ভারতীয় সংগীত জগতের এক উজ্জ্বলতম ব্যক্তিত্ব সংগীত শিল্পী মান্না দে। আজ তার ১০১ তম জন্মদিন।  প্রতিভাসম্পন্ন এই শিল্পীর আসল নাম  প্রবোধ চন্দ্র দে। কিন্তু সেই নামে কেউই তাকে চেনেন না । মান্না দে বলেই জগৎজোড়া খ্যাতি তার। কিংবদন্তি শিল্পীর বাংলা সহ হিন্দি, মারাঠি, গুজরাটি সহ আরও ভাষায় দীর্ঘ ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সংগীত চর্চা করেছিলেন। সর্বকালের সেরা গায়ক হিসেবেই তিনি সকলের মনে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন।

আরও পড়ুন-বছর সাতেক পরও তিনি সকলের মনের মণিকোঠায়, মান্না দে'র একশো একতম জন্মবার্ষিকী...


ছোটবেলা থেকেই  গানের প্রতি প্রবল আকর্ষন ছিল। স্কটিশ  স্কুলে পড়া কালীন নিজের গানে আসর জমিয়ে রাখতেন মান্না।  আধুনিক বাংলা গানের জগতে সমস্ত শ্রোতাদের কাছেই ভীষণই  জনপ্রিয় ছিলেন মান্না দে। একজন সফল সংগীত ব্যক্তিত্ব হিসেবে তার খ্যাতি বিশ্বজোড়া। পঞ্চাশ থেকে সত্তরের দশক, রফি ও কিশোর কুমারের মতো তিনিও ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতে সমান জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তার দীর্ঘ সংগীত জীবনে তিনি সাড়ে ৩ হাজারেরও বেশি গান রয়েছে তার ঝুলিতে। তার এত গানের মধ্যে কিছু জনপ্রিয় গান তুলে ধরা হল।

 

 

'কফি হাউজের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই'-মান্না দে'র গাওয়া কালজয়ী গানগুলোর মধ্যে  এটি অন্যতম। যেটা প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন সকলেরই হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য গানগুলির মধ্যে  'আবার হবে তো দেখা', 'এই কূলে আমি আর ওই কূলে তুমি', 'তীর ভাঙা ঢেউ আর নীড় ভাঙা পাখি', 'যদি কাগজে লেখো নাম', 'সে আমার ছোট বোন' ইত্যাদি। তালিকা এতটাই দীর্ঘ যে লিখতে বসলে কলম যেন আর থামবে না। তবে শুধু বাংলাতেই নয়,  হিন্দিতেও তার অসংখ্য জনপ্রিয় গান রয়েছে। পাশাপাশি বাংলা ও হিন্দি সিনেমার গায়ক হিসেবেও অশেষ সুনাম অর্জন করেছিলেন।

আরও পড়ুন-'তোমার মুখের গন্ধে একটা চুমুও খেতে পারিনা', ঋষিকে কেন একথা বলেছিলেন ঋদ্ধিমা...


সংগীত ভুবনে তার অসামান্য অবদানের কথা স্বীকার করেছেন ভারত সরকারও।  ১৯৭১ সালে তাকে  'পদ্মশ্রী ', ২০০৫ সালে  'পদ্মবিভূষণ ' এবং ২০০৭ সালে  'দাদাসাহেব ফালকে সম্মাননা ' প্রদান করা হয়। এছাড়াও  ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাকে রাজ্যের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান  'বঙ্গবিভূষণ ' দেয়। এছাড়া একাধিক বার আজীবন সম্মাননা ও ফিল্মফেয়ারসহ অসংখ্য পুরস্কার রয়েছে কিংবদন্তি মান্না দে'র ঝুলিতে। তারপর এল সেই অন্ধকার দিন। ২০১৩ সালের ২৪ অক্টোবর মারা যান প্রখ্যাত সংগীত প্রতিভা মান্না দে।  জীবনদীপ নিভে গেছে,  কিন্তু মানুষের হৃদয়ে অমলিন  হয়ে রয়েছেন 'মান্না দে'।