চলতি বছর ঈদেই মুক্তি পেতে চলেছে দেবের নতুন ছবি কিডন্যাপ। তারই পোস্টার ও ট্রিজার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসে দেব প্রকাশ্যে জানান, ছবির কাজ প্রায় শেষ। এবার শুধু মুক্তির অপেক্ষায় দেব-রুক্মিনী জুটির এই চতুর্থ ছবি।

চলচ্চিত্র জগতে এখন দুই ধারার ছবি সবচেয়ে লক্ষ্য করা য়াচ্ছে, এক বায়োপিক বা আত্মজীবনিমূলক বা সমাজ সচেতনতার পটভূমির গল্প। কিডন্যাপ এই দ্বিতীয় ধারার ছবি। কিডন্যাপ-এর বিষয়বস্তু সম্বন্ধে ছবির চিত্রনাট্যকার এন.কে শলীল জানান, আমার লেখা একটি গল্পের প্লট ও খবরের কাগজে পড়া বোলপুরের একটি সত্যঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি ছবির গল্প। যার মূল উদ্দেশ্যই হল, যে অন্ধকার জগতটা আলোকিত হয়ে আছে সকলের কাছে, সেই বাস্তবটাই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা সমাজের সামনে। কিডন্যাপ কোনও সত্যঘটনা অবলম্বনে তৈরি নয়, তবে ছবির প্রতিটি চরিত্রই সত্যঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ঠ।

রাজা চন্দ পরিচালিত কিডন্যাপই প্রথম ছবি যেখানে দেবের পাশে দর্শক পাবেন অভিনেতা চন্দন সেনকে। ছবির গল্প ও নিজের ভূমিকা নিয়ে তার মত, আমি একটা সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের কর্তা, যার মেয়ে কিডন্যাপ হওয়ার পর তিনি দিশাহারা। ঘটনা চক্রে পরিচয় হয় এমন এক ব্যাক্তির সঙ্গে (ছবির নায়ক-দেব) যে নিজেই খুঁজে বেড়াচ্ছেন তার হারিয়া যাওয়া বান্ধবীকে (রুক্মিনী)।

তবে ছবির নায়ক দেব ভিষণভাবে আশাবাদী কিডন্যাপ নিয়ে। জানান, চিত্রনাট্যের চাহিদা অনুসারে মোট তিনটি দেশে শ্যুটিং করা হয়েছে। রিয়েল লোকেশন খুঁজে বার করা হয়েছে, যাতে ছবির পটভূমি অনুযায়ী গল্পের তাৎপর্য বজায় থাকে।

কিডন্যাপ-এর ভাবনাই কেন, দেব-র উত্তরে উঠে এলো, শহরের বিভিন্ন রাস্তার দেওয়ালে চারকোল দিয়ে আঁকা একটি মেয়ের ছবির নিচে লেখা মিসিং গার্ল। কৌতুহল বসত খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম এটি একটি এনজিও, যারা গার্ল ট্রাফিকিং নিয়ে কাজ করে। অতএব বুঝতেই পারছেন হাজারও সত্যাঘটনার কোলাজ এই কিডন্যাপ।

এই বছরে ক্যালেন্ডারের পাতায় ঈদ ও জামাইষষ্ঠী একইসঙ্গে। তাই দর্শকদের মনোরঞ্জনে এই সময়ই কিডন্যাপ আসছে বড় পর্দায়। ঈদের মরসুমে বলিউড তিন খান-এর চ্যালেঞ্জকে গ্রহণ করেই দেব বলেন, ভালো ছবি মানুষ দেখে। দর্শকের স্বাদ বদলাচ্ছে। তাদের প্রেক্ষাগৃহে আনতে হবে, আর তার জন্যই বাস্তববাদী বা জীবনমুখী ছবির প্রয়োজন। কিডন্যাপ তেমনই এক ছবি যা দর্শকের মধ্যে সচেতনা তৈরি করতে পারবে।