মারুতি সুজুকির প্রথম অল-ইলেকট্রিক এসইউভি ই-ভিটারা রপ্তানিতে ৫০,০০০ ইউনিটের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। গুজরাটের হংসলপুর প্লান্টিংয়ে তৈরি এই গাড়িটি ইউরোপ ও জাপানসহ বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে।

দেশের বাজারের পাশাপাশি বিদেশের মাটিতেও দাপট দেখাচ্ছে মারুতি সুজুকির প্রথম অল-ইলেকট্রিক এসইউভি ই-ভিটারা। ভারতে তৈরি এই ইলেকট্রিক গাড়ির রপ্তানি ইতিমধ্যেই ৫০,০০০ ইউনিটের গণ্ডি পেরিয়ে গেছে। ২০২৫ সালের আগস্টে গুজরাটের হংসলপুর প্লান্ট থেকে ই-ভিটারা বিদেশে পাঠানো শুরু করে মারুতি। বর্তমানে ইউরোপ ও জাপানসহ বিশ্বের প্রায় ৫০টি দেশে বিক্রি হচ্ছে এই গাড়ি। এর মধ্যে ইউরোপের বাজারেই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে ই-ভিটারা।

কোম্পানির দাবি, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে ভারত থেকে যত প্যাসেঞ্জার ইলেকট্রিক গাড়ি বিদেশে রপ্তানি হয়েছে, তার প্রায় ৯৩ শতাংশই মারুতি সুজুকির ই-ভিটারা। বিশ্ববাজারে ভারতের তৈরি ইভির যে বিপুল চাহিদা তৈরি হয়েছে, এই পরিসংখ্যান তারই প্রমাণ।

কীভাবে ৫০ হাজারের গণ্ডি পার করল ই-ভিটারা?

মারুতি ই-ভিটারার আন্তর্জাতিক সফর শুরু হয়েছিল ইউরোপের বাজার দিয়ে। ২০২৫ সালে গুজরাটের পিপাভাভ বন্দর থেকে প্রথম দফায় ২,৯০০টিরও বেশি গাড়ি ইউরোপের ১২টি দেশে পাঠানো হয়। এখনও ই-ভিটারার সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপই। এরপর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাপানেও গাড়িটি রপ্তানি শুরু হয়। আশা করা হচ্ছে, ২০২৬-২৭ আর্থিক বছরে মারুতির দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি বাজার হয়ে উঠবে জাপান। ই-ভিটারা ছাড়া ফ্রাঙ্কস এবং জিমনি ৫-ডোর মডেলের ভালো বাজার রয়েছে সেখানে। এই তিনটি মডেল মিলিয়ে জাপানে মারুতির মোট রপ্তানি ১ লক্ষ ইউনিট ছাড়িয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্য, নরওয়ে, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড ও জাপানের মতো ৫০টিরও বেশি দেশে পৌঁছাচ্ছে ই-ভিটারা।

দুটি ব্যাটারি অপশন এবং ১৭২ বিএইচপি পর্যন্ত ক্ষমতা

ব্যাটারি ও পারফরম্যান্সের দিক থেকেও ই-ভিটারা বেশ শক্তিশালী। এতে ৪৯ কিলোওয়াট-আওয়ার এবং ৬১ কিলোওয়াট-আওয়ার— এই দুটি ব্যাটারি প্যাকের বিকল্প রয়েছে। এগুলির ইলেকট্রিক মোটর যথাক্রমে ১৪২ বিএইচপি এবং ১৭২ বিএইচপি শক্তি তৈরি করতে পারে। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারের কথা মাথায় রেখে তৈরি হলেও, গাড়িটি এখন ভারতের বাজারেও পাওয়া যাচ্ছে। ভারতে সুজুকির তৈরি প্রথম গ্লোবাল ব্যাটারি ইলেকট্রিক যান (BEV) এটি।

হংসলপুর প্লান্টিংয়ের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি

ই-ভিটারা তৈরি এবং রপ্তানির মূল কেন্দ্র হলো গুজরাটের হংসলপুর প্লান্ট। ই-ভিটারা রপ্তানি শুরু হওয়ার সময় এই প্লান্টে বছরে ৭,৫০,০০০টি গাড়ি তৈরি হতো। এখন তার ক্ষমতা বাড়িয়ে ১ মিলিয়ন বা ১০ লক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মারুতির দাবি, এটি বিশ্বে সুজুকির প্রথম প্লান্ট, যেখানে বছরে ১০ লক্ষ গাড়ি তৈরির ক্ষমতা রয়েছে। এখনও পর্যন্ত এই কারখানায় মোট ২৫,২৮৮.৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। ২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে মারুতির মোট রপ্তানি করা গাড়ির প্রায় অর্ধেকই এসেছে এই প্লান্ট থেকে।

রপ্তানির দৌড়ে এক নম্বর মারুতি

শুধু ইলেকট্রিক গাড়ি নয়, পেট্রোল-ডিজেলের সাধারণ প্যাসেঞ্জার গাড়ির রপ্তানিতেও মারুতি সুজুকি দেশের এক নম্বর স্থানে রয়েছে। সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স (SIAM)-এর তথ্য বলছে, ২০২১-২২ থেকে ২০২৫-২৬ পর্যন্ত টানা ৫টি আর্থিক বছরে ভারতের সবচেয়ে বড় প্যাসেঞ্জার গাড়ি রপ্তানিকারক হিসেবে শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে তারা।

২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভারত থেকে যত প্যাসেঞ্জার গাড়ি বিদেশে গেছে, তার ৫০ শতাংশের বেশি ছিল মারুতি সুজুকির। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ১২০টি দেশে ১৬টি আলাদা মডেল রপ্তানি করছে তারা। আর এই বিশাল তালিকার একমাত্র সম্পূর্ণ ইলেকট্রিক গাড়ি হলো ই-ভিটারা।