গত বুধবারই সংসদে সারা দেশে এনআরসি চালুর কথা উঠেছে এরমধ্যে গত তিন সপ্তাহে ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঢুকতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছেন ২০০ জন ভারতে নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন তাঁরা বলে অভিযোগ বিজিবি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এদের বেশিরভাগই আসছেন বেঙ্গালুরু থেকে 

গত বুধবারই সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সারা দেশে নাগরিকপঞ্জী তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। আর তারপরই ভারত থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করার অপরাধে প্রায় ২০০ জনের গ্রেফতার হওয়ার খবর পাওয়া গেল। বাংলাদেশের সংবাদপত্রের খবর অনুযায়ী গত তিন সপ্তাহ ধরে এই গ্রেফতারি অভিযান চালানো হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া মানুষের সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা প্রত্যেকেই জানিয়েছেন ভারতে 'হয়রানি'র শিকার হয়েই বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন তাঁরা। এঁদের বেশিরভাগই বেঙ্গালুরুতে থাকতেন। বস্তুত, এনআরসি চালু হওয়ার বহু আগে থেকেই বেঙ্গালুরুতে অবৈধ বাংলাদেশী শরণার্থীদের চিহ্নিত করে দেশে পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। তারপর থেকেই পুলিশি ঝামেলার ভয়ে দলে দলে অবৈধ শরণার্থীরা পশ্চিমবঙ্গ হয়ে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালানো শুরু করেছে।

শনিবার, বেঙ্গালুরু পুলিশের পক্ষ থেকেও এইরকম ৫৫ জন বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে অভিযুক্তকে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া স্টেশনে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাদের দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রেখে কলকাতা পুলিশ ও বিএসএফ-এর সঙ্গে ওই অভিযুক্তদের ভবিষ্যত নিয়ে আলোচনা করে বেঙ্গালুরু পুলিশ। পরে তাদের বাসে করে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু, তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তাদের বাংলাদেশে পাঠানোর কোনও ব্যবস্থা করা হয়েছে কিনা, এইসব সম্পর্কে কোনও কথাই বলতে চায়নি কর্তৃপক্ষ।

একমাস আগে থেকেই বেঙ্গালুরু পুলিশ অবৈধ বাংলাদেশী শরণার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। দুটি শিবিরে হানা দিয়ে মোট ৬০ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের সকলেই মুসলিম। হাওড়া স্টেশনে অপেক্ষারত বাংলাদেসীদের একজন জানিয়েছেন, তিনি গত তিন বছর ধরে বেঙ্গালুরুতে জঞ্জাল সাফাইয়ের কাজ করতেন। দিনে অন্তত ৪০০ টাকা রোজগার হত তাঁর। যা বাংলাদেশে ভাবা অসম্ভব।

বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত তিন সপ্তাহ ধরে ভারতের বিভিন্ন জায়গা থেকে সীমান্ত পেরিয়ে অবৈধভাবে লোক ঢুকছে বাংলাদেশে। বিশেষ করে মহেশপুরের ঝেনাইদা ও যশোরের পেট্রাপোল এলাকা দিয়ে এই অনুপ্রবেশের ঘটনা বেশি ঘটছে।

বেঙ্গালুরু পুলিশের দাবি তাদের গত একমাসের অভিযানে বেঙ্গালুরু শহরে যত বাংলাদেশী অভিবাসী ছিল, তাদের অর্ধেকই সাফ হয়ে গিয়েছে। তবে এই বাংলাদেশীদের ভবিষ্যত নিয়ে তারা মুখে কুলুপ এঁটেই রয়েছে।