুধের আন্ডারে।

কুণ্ডলীতে বুধ দুর্বল বা পীড়িত হলে কী হয়? পড়াশোনায় মন বসে না, ভুলে যাওয়া রোগ, তোতলামি, বিজনেসে বারবার লস, সোশ্যাল অ্যাংজাইটি। কানের লতিতে ফুটো করে সোনা বা রুপোর দুল পরলে বুধের নেগেটিভ এনার্জি কেটে যায়। বুধ প্রসন্ন হন।

এছাড়া রাহুর অধিষ্ঠানও কান। রাহু মাথা খারাপ করে, ভুল ডিসিশন নেওয়ায়। কান ফুটো করলে রাহুর কুপ্রভাবও কমে বলে বিশ্বাস।

২. শুধু গ্রহ নয়, সায়েন্সও আছে: আকুপ্রেশার কানেকশন আয়ুর্বেদ ও চাইনিজ আকুপ্রেশারে কানের লতিকে বলা হয় ‘মাস্টার সেন্সর পয়েন্ট’। ঠিক লতির মাঝখানে ফুটো করলে ব্রেনের ‘মেমরি’ আর ‘কনসেনট্রেশন’ অংশ অ্যাক্টিভ হয়।

এই জন্যই পুরনো দিনে গুরুকুলে পাঠানোর আগে ছাত্রদের কান ফুটো করে দেওয়া হত। যাতে পড়া তাড়াতাড়ি মুখস্থ হয়, ব্রেন শার্প থাকে। ডাক্তাররাও মানেন, এই পয়েন্টে স্টিমুলেশন দিলে ‘ভেগাস নার্ভ’ ঠান্ডা হয়। অ্যাংজাইটি, মাইগ্রেন কমে।

৩. কর্ণভেদের নিয়ম: কখন, কীভাবে করবেন?

শুভ দিন: শাস্ত্র মতে ১, ৩, ৫ বছর বয়সে কর্ণভেদ শ্রেষ্ঠ। বিজয়া দশমী, অক্ষয় তৃতীয়া, পুষ্য নক্ষত্র, বুধবার দিন শুভ। শনিবার, মঙ্গলবার, অমাবস্যা বাদ।

কোন ধাতু পরবেন: বুধের ধাতু পান্না, কিন্তু সবাই পরতে পারে না। বিকল্প হল সোনা। সোনা পরলে বুধ, বৃহস্পতি দুজনেই তুষ্ট। রুপো পরলে চন্দ্র ভালো হয়, মাথা ঠান্ডা থাকে। পাথর বসানো, ফ্যাশনেবল দুলে লাভ নেই। খাঁটি সোনা বা রুপোর ছোট রিং/টপ বেস্ট।

ছেলে না মেয়ে: মেয়েদের দুই কানে বাধ্যতামূলক। ছেলেদের ক্ষেত্রে শুধু ডান কানে ফুটো করলে সূর্যের তেজ বাড়ে, সাহস আসে। বাঁ কানে ফুটো করলে চন্দ্র ভালো হয়, মন শান্ত হয়। তবে এখনকার জ্যোতিষীরা বলছেন, ছেলেরা দুই কানেই ফুটো করতে পারে।

কে ফুটো করবে: স্যাকরা বা অভিজ্ঞ কেউ। এখন মেশিনে ফুটো হয়। তবে নিয়ম হল প্রথমে মন্ত্র পড়ে, হলুদ-দই দিয়ে শুদ্ধ করে তারপর সোনার তার দিয়ে ফুটো করা।

৪. কী কী উপকার? জ্যোতিষ ও সায়েন্স মিলিয়ে ৫টা পয়েন্ট ১. বুদ্ধি বাড়ে: পড়াশোনায় মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি বাড়ে। বাচ্চাদের জন্য মাস্ট। ২. কথার জড়তা কাটে: তোতলামি, শব্দ ভুলে যাওয়া – বুধের দোষ। কান ফুটো করলে কমে। ৩. বিজনেসে লাভ: বুধ ব্যবসার কারক। মার্কেটিং, হিসাব, ক্লায়েন্ট ডিলিং ভালো হয়। ৪. রাহুর দোষ কাটে: হঠাৎ দুর্ঘটনা, বদনাম, নেশা – রাহু দেয়। কান ফুটো করলে কন্ট্রোল হয়। ৫. প্রজনন ক্ষমতা বাড়ে: আয়ুর্বেদ বলে, কানের নার্ভ জরায়ুর সাথে কানেক্টেড। মেয়েদের পিরিয়ডের ব্যথা কমে, কনসিভ করতে সুবিধা হয়।

৫. কাদের জন্য মাস্ট? ১. বাচ্চা ৫ বছর অবধি: ব্রেন ডেভেলপমেন্টের সময়। এখনই করিয়ে দিন। ২. কথা বলতে সমস্যা: ইন্টারভিউতে গলা কাঁপে, স্টেজে উঠতে ভয় – বুধ খারাপ। ৩. বিজনেসে বারবার লস: ক্লায়েন্ট হাতছাড়া হচ্ছে, টাকা আটকে যাচ্ছে। ৪. রাহুর মহাদশা: কুণ্ডলীতে রাহু খারাপ থাকলে জ্যোতিষীরা প্রথমেই কান ফুটো করতে বলেন।

শেষ কথা: কান ফুটো করা মানে শুধু দুল পরা নয়। এটা একটা ‘অ্যাক্টিভেশন’। বুধ গ্রহের সুইচ অন করা। ২০ টাকার সোনার তার আপনার ছেলে-মেয়ের ভাগ্য বদলে দিতে পারে।

তবে মনে রাখবেন, বিশ্বাস আর সায়েন্স পাশাপাশি চলুক। শুধু কান ফুটো করে অফিসে ঘুমোলে প্রোমোশন হবে না। কর্ম আপনার, আশীর্বাদ বুধের।

ফুটো করার আগে জন্মছক একবার কোনও ভালো জ্যোতিষীকে দেখিয়ে নিন। কারণ মেষ, সিংহ লগ্নের জন্য সোনা সবসময় শুভ নাও হতে পারে।