দুদিনের বাংলাদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘুরে দেখবেন বাংলাদেশের বিখ্যাত যশোরেশ্বরী কালি মন্দিরটি। ৫১টি শক্তিপীঠের অন্যতম এই মন্দির। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর ওরাকান্দিতে মতুয়া ধামে যাওয়ারও কথা রয়েছে তাঁর। 


 সাতক্ষীরায় অবস্থিত যশোরেশ্বরী মন্দিরটি ইতিমধ্যেই সংস্কার করা হয়েছে। মন্দিরের পুরোহিত জানিয়েছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী তাঁদের মন্দির দেখতে আসছেন, এটা তাঁদের কছা খুবই গর্ব ও আনন্দের বিষয়। মন্দিরের পুজারী দিলীপ মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন মন্দিরটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। আর মন্দিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে স্বাগত জানাতেও তাঁরা প্রস্তুত রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন এই মন্দিরে প্রতি বছর ভারত ও বাংলাদেশের প্রচুর মানুষ আসেন পুজো দিতে। দেশভাগ হলেও মন্দিরের মাহাত্য কিছুমাত্র কমেনি। 

পুরাণ অনুযায়ী যশোরেশ্বরী মন্দিরটি ভারত ও প্রতিবেশী দেশগুলি জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ৫১ শক্তিপীঠের একটি। এখানে দেবী যশোরেশ্বরী রূপে পুজিত হন। দেবতা শিব এখানে হাজির হয়েছিলেন চণ্ড হিসেবে। শনিবার এই মন্দিরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দ্বাদশ শতকের শেষ দিকে এই মন্দির নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রথমে এই মন্দিরে ১০০ টি দরজা তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তীকালে লক্ষ্ণণ সেন এই মন্দির সংস্কার করেন। রাজা প্রতাপাদিত্য ষোড়শ শতকে মন্দির নির্মাণ করেন। রেকর্ড অনুযায়ী কোনও এক স্থানীয় হিন্দু রাজা এখানে ষোড়শ শতাব্দীতে মন্দিরটি তৈরি করেছিলেন। 

১৫ মাস পর নতুন বিমানে বিদেশ সফর, বাংলাদেশে গিয়ে বাংলাতে বার্তা মোদীর ...

অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর আর্জি, প্রথম দফা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের চিঠি নির্বাচন কমিশনকে ...
আগামিকাল তাঁর সফরসূচির মধ্য়ে রয়েছে ওড়াকান্দি। যাখানে মূলত মতুয়াদেরবাস। ইতিমধ্যেই যাঁদের অনেকেই চলে এসেছেন পশ্চিমবঙ্গে। নরেন্দ্র মোদী আগেই জানিয়েছিলেন তিনি ওড়াকান্দির মতুয়া  সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা বলার অপেক্ষায় রয়েছেন। সূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ মন্দিরে পুজো দিয়ে মতুয়া সম্প্রদায়ের ৩০০ প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলবেন। যা এই ভালো উদ্যোগ হিসেবেই ব্যক্ত করেছেন এই রাজ্যের মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি তথা বিজেপি নেতা শান্তনু ঠাকুর। যদিও বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রী জানিয়েছেন এটি নিছকই একটি সফর। এখানে কোনও রাজনীতি নেই। 

কিন্তু আগামিকাল থেকেই পশ্চিমবঙ্গ শুরু হচ্ছে বিধানসভা নির্বাচন। নির্বাচের সময় প্রধানমন্ত্রী মতুয়াদের সঙ্গে বৈঠক রীতিমত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই রাজ্যের কাছে। কারণ বিজেপি টার্গেট করেছে মতুয়াদের ভোট। আর সেই জন্যই এই রাজ্যের নির্বাচনী ইস্তাহারে বাংলাদেশের হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্ব প্রদান করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কারণ এই রাজ্যের নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রায় ৫০টি বিধানসভা মতুয়া ভোট ব্যাঙ্ক নির্ণয়ক ভূমিকা নিতে পারে বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।