টলিউড অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ, বিতর্কের আর এক নাম। কোন না কোনও ইস্যুতে সর্বদাই যেন কন্ট্রোভার্সিতে থাকতে পছন্দ করেন সায়নী। এমনকী সোশ্যাল মিডিয়াতেও একাধিক তর্জায় উঠে এসেছে  সায়নীর নাম। ২০২১-এর ভোটযুদ্ধে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন টলিপাড়ার এই নায়িকা। তবে শাসক দলের এই তারকা আসানসোল দক্ষিণের বিজেপ্রি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের কাছে ভোটে হেরে গিয়েছেন। তবে ভোটে হারার পরও সায়নীকে যুব তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি পদে বসিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন-'আমি চাই না ও আসুক' গর্ভাবস্থার জল্পনার মধ্যে এ কী বললেন 'Pregnant' নুসরত, জল্পনা নেটদুনিয়ায়...

ভোটের হাটার পর এই গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়ে রীতিমতো মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে সায়নীর।  এই গুরুদায়িত্ব যেন সায়নীকে ইচ্ছাশক্তিকে আরও কয়েকগুণ বেশি জাগ্রত করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে পাওয়া দায়িত্ব নিয়ে সায়নী বলেছেন,'তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। নিজের প্রতি  আস্থা রয়েছে আমার। কোনও ফিল্মি ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়াই যেমন অভিনয়ে এসেছিলাম ঠিক তেমনই এখানেই সব শিখে যাব'।

 

 

সায়নীর মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি বুঝেছেন, যুব সংগঠন সায়নীকে দেখে আকৃষ্ট হবে এবং কমবয়সী ছেলেমেয়েরাও রাজনীতিতে আসবে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এইভাবেই দল সাজাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। গুরুদায়িত্ব পেতে না পেতেই একের পর এক বোমা ফাটাচ্ছেন সায়নী। ইয়াস বিধ্বস্ত এলাকা দিয়েই নিজের কাজের শুরু করতে চান সায়নী। এছাড়াও অভিনেত্রী নতুন দায়িত্ব পেয়েই জানিয়েছেন, আগামী দিনে ১২০ শতাংশ  কাজ করবেন তিনি। 

 

 

তবে শুধু সায়নী নয়,  রাজ, সায়ন্তিকা, লাভলি সকলেই পার্টির বিভিন্ন পদ পেয়েছেন। এবং সেই প্রসঙ্গেও সায়নী জানিয়েছেন,এবার থেকে চাইলেই কিন্তু রাজনীতিতে আসা যাবে না, যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে তবেই রাজনীতিতে আসতে হবে। সায়নীর এই মন্তব্য নিয়েই জোর শোরগোল শুরু হয়েছে অন্তর্জালে। নেটিজেনরা একাধিক মন্তব্য করেছেন। আসলে বিতর্ক তার পিছু ছাড়ে না। এর আগেও ২০১৫ সালে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে যায় সায়নীর। তখনই একটি পোস্ট করা হয়েছিল। পরে নজরে আসা মাত্রই তিনি সেই পোস্ট ডিলিট করে দেন। টুইটে দেখা গিয়েছে, এইডস-এর বিজ্ঞাপনের জন্য ম্যাসকট বুলাদি। এবং সেখানে শিবলিঙ্গের মাথায় কন্ডোম পরাচ্ছেন বুলা দি। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা 'বুলাদির শিবরাত্রি। এর থেকে বেশি কার্যকরী হতে পারে না ঈশ্বর।' মুহূর্তের মধ্যে এই টুইট নিয়ে শোরগোল পরে গিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। এই টুইটটি হিন্দু ধর্মের পবিত্রতা নষ্ট করেছে বলেই অভিযোগ করেছিলেন বিজেপি নেতা তথাগত রায়। তারপরই থেকেই শুরু হয় টুইট যুদ্ধ।

বামপন্থী মনোভাবাপন্ন  অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ। বামপন্থী,ঠোঁটকাটা বলে যার পরিচিতি রয়েছে টলিপাড়ায় এমনকী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যিনি পথেও নেমেছেন একসময়ে, তার তৃণমূলে যোগদানের পর থেকেই সরকগরম সোশ্যাল মিডিয়া। কিছুদিন আগেও টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন অভিনেত্রী সায়নী। এবং সেখানেও বাঙালিয়ানা নিয়ে মন্তব্য করে বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েছিলেন সায়নী। ভোটপ্রচারে বেরিয়েও একাধিক বিতর্কে জড়িয়েছে তার নাম। একুশের হাইভোল্টেজ নির্বাচনে জামুড়িয়ার কোলিয়াড়ির ভিতরে মাথায় হেলমেট পরে সোজা ঢুকে পড়ে  বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন সায়নী। নিজের বিধানসভা এলাকা ছেড়ে জামুয়ারির পিউর সিয়ারশোল কোলিয়াড়িতে গিয়ে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেই ক্ষান্ত হয়নি অভিনেত্রী, মাথায় হেলমেট পরে সোজা ঢুকে পড়েন কোলিয়াড়িতে। কয়লা খনির ভিতরে শাড়ি পরে যাওয়ার কোনও নিয়ম নেই। নিয়ম ভাঙার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে। এখানেই শেষ নয়, কখনও শাড়ি পড়ে দৌড়াচ্ছেন, কখনও আবার মালায় ঢেকে গেছে তার মুখ। সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক মিমে ভরে গিয়েছিল সায়নীর ছবি। যদিও সেগুলি হাসিমুখে মেনেই নিজের কাজ চালিয়ে গেছিলেন শাসক তলের এই প্রার্থী তারকা।