কেটে গিয়েছে প্রায় এক মাস। বলিউডকে বিদায় জানিয়ে চলে গেছেন বলি অভিনেতা ইরফান খান। দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলি অভিনেতা ইরফান খান। আজও তার মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না বি-টাউনের তাবড় তাবড় অভিনেতা থেকে অভিনেত্রীরা। কারোর বিপদে বরাবরই ঝাঁপিয়ে পড়তেন অভিনেতা। দুঃস্থ থেকে অসহায় মানুষ সর্বদাই সকলের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে গেছেন অভিনেতা। তবে সাহায্য করা মানেই শিরোনামে আসে তেমনটা মনে করতেন না অভিনেতা। বরং প্রচার থেকে শত হস্ত দূরে থেকে সাহায্য করাটাই তার লক্ষ ছিল। করোনা আতঙ্কেও নিঃশ্চুপে সাহায্য করে গেছেন অভিনেতা। বিষয়টি শুনে অবাক হলেও এটাই সত্যি।

আরও পড়ুন-সমকামী না অসমকামী, মৃত্যুবার্ষিকীতে ফিরে দেখা এক অন্য 'ঋতু '-কে...

সম্প্রতি এই খবরে উত্তাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। ইরফানের বন্ধু জিয়াউল্লা এই খবর প্রকাশ্যে এনেছেন।  তিনি জানিয়েছেন, ইরফান সবসময়েই মানুষের পাশে এগিয়ে এসেছেন। কিন্তু তার এই সাহায্য কোনওভাবেই যেন নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে না পড়ে সেদিকে সর্বদাই নজর থাকত তার। মহামারী সঙ্কটেও তিনি থেমে ছিলেন না।  করোনা আক্রান্তদের নিঃশব্দেই অনুদান  দিয়েছিলেন তিনি। তবে এই বিষয়টি কোনওভাবেই যেন জানাজানি না হয়, তা সবাইকে বলেছিলেন। ইরফানের বন্ধু আরও জানিয়েছেন, করোনার এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা ভেবেছিলেন তিনি ও তার কয়েকজন বন্ধু। এই কথা জানতে পেরেই ইরফানও এগিয়ে আসেন।

আরও পড়ুন-কোয়ারেন্টাইন জীবন এবার রিয়্যালিটি শো-তে, ভক্তদের জন্য নয়া চমক ভাইজানের...

 সঙ্কট মোকাবিলায় দরিদ্র মানুষের সাহায্যে তৈরি তহবিলে আর্থিক অনুদান দিয়েছিলেন ইরফান। তবে একটাই শর্ত ছিল, কেউ যেন জানতে না পারে। কারণ ইরফানের মতে, ডান হাতের কথা বাম হাতের কখনওই জানা উচিত নয়। তার চাইতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হল মানুষের শান্তি। তিনি আর নেই। তবে তার স্মৃতি জুড়ে রয়েছে সকলের মনে।সাধারণ মানুষরাও তাকে জড়িয়ে রেখেছে আষ্টেপৃষ্ঠে। মহারাষ্ট্রের লগতপুরী গ্রামের প্রতিটি মানুষের সঙ্গেই নিবিড় সম্পর্ক ছিল ইরফানের। কারণ একটা তিনি রিয়েল হিরো। সকলের মনে আজও উজ্জ্বল তার উপস্থিতি। শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীরা কৃতজ্ঞ অভিনেতার কাছে। শুধু ছাত্র-ছাত্রী নন, বহু দিনদরিদ্র পরিবারও তার কাছে ঋণী। বরাবরই নিজের সবাটাই উজার করে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন অভিনেতা। সেই মানুষটার প্রতি  শ্রদ্ধা জানাতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সেই গ্রামের বাসিন্দারাই। ইরফানের স্মৃতিকে আজীবন অমর করে রাখতে চান গ্রামবাসীর। তার ভালবাসায় গ্রামের নাম বদলে হতে চলেছে হিরো-চি-ওয়াদি, মারাঠি অর্থে যার মানে হিরোর প্রতিবেশী। সারাজীবন ইরফানের প্রতিবেশী হয়েই থাকতে চায় সকলে। পান সিং তোমর অভিনেতাকে এভাবেই কুর্নিশ জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা।