ফের ইন্দ্রপতন বাংলা সঙ্গীত জগতে।  আবারও এক মৃত্যুসংবাদে স্তব্ধ গোটা বিনোজন জগত । মাত্র ৬৫ বছর বছরেই  সকলকে আলবিদা জানিয়ে চলে গেলেন  বিখ্যাত বাংলা ব্যান্ড মহীনের ঘোড়াগুলি-র অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র রঞ্জন ঘোষল।। সত্যিই যেন মরক লেগেছে এই বছরটাতে । আজ ভোরবেলাতেই  বেঙ্গালুরুতে নিজের বাড়িতেই মারা যান রঞ্জন ঘোষাল। ঘুমের মধ্যেই চিরঘুমের দেশে পাড়ি দিলেন মহীনের অন্যতম ঘোড়া রঞ্জন ঘোষাল। তার এই অকাল মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ইন্ডাস্ট্রিতে।

থেমে গেলে মহীনের ঘোড়াগুলির এক অন্যতম ঘোড়ার যাত্রা। বর্ধমানের মেমারিতে জন্ম রঞ্জন ঘোষালের। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে স্নাতক উত্তীর্ণ হতেই সাংস্কৃতিক জগতে জড়িয়ে পড়েন রঞ্জন। গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম ব্যান্ড সপ্তর্ষিতে অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। সালটা ১৯৭৫। সদ্যই জনপ্রিয় বাংলা ব্যান্ড মহীনের ঘোড়াগুলি যখন প্রতিষ্ঠা হচ্ছে, সেই শুরুর দিন থেকেই উপস্থাপক হিসেবে ছিলেন রঞ্জন।  মহীনের প্রথম অ্যালবাম, সংবিগ্ন পাখিকূল এর ভেসে আসে কলকাতা রঞ্জনেরই লেখা। শুধু তাই নয়, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা, আর্টওয়ার্ক গুলি রেকর্ড রাখা, অ্যালবামের কভার ডিজাইন এবং প্রচারের সমস্ত দায়িত্বেই ছিলেন তিনি।


তবে শুধু গান নয়। তার পাশাপাশি ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় একাধিক কবিতা, গল্প এবং নাটক ও চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লিখেছেন রঞ্জন ঘোষাল । বেঙ্গালুরুতে দীর্ঘদিন থিয়েটারে  নাট্যকর্মী হিসেবে কাজও করেছেন তিনি।স্ত্রী সঙ্গীতা ঘোষালের সঙ্গে যৌথভাবে গিরিশ কর্নাডের হয়বদন, অরুণ মুখোপাধ্যায়ের  মারীচ দ্য লেজেন্ড এর মতো নাটক মঞ্চস্থ করেছেন। এবং বিজ্ঞাপনী সংস্থাতেও কাজ করতেন রঞ্জন। বর্তমানে স্ত্রী ও দুই ছেলের সঙ্গে বেঙ্গালুরুতে থাকছিলেন রঞ্জন। গত বছর অর্থাৎ ২০১৯ সালের অক্টোবরে মিটু অভিযোগও উঠেছিল রঞ্জন ঘোষাল এর বিরুদ্ধে। একাধিক মহিলাকে যৌন হেনস্থা করার অভিযোগও উঠেছিল তার বিরুদ্ধে।