প্রচণ্ড গরমে গাড়ির ইঞ্জিন, টায়ার ও ব্যাটারির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে, যা যান্ত্রিক সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই গরমকালে গাড়ির সুরক্ষার জন্য নিয়মিত কুল্যান্ট, ইঞ্জিন অয়েল, টায়ারের প্রেশার এবং ব্যাটারির অবস্থা পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।
ভারতে গরমকাল মানেই তাপমাত্রার পারদ চড়চড় করে বাড়ে। এই অসহ্য গরম শুধু মানুষের নয়, গাড়িরও দফারফা করে দেয়। প্রচণ্ড রোদ আর তাপ গাড়ির ইঞ্জিন, টায়ার, ব্যাটারি এমনকি ভেতরের অংশগুলোর ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি করে। এই সময়টায় যদি গাড়ির ঠিকঠাক যত্ন না নেওয়া হয়, তাহলে ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া, হঠাৎ রাস্তায় খারাপ হয়ে যাওয়া বা অন্য যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই গরমকালে গাড়ির নিয়মিত চেকিং আর কিছু সতর্কতা নেওয়াটা খুব জরুরি।
ইঞ্জিন ঠান্ডা রাখাটা সবচেয়ে জরুরি
গরমকালে গাড়ির যত্নের সবচেয়ে জরুরি দিক হলো ইঞ্জিন ঠান্ডা রাখা। গাড়ি চললে ইঞ্জিন এমনিতেই গরম হয়, তার ওপর বাইরের তাপ বাড়তি চাপ ফেলে। তাই চালকদের উচিত মাঝে মাঝেই ইঞ্জিনের কুলিং সিস্টেমটা দেখে নেওয়া। ইঞ্জিন ঠান্ডা থাকা অবস্থায় সবসময় রিজার্ভার ট্যাঙ্কে কুল্যান্টের লেভেল চেক করুন। এই কুল্যান্টই ইঞ্জিনের তাপ কমাতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত গরম হওয়া থেকে বাঁচায়। কুল্যান্টের লেভেল খুব কমে গেলে ইঞ্জিন ওভারহিট হয়ে গাড়ির বড়সড় ক্ষতি হতে পারে। সাধারণত, কোম্পানির পরামর্শ অনুযায়ী কুল্যান্ট আর জল 50:50 অনুপাতে মেশানোই ভালো।
ইঞ্জিন অয়েল ও অন্যান্য ফ্লুইড পরীক্ষা করুন
গরমকালে বেশি তাপমাত্রার কারণে ইঞ্জিন অয়েল তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই ডিপস্টিক দিয়ে নিয়মিত ইঞ্জিন অয়েলের লেভেল পরীক্ষা করাটা জরুরি। যদি তেলের লেভেল কম থাকে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তা ভরে নিন। এতে ইঞ্জিনের সব যন্ত্রাংশ ঠিকমতো লুব্রিকেশন পাবে এবং মসৃণভাবে কাজ করবে। ইঞ্জিন অয়েলের পাশাপাশি ব্রেক ফ্লুইড, ট্রান্সমিশন ফ্লুইড এবং পাওয়ার স্টিয়ারিং ফ্লুইডও পরীক্ষা করা দরকার। গাড়ির সুরক্ষা আর ভালো পারফরম্যান্সের জন্য এই সব ফ্লুইডই খুব গুরুত্বপূর্ণ।
টায়ারের প্রেশারের দিকে নজর দিন
গরমের তাপে টায়ারের ভেতরের হাওয়া প্রসারিত হয়, যার ফলে টায়ারের প্রেশার বেড়ে যায়। টায়ারে হাওয়া বেশি থাকলে লম্বা সফরে টায়ার তাড়াতাড়ি ক্ষয়ে যেতে পারে বা ফেটে যাওয়ার আশঙ্কাও বাড়ে। তাই, মাসে অন্তত একবার টায়ারের প্রেশার পরীক্ষা করা উচিত, বিশেষ করে যখন টায়ার ঠান্ডা থাকে। গাড়ির ম্যানুয়ালে যে নির্দিষ্ট লেভেলের কথা বলা আছে, প্রেশার সেই সীমার মধ্যে আছে কিনা তা নিশ্চিত করা জরুরি। টায়ারে কোনও ফাটল, ফোলা অংশ বা অসম ক্ষয় হচ্ছে কিনা, সেটাও খেয়াল রাখতে হবে।
ব্যাটারির যত্ন নিন
অনেকেই ভাবেন যে ব্যাটারির সমস্যা শুধু শীতকালেই হয়। কিন্তু সত্যিটা হলো, প্রচণ্ড গরমও ব্যাটারির আয়ু কমিয়ে দেয়। বেশি তাপমাত্রার কারণে ব্যাটারির ভেতরের ফ্লুইড তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায় এবং এর ভেতরের রাসায়নিক বিক্রিয়াও দ্রুত হতে থাকে। এটা এড়ানোর জন্য, ব্যাটারির টার্মিনালগুলো পরিষ্কার রাখা এবং তাতে কোনও মরচে পড়েছে কিনা তা পরীক্ষা করা জরুরি। আপনার গাড়ির ব্যাটারির বয়স যদি তিন বছরের বেশি হয়, তাহলে কোনও সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে একবার চেক করিয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
