ঘরে বাস্তুদোষ থাকলে যতই পরিশ্রম করুন, উন্নতি আটকে থাকে। সামনেই বিশ্বকর্মা পুজো। শাস্ত্র মতে, এই দিনে দেবশিল্পী বিশ্বকর্মার আরাধনা করলে ঘরের সমস্ত বাস্তুদোষ কেটে যায়। জেনে নিন ৩টি সহজ ও অচুক টোটকা যা পুজোর দিন করলে ফিরবে ভাগ্য।

বিশ্বকর্মা হলেন বিশ্বের প্রথম স্থপতি। তিনি যন্ত্র, শিল্প এবং নির্মাণের দেবতা। তাই কোনও ঘর, কারখানা বা দোকানে যদি বাস্তুদোষ থাকে, তাহলে বিশ্বকর্মা পুজোর দিনই তা কাটানোর সবচেয়ে শুভ সময়।

এই বছর বিশ্বকর্মা পুজো পড়েছে ১৮ই সেপ্টেম্বর। এই দিনে মন দিয়ে পুজো করলে শুধু কর্মে উন্নতিই নয়, ঘরের নেগেটিভ এনার্জিও দূর হয়।

ঘরে বাস্তুদোষ আছে বুঝবেন কীভাবে? পরিবারে সবসময় অশান্তি, টাকা আসলেও থাকে না, কাজে বারবার বাধা, শরীর খারাপ লেগেই থাকা - এগুলো বাস্তুদোষের লক্ষণ হতে পারে।

ভাগ্য ফেরাতে বিশ্বকর্মা পুজোর ৩ টোটকা:

১. যন্ত্রে সিঁদুর ও ময়ূরপঙ্খ টোটকা: বিশ্বকর্মা পুজোর দিন আপনার বাড়ি বা কর্মস্থলের প্রধান যন্ত্র, যেমন - সেলাই মেশিন, ল্যাপটপ, গাড়ি বা দোকানের ক্যাশ বাক্সে সামান্য সিঁদুরের তিলক লাগান। তারপর সেই যন্ত্রের পাশে একটি ময়ূরের পালক রেখে দিন। মনে করা হয়, ময়ূরের পালক বাস্তুর নেগেটিভ শক্তি শোষণ করে নেয় এবং সিঁদুর সমৃদ্ধি আনে। এটি সারাবছর ওখানেই রাখুন।

২. উত্তর-পূর্ব কোণে তামার ঘট টোটকা: বাস্তুশাস্ত্রে উত্তর-পূর্ব কোণকে দেবতাদের স্থান বলা হয়। বিশ্বকর্মা পুজোর দিন সকালে স্নান করে একটি ছোট তামার ঘটে জল, একটি এক টাকার কয়েন, সামান্য গঙ্গাজল এবং একটি তুলসী পাতা দিয়ে ভরে ঘরের উত্তর-পূর্ব কোণে রেখে দিন। এর পাশে একটি ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালান। এটি ঘরের বাস্তুদোষ কাটিয়ে পজিটিভ এনার্জি নিয়ে আসে এবং আটকে থাকা টাকা ফিরে আসতে সাহায্য করে।

৩. কালো সর্ষে ও লোহার পেরেকের টোটকা: এটি সবচেয়ে শক্তিশালী টোটকা। পুজোর দিন সন্ধ্যায় একটি ছোট কালো কাপড়ে ১০৮টি কালো সর্ষে, একটি ছোট লোহার পেরেক এবং এক চিমটে কর্পূর বেঁধে একটি পুঁটলি তৈরি করুন। এই পুঁটলিটি আপনার বাড়ির প্রধান দরজার বাইরে, উপরের দিকে ঝুলিয়ে দিন। শাস্ত্র মতে, লোহা হল বিশ্বকর্মার প্রিয় ধাতু। এটি নজরদোষ, বাস্তুদোষ এবং শত্রুর বাধা থেকে ঘরকে রক্ষা করে।

মনে রাখবেন, টোটকা করার সময় মন পরিষ্কার রাখা সবচেয়ে জরুরি। বিশ্বকর্মা দেব কর্মের দেবতা, তাই এই দিনে কোনও শ্রমিক বা মিস্ত্রিকে অপমান করবেন না, বরং পারলে কিছু দান করুন। কর্ম ভালো হলে ভাগ্য আপনিই ফিরবে।