তাঁর পরিবার কোনওদিন ভাবেনি এই দিনটি দেখতে হবে। তাঁরা সকলে নুসরত জাহানকে নিজেদের মেয়ের মতো ভালবাসত। দুহাত ভরে দিয়েছিল তাঁকে। আর তিনি নিজেও বরাবর ছিলেন বিশ্বস্ত এবং দায়িত্বশীল স্বামী। বারবার আইনি বিয়েটা করে নিতে চাইলেও নুসরত এড়িয়ে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার, ৮ দফা যুক্তিতে নুসরতের অভিযোগের জবাব দিলেন নিখিল জৈন। কী বললেন তিনি -

'ডেস্টিনেশন ম্যারেজ'

নিখিল বলেছেন, তিনি ভালবেসেই নুসরতকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা চলি অভিনেত্রী সানন্দে গ্রহণ করেছিলেন। তারপর তুরস্কের বোদরুমে তাঁরা 'ডেস্টিনেশন ম্যারেজ' (Destination Marriage) করেছিলেন। তারপর কলকাতায় হয়েছিল রিসেপশন।

বিশ্বস্ত ও দায়িত্বশীল স্বামী

নিখিল বলেছেন, তাঁরা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়েই একসঙ্গে থাকতেন এবং সমাজেও তাঁরা সেভাবেই পরিচিত ছিলেন। বিশ্বস্ত ও দায়িত্বশীল স্বামী ছিলেন তিনি। নিকটজন বন্ধুবান্ধব সকলেই জানেন, নিখিল নুসরতের জন্য কী করেছেন। কিন্তু, অল্প সময়ের মধ্যেই নিখিলের সঙ্গে বিবাহিত জীবন সম্পর্কে নুসরেতর মনোভাব বদলে গিয়েছিল।

কারণ তিনিই ভালো জানেন

২০২০ সালের অগাস্ট মাসে এক ফিল্মের শুটিং-এর সময় থেকেই তাঁর প্রতি তাঁর স্ত্রীর মনোভাব বদলে যেতে শুরু করেছিল, এমনটাই দাবি করেছেন নিখিল। আর তার কারণ নুসরতই ভাল জানেন বলেছেন তাঁর স্বামী।

এড়িয়ে গিয়েছিলেন নুসরত

নিখিলের দাবি একসঙ্গে থাকার সময় বহুবার তিনি চেয়েছিলেন তাঁদের বিয়ের নিবন্ধিকরণ করাতে, কিন্তু, প্রতিবারই নুসরত এড়িয়ে গিয়েছিলেন।

আর কখনও একসঙ্গে থাকিনি

২০২০ সালের নভেম্বর মাসে নিখিলের বাড়ি ছেড়ে মালপত্তর নিয়ে মুসরত তাঁর বালিগঞ্জের ফ্ল্যাটে চলে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন নিখিল। আর বলেছেন, তারপর থেকে তাঁরা আর কখনও একসঙ্গে থাকেননি। এর কয়েকদিন পর নুসরতের যাবতীয় দরকারি নথিপত্রও পাঠিয়ে দিয়েছিলেন নিখিল।

মনে হয়েছিল ঠকে গিয়েছি

এরপর নিখিল বলেছেন, সংবাদমাধ্যমে নুসরতের অন্য সম্পর্কের কথা শুনে মনে আঘাত পেয়েছিলেন তিনি, মনে হয়েছিল ঠকে গিয়েছেন। আর তাই ২০২১ সালের ৮ মার্চ তিনি নুসরতের বিরুদ্ধে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা দায়ের করেন।  

ওর সাম্প্রতিক মন্তব্য বাধ্য করেছে

নিখিল আরও বলেছেন, বিষয়টি বিচারাধীন বলে তিনি এই বিষয়ে সব খুলে বলতে পারবেন না। কিন্তু নুসরতের সাম্প্রতিক মন্তব্য তাঁরে কিছু কথা জানাতে বাধ্য করছে।

ওকে দুহাত ভরে দিয়েছিল আমার পরিবার

নিখিলের সবচচেয়ে বড় অভিযোগ, নুসরত যদি তাঁর পারিবারিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোনও টাকা দিয়ে থাকেন, তা আসলে এক ঋণ পরিশোধের টাকা। বিয়ের পরপরই যা নিখিল, নুসরতকে দিয়েছিলেন হোমলোনের মোটা ইন্টারেস্টের হাত থেকে বাঁচাতে। নুসরত বলেছিলেন হাতে টাকা আসলে কয়েক কিস্তিতে অল্প সময়ের মধ্য়েই তা মিটিয়ে দেবেন, কিন্তু, এখনও বহু টাকা ধার রয়েছে। নিখিল আক্ষেপ করে বলেছেন, তাঁর পরিবার ভাবেনি এই দিন দেখতে হবে, তারা নিজেদের মেয়ে ভেবে নুসরতকে দুহাত ভরে শুধু দিয়েছিল।