বর্ষীয়ান টলিউড অভিনেতা নিমু ভৌমিকের জীবনাবসান মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর বার্ধক্যজনিত রোগেই মৃত্যু অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতিতেও তাঁকে দেখা গিয়েছে 

একই সঙ্গে তিনি ছিলেন কৌতুকাভিনেতা, আবার কখনও করেছেন খলনায়কের অভিনয়। যে কোনও ভূমিকাতেই ছিল সাবলীল অভিনয় করতে পারতেন। আবার রাজনীতির ময়দানেও তাঁকে দেখা গিয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে জীবনাবসান ঘটল টলিউডের অন্যতম বর্ণময় চরিত্র বর্ষীয়ান অভিনেতা নিমু ভৌমিকের। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বার্ধক্যজনিত নানান অসুখে ভুগছিলেন। গত ৪ জুলাই অসুস্থতার জন্য তাঁকে হাসপাতালেও ভর্তি করতে হয়েছিল। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে নিয়ে আসা হয় গড়িয়ার কানুনগো পার্কের বাড়িতে। সেখানেই এদিন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

১৯৩৫ সালের ১৪ নভেম্বর অবিভক্ত বাংলার দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন নিমু ভৌমিক। অল্প বয়স থেকেই অভিনয়ের ভুত চেপেছিল তাঁ মাথায়। স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে কলেজের পড়াশোনার জন্য এসেছিলেন কলকাতায়। আর সেই সময় থেকেই একটি নাট্য গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন। তারপর আর ফিরে তাকাননি। অভিনয় গুণেই পাকাপাকি জায়গা করে নিয়েছিলেন টলিউডে।

'স্ত্রীর পত্র', 'গণদেবতা', 'দাদার কীর্তি', 'অপরাজিতা', 'বেয়াদব', 'নদীর পাড়ে আমার বাড়ি', ‘ছোট বউ’, ‘সাহেব’, ‘নবাব’, 'মঙ্গলদীপ'-এর মতো ৬০টিরও বেশি বাংলা ছবিতে অভিনয় করেছেন নিমু ভৌমিক।

একই সঙ্গে তাঁ পা পড়েছিল রাজনীতির আঙিনাতেও। জীবনের বেশিরভাগ সময় বামপন্থীদের সমর্থন করলেও সক্রিয় রাজনীতিতে এসেছিলেন বিজেপির পতাকা ধরে। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তিনি গেরুয়া শিবিরের হয়ে রায়গঞ্জ থেকে ভোটে লড়েছিলেন। তবে জিততে পারেননি। সিপিএম প্রার্থী মহম্মদ সেলিমের বিরুদ্ধে পরাজিত হন।

স্বাভাবিকভাবেই এই বর্ষীয়ান অভিনেতার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে টলি পাড়ায়। স্বভাবগুণে সকলেরই খুব কাছের লোক ছিলেন নিমু। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এদিন রাতেই প্রয়াত অভিনেতার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।