সম্প্রতি করোনা মোকাবিলায় ত্রস্ত হয়ে উঠেছে গোটা দেশ। লকডাউনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে শ্যুটিং বন্ধ। আবার বহু ছবির শুটিংও বন্ধ হয়ে গেছে। আর কতদিনই বা এই অবস্থা চলবে  তা কেউই জানেনা। ইতিমধ্যেই লকডাউনের জেরে ছবি মুক্তির বিষয়টি অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে। আর এই মহামারি সঙ্কটে ব্যবসা বাড়িয়েছে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম। ইতিমধ্যেই ডিজিটালের দিকে ঝুঁকেছে বলিউড। তবে টলিউড কি হাঁটবে সেই পথে।

আরও পড়ুন-প্রতিবাদের বার্তাতেই ছবির ধারাবদল, 'পদাতিক' মৃণাল সেনকে জন্মদিনে সশ্রদ্ধ প্রণাম প্রসেনজিতের...

লকডাউনেরও মধ্যে সিনেমাপ্রেমীদের জন্য সুখবর। পরিচালক সুজিত সরকারের বহুল চর্চিত ছবি 'গুলাবো সিতাবো' এবার ওয়েবে মুক্তি পেতে চলেছে। সূত্র থেকে জানা গেছে, আগামী জুন মাসের ১২ তারিখ অ্যামাজন প্রাইমে ছবিটি দেখা যাবে।সম্প্রতি নিজের সোশ্যালে ছবির বেশ কিছু লুক শেয়ার করেছেন বিগ-বি। যা মুহূর্তের মধ্যে নেটিজেনদের নজর কেড়েছে।  ছবির ক্যাপশনে  অমিতাভ লিখেছেন, ' ১৯৬৯ সাল থেকে ফিল্মি কেরিয়ার শুরু করেছিলেন অমিতাভ। ৫১ বছর ধরে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে একের পর এক চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছে কিন্তু এই চ্যালেঞ্জ প্রথমবার নিচ্ছেন অভিনেতা। বিষয়টি ভেবেই দারুণ লাগছে ডিজিটালে মুক্তি পাচ্ছে গুলাবো সিতাবো।  আগামী ১২ জুন অ্যামাজন প্রাইম-এ ছবিটি মুক্তি পাবে।' এই প্রথমবার হলের বদলে ডিজিটালে মুক্তি পাবে তার ছবি।

আরও পড়ুন-পপ গায়িকা অনুষ্কার কন্ঠে 'একলা চলো রে', লকডাউনে শুনে নিন রবি ঠাকুরের গান...

আগামী দিনে ইন্ডাস্ট্রির পরিস্থিতি কেমন হবে তা এখনও অবধি স্পষ্ট নয়। বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই টলিউড এবার ঝুঁকতে চলেছে ডিজিটালে। সূত্র থেকে জানা গেছে, নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন, জি ফাইভ, ডিজনি প্লাস হটস্টারের থেকে এসভিএফ, সুরিন্দর ফিল্মস, রাজ চক্রবর্তী, শিবপ্রসাদ চক্রবর্তীর কাছে প্রস্তাব গিয়েছে। স্ট্রিমিং পোর্টাল হলে বাংলা ছবির এক্সক্লুসিভ চুক্তি হয়, এমনকী ১ কোটি পর্যন্তও দর ওঠে, আর যদি স্যাটেলাইট রাইটস হয় তাহলে তার দর কমে যায়।  টলিউড প্রযোজন সংস্থা এখন এই দরাদরিতেই ব্যস্ত।

সূত্র থেকে জানা গেছে,  উইন্ডোজ প্রোডাকশনের 'লক্ষ্মী ছেলে', শিবপ্রসাদ-নন্দিতার 'বেলাশুরু' মুক্তির জন্য তৈরি।  রাজ চক্রবর্তী 'ধর্মযুদ্ধ' ওটিটি রিলিজের প্রস্তাব থাকলে পরিচালকের মত হল রিলিজের পক্ষেই। সুরিন্দর ফিল্মস এবং ভেঙ্কটেশ ফিল্মস এর পক্ষ থেকে জানা গেছে, কয়েক মাসে তাদের স্ট্রিমিং পোর্টাল হইচই চারগুণ সাবস্ক্রিপশন বাড়িয়েছে। এছাড়াও নতুন কনটেন্ট নিয়েও চিন্তা ভাবনা চলছে তাদের। তবে এখনও পর্যন্ত ওটিটি রিলিজ নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছয়নি তারা। সুরিন্দর ফিল্মসের নিজস্ব ওটিটি আড্ডাটাইমসের ভিউয়ারশিপ ততটাও নয় যে, সেখানে ছবি রিলিজ় করে লাভ হবে। তবে সংস্থার কাছে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের 'ফেলুদা ফেরত' সিরিজ়টি আছে, যা পোস্ট প্রোডাকশনের জন্য আটকে। টলিপাড়ার সুপারস্টার দেবও জিতের নিজস্ব প্রোডাকশনের ছবিও রয়েছে।  তবে দেবের মতে, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ছবি রিলিজ করতে আপত্তি নেই। যদি ঠিকঠাক দাম পাওয়া যায়। কিন্তুপ্রযোজক অতনু রায়চৌধুরীর মতে ওটিটি রিলিজ হলে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি এখানে বন্ধ বয়ে যাবে। ওটিটি প্ল্যাটফর্মে হিন্দি ছবির ঝোঁক বেশি। এই পরিস্থিতিতে বাংলার হল মালিকরা দিশেহারা হয়েছেন। বলির সঙ্গে টলির তুলনা করে কোনও লাভ নেই। যত দিন যাচ্ছে বাংলায় সিঙ্গল স্ক্রিনের সংখ্যা দিনে দিনে তলানিতে ঠেকছে।