বার্ধক্য, প্রতিবন্ধকতা, অভাব। এই তিনটি জিনিস গ্রাস করছিল বেলঘড়িয়ার অমল ভৌমিককে। অভাব যে মেটাইতেই হবে, নয়তো একবেলার খাবারও জুটবে না। তাতের প্রাণ যায় যাক। করোনার প্রকোপকে উপেক্ষা করেই বেরিয়ে পড়েছেন বয়স্ক মাস্ক বিক্রেতা। হাতে ক্রাচ নিয়ে তাতেই ঝুলিয়েছেন কয়েকটা মাস্ক। আর বেরিয়ে পড়েছে দুটো পয়সা রোজগারে। তাঁর সাহায্যে এগিয়ে এলেন দেব। হ্যাঁ সেই অভিনেতা দেব, যাঁর কথা বলা, অভিনয়, ছবি নিয়ে একের পর এক ট্রোলে ভরে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে বিন্দুমাত্র দেরি করলেন না তিনি। 

আরও পড়ুনঃগাড়িতে ধাক্কা মেরে চেপে দেওয়া থেকে অশালীন ছোঁয়া, ভক্তদের হাতে বলি-নায়িকাদের হেনস্তার ছবি ভাইরাল

সোমনাথ সরকার নামক এক ব্যক্তি অফিস থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় তাঁর এই অবস্থা দেখে ছবি তুলে তাঁর ফোন নম্বর এবং পরিচয় সমেত ফেসবুকে সাহায্যের চাইতে পোস্ট করেন। পোস্টে লেখা, "ভদ্রলোকের নাম অমল ভৌমিক। বাড়ি বেলঘড়িয়ার প্রফুল্লনগর রিক্রিয়েশন ক্লাবের সামনে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে এই শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সাথে লড়াই করে উনি গোটা বেলঘড়িয়া জুড়ে হেঁটে হেঁটে মাস্ক বিক্রি করেন। নাইট ডিউটি শেষে বাড়ি ফেরার পথে সকাল বেলায় হঠাৎ করে ওনার সাথে রাস্তায় দেখা, সাধ্যমত চেষ্টা করলাম যেটুকু করা যায়। ওনার আক্ষেপ শাষক দলের অনেক নেতা, কাউন্সিলের কাছে ঘুড়েও ওনার সামান্য তম সুরাহাও কিছু হয়নি, ভদ্রলোক বার্ধক্যভাতাও পাননা,সবাই দেখছি দেখবো বলে এড়িয়ে যায়। ভদ্রলোকের স্ত্রীর নাম্বার ৮২৮২৮০৩৫৮১ যদি কিছু করা যায় ওনার জন্যে। দয়া করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন।" 

আরও পড়ুনঃ'প্রত্যেক পরিযায়ী শ্রমিককে বাড়ি না ফিরিয়ে আমি বসব না', সোনুর এই অভিজ্ঞতা আসছে বইয়ের রূপে

পোস্টটি নজরে পড়তেই সঙ্গে সঙ্গে টুইটারে শেয়ার করলেন দেব। লিখলেন সাহায্য করতে ইচ্ছুক। সোমনাথকে ধন্যবাদও জানালেন। নেপাল থেকে প্রায় তিনশো জন পরিযায়ী শ্রমিক, রাশিয়া থেকে ৭৭ জন পড়ুয়াকে ফেরানো সবই করেছেন নিজের প্রচেষ্টায়। অমল ভৌমিকের জন্যও এগিয়ে এলেন তিনি। তাঁকে নিয়ে ট্রোল করার আগে একটু ভাববেন আপনার পক্ষেও এভাবে সাহায্যের হাত বাড়ানো সম্ভব কিনা। যদিও ট্রোলিংয়ে কোনও অসুবিধা নেই অভিনেতার। বরং বেশ স্পোর্টিংলি নেন। সম্প্রতি নিজের কবিতা নিয়ে ট্রোলটিকে ভালভাবেই নিয়েছেন। নেগেটিভিটিকে পজিটিভিটি বানিয়ে দিতে বেশি সময় লাগে না দীপক অধিকারীর।