অনিক দত্ত পরিচালিত ছবি ভবিষ্যতের ভুত রাজ্য সরকারের কবলে পরে ক্ষণিক স্বস্তি অনুভব করলেও পরিশেষে রেহাই দিল আদালত। আর রাজ্য রকারের কপালে জুটল জরিমানা।

চলতি বছরে ১৫ই ফ্রেরুয়ারী মুক্তি পায় অনীক দত্ত পরিচালিত ভবিষ্যতের ভূত। প্রক্ষাগৃহে যার ঠাঁই হয়েছিল মাত্র একদিন। তারপরই ঘটে বিপত্তি। তড়িঘড়ি তা বন্ধ করার তাগিদে উদ্যোগী হন রাজ্য সরকার। যেমন কথা তেমন কাজ। ফলে পরের দিন থেকেই প্রেক্ষাগৃহে দেখা মিলল না ভবিষ্যতের ভূতের।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

জল্পনার সূত্রপাত ছবির বিষয়বস্তুকে ঘিরে। বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৈরি হাস্য কৌতুক সংলাপই নাকি বাধ সাজে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের পক্ষে। এ সিদ্ধান্তে সমাজের নানান স্তরে চরমতম নিন্দার শিকার হয় রাজ্য সরকার। সমালোচনার ঝড় ওঠে দিকে দিকে। টলি পাড়ার অভিনেতা-অভিনেত্রীরা রাস্তায় নেমে এর তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন। সঙ্গ নিয়েছিল শহরের বিভিন্ন বিশ্ব বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও।

প্রত্যেকের কপালে ভাঁজ লক্ষ করে মুখে কুলুপ আটেন মুখ্যমন্ত্রী। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন ওঠে সংবিধানিক অধিকারকে ঘিরে। প্রশ্ন ওঠে সেন্সর বোর্ডের ভূমিকাকে ঘিরে। তবে এবার এসমস্যা কেবলই সারাধনের আলোচ্য বিষয় নয়, দেশের সর্বোচ্চ আদালত প্রযোজক ও পরিচালকের পক্ষে রায় দিয়ে জরিমানার দাবী জানান রাজ্য সরকারের উদ্দেশ্যে। ২০ লক্ষ টাকা, ক্ষতিপূরণ বাবদ এই মোটা অঙ্কের টাকা সরকারকে দিতে হবে ছবির কর্ণধারদের, সঙ্গে তার কিছুটা অংশ পাবেন প্রেক্ষাগৃহের মালিকরাও। বাক-স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার কোনও অধিকার নেই সরকারের। তাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় উচ্চ আদালতের পক্ষ থেকে।

বাংলার বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থার নানান দিক কৌতুকের আকারে ছবিতে অংশ নেওয়ায় সমস্যায় পরেন রাজনৈতিক মহল। অভিনেতা কৌশিক সেন ছবির স্বপক্ষে স্বরব হয়ে বলেছিলেন, এছবিতে সব রাজনৈতিক দলেরই উপমা মেলে। কিন্তু কোথাও তাদের নামের উল্লেখ নেই। তবে রাজ্য সরকারের সঠিক সমস্যাটা কোথায় তা স্পষ্ট নয় আমাদের কাছে। তবে বর্তমানে সে বিতর্ক এড়িয়ে মহাসমারহে প্রেক্ষাগৃহে বিরাজ করছে ভবিষ্যতের ভুত।