কেটে গিয়েছে ৪৮ ঘন্টা। জটিলতা কিছুতেই কাটছে না, শারীরিক পরিস্থিতি একইরকম রয়েছে ফেলুদার।  তবে এখনও সঙ্কটজনক  অবস্থায় রয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, দুটো কিডনিই আর কাজ করছে না। এবং স্নায়ুও কাজ করছে না। গতকাল থেকেই রেনাল রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি শুরু হয়েছে। কিডনি কাজ করা বন্ধ করে দিলেই এই থেরাপি করা হয়।তবে হাসপাতাল সূত্র থেকে জানা গেছে,  কিডনি ছাড়াও আর তেমন কোনও  সমস্যা হয়নি। দুটো কিডনিই যেহেতু  কাজ করছে না তাই রোনাল ফাংশানের উন্নতির জন্য ডায়ালিসিসের করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন চিকিৎসকেরা। আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও এখনও সঙ্কট মুক্ত নন অভিনেতা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শারীরিক  পরিস্থিতির কোনও উন্নতি হয়নি আবার অবনতিও হয়নি। হিমোগ্লোবিন সহ আর সবকিছুই স্বাভাবিক রয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় ইউরিনও হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে রোনাল ফাংশানের উন্নতি প্রয়োজন রয়েছে ভীষণভাবে। এবং সেই কথা ভেবেই ২-৩ এপিসোডের ডায়ালিসিসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এতে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রাও কমবে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্ষীয়ান অভিনেতার অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৪০ থেকে ৫০ শতাংশের মধ্যেই রয়েছে। এবং শরীরের ক্ষতিকারক ব্যাকটিরিয়াকেও ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা গিয়েছে। সেই অনুযায়ী ওষুধ চলছে।

সোমবার রাত থেকেই ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়েছিল অভিনেতাকে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, শরীরে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মাত্রার ফের তারতম্য ঘটেছে।  মস্তিষ্কের স্নায়ু ও প্রায় অচল। রক্তে প্লেটলেটের পরিমাণও একই রয়েছে। আগের থেকে স্থিতিশীল হলেও সঙ্কট এখনও কাটেনি। একটানা ২২ দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অভিনেতা। তার শারীরিক অবস্থার এই খবরে সকলের তার সুস্থতার কামনা করছেন।

অভিনেতার পরিবারের সঙ্গে আলোচনার পরই সৌমিত্রকে এন্ডোট্র্যাকিয়াল ইনটিউবেশন তথা ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ,ডিহাইড্রেশন, ওষুধের প্রতিক্রিয়ায় ইউরিয়াতে ক্রিয়েটিনিন-এর মাত্রা বেড়েছে। হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে,সবরকম ভাবে তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে এই প্রচেষ্টা খুবই কঠিন। একের পর এক নয়া সমস্যা দানা বাঁধছে।  প্রতি মুহূর্তেই সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের শারীরিক পরিস্থিতি মনিটার করছেন চিকিৎসকেরা। তার সুস্থ হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে সেই কো-মর্বিডিটি এবং বয়স।