বান্ধবীকে শারীরিক ও যৌন হেনস্থার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন ইনফ্লুয়েন্সার শমীক অধিকারী। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের জল্পনার মাঝেই শমীকের বাবা-মা স্বীকার করেছেন যে তাদের ছেলে প্রেমিকাকে আঘাত করেছিল।
বান্ধবীকে শারীরিক নির্যাতন ও যৌন হেনস্তার অভিযোগে বৃহস্পতিবার রাতেই গ্রেফতার হন ইনফ্লুয়েন্সার শমীক অধিকারী। আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এরই মাঝে শমীক অধিকারীর গ্রেফতারি নিয়ে রাজনৈতিক জটিলতা দেখা দিয়েছে। কারণ সদ্য শমীক বাটন নামে একটি ভিডিও বানিয়েছিল। যাতে মমতা সরকার বিরোধী প্রচার করেছে সে। আর সেই কারণেই শমীককে ফাঁসানো হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। এই জল্পনার মাঝে সামনে এল চমকপ্রদ তথ্য। অভিযুক্ত শমীকের বাবা-মা ছেলের দোষ স্বীকার করে নিলেন। অশান্তি চলাকালীন প্রেমিকাকে শারীরিক আঘাত করেছিলেন ইনফ্লুয়েন্সার শমীক অধিকারী।
নির্যাতিতার বয়ান
এদিকে বয়ানে নির্যাতিতা জানিয়েছেন, মারধর করে তাঁকে অজ্ঞান করে দেন নফ্লুয়েন্সার শমীক অধিকারী। অভিভাবকের উপস্থিতিতে ফ্ল্যাটে এমন পাশবিক কাণ্ড ঘটিয়েছেন অভিযুক্ত শমীক। নির্যাতিতার মন্তব্য, মারের চোটে আমার এক চোখ ফুলে যায়। আমার চোখের নিচে এখনও কালশিটে আছে। এরমধ্যে আমার চিৎকার শুনে ওর মা-বাবা আসে। তখন ও নিজে সুইসাইডের হুমকি দেয়। ওর বাবা-মা ভয় পায়। আমাকে মারছে দেখেও ওরা আমাকে একা ফেলে চলে যায়। আমি ওর মাকে ইশারা করে বলতে থাকি আন্টি কাউকে একটা ফোন করো। কারণ আমার ফোন আমার কাছে ছিল না। কিন্তু, ওর মা আমার কথা না শুনেই আমাকে ছেড়ে চলে যায়। ওরা নিজেরাই শমীকের এই রূপ দেখে ভয় পাচ্ছিল।
শমীকের মা-বাবার বক্তব্য
এই ঘটনার পর শমীকের মা বলে, আমি কিছু বুঝতেই পারিনি ওরা কী বলছে। আমরা ভেবেছি ওদের ব্যক্তিগত বিষয়, তাই আমরা মাঝখানে যাইনি। আমাদের ঘর শিফট হচ্ছে বলে আমরাও নানান কাজে ব্যস্ত। এবার পরিস্থিতি এতটা জটিল হয়ে যায় যে ওকে একটা চড় মারে শমীক। শমীকের বাবা বলে, ওদের চেঁচামেচি শুনে আমি তখন দৌড়ে যাই। হয়তো হাত ধরে টানাটানিতে কালশিটে পড়ে যায়।
প্রসঙ্গত, শমীক ননসেন নামে পরিচিত। বৃহস্পতিবার তাকে গ্রেফতার করা হয়। একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে শমীকের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৭ (২), ৭, ৪ এবং ৩৫১ (২) ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। নির্যাতিতার দাবি, শমীক তার পূর্ব পরিচিত। ঘনিষ্ঠ পরিচয় ছিল। তাকে সে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করে। যৌন নির্যাতনও চালানো হয় বলে অভিযোগ। দীর্ঘ সময় ধরে ওই নির্যাতন চলেছিল মেয়েটির ওপর। পুলিশকে নির্যাতিতা জানিয়েছে, বেহালার একটি আবাসনে তাঁকে আটকে রেখেছিল শমীক। প্রায় ১২ ঘন্টা তাঁর ওপর অত্যাচাক করা হয়। মারধরের পাশাপাশি যৌন নির্যাতনও চলে। তাকে ভয় দেখানো হয়, হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। নির্যাতিতা তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষা হয়েছে। তাঁর শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে।


