চেনা ছকে বাঁধা বলিউডের ভোল পাল্টাচ্ছে দিনে দিনে। সমকামীতা, পঞ্চাশোর্ধ্ব মহিলার মা হওয়া এ সমস্ত বিষয় নিয়ে ছবি তৈরি হচ্ছে বলিউডে। এই ধরনের ছবির জনক যদি আয়ুষ্মান খুরানা হয়ে থাকে তাহলে পথপ্রদর্শক হিসেবে নীনা গুপ্তার নামও উঠে আসে। সমাজের দু'টি ট্যাবুকে ছাপিয়ে গিয়ে 'বাধাই হো' এবং 'শুভ মঙ্গল জ্যাদা সাবধান' ছবিগুলি দর্শকরা বেশ পছন্দ করছেন। রিল লাইফ ছাড়া রিয়েল লাইফেও এতটাই লিবেরল অভিনেত্রী নীনা গুপ্তা। ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কথা বলতে কখনই ইতস্তত বোধ করেননি তিনি। তবে এবারে মুখ খুললেন নিজের মেয়ে মাসাবার বিষয়। 

আরও পড়ুনঃতাহিরের পাশে দাঁড়াতেই বিপত্তি, মামলা দায়ের হল জাভেদ আখতারের বিরুদ্ধে

আরও পড়ুনঃএকবৃষ্টি ভেজা দিনে আমিরের চুম্বন, আজও ভুলতে পারেননি করিশ্মা

অন্যতম ফ্যাশন ডিজাইনার মাসাবা এবং বলিউডের প্রযোজক মধু মান্তেনার বিবাহবিচ্ছে নিয়ে বছর দুয়েক আগে থেকেই শোরগোল পড়ে গিয়েছিল বিনোদন জগতে। মাসাবা নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় যা বলার বলে দিয়েছিলেন। তারপর তিনি এ বিষয় তেমন কথা না বললেও নীনা সম্প্রতি জানান, তিনি খবরটা পেতেই বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাসই করে উঠতে পারছিলেন না যে মাসাবা এবং মধু আলাদা হয়ে যাচ্ছে। যেখানে এমন পরিস্থিতিতে মেয়েকে সামলানোর কথা মায়ের, সেখানে ঘটেছিল একেবারে উল্টো বিষয়। মাসাবার সাহায্যেই পরিস্থিতির সামাল দিতে পেরেছিলেন নীনা।

আরও পড়ুনঃসিনে-জগতের সেরা দশ নারী, যাঁরা ছবির হিরো, যাঁদের উপস্থিতি ছবির পরিচয়

তিনি এও জানান, যে এত খরচা করে মানুষ বিয়ে করে, অনুষ্ঠানগুলির জন্য যথেষ্ট খাটাখাটনি করে কিন্তু অবশেষে সেই দু'টি মানুষ হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা একসঙ্গে থাকবে না। এই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার চেয়ে লিভ-ইন রিলেশনশিপে থাকা অনেক বেশি ভাল। সম্পর্কের ওঠাপড়া নিয়ে তিনি বলেন, "আমি কখনই সিঙ্গেল মাদার ছিলাম না। দু'বছর আমি মাসাবাকে মানুষ করেছি। আমার চেয়েও বেশি আমার বাবা মাসাবাকে মানুষ করেছে। তাই সিঙ্গেল মাদার হওয়ার অনুভূতিটা আমি কখনই বোধ করিনি। আমার বাবা চিরকাল আমার পাশে থেকেছেন। আমার বাড়ি থেকে শুরু করে মাসাবা সবকিছুর খেয়াল রেখেছিলেন বাবা।"

সিঙ্গেল মহিলা মানেই যে সমাজ খানিক সহানুভূতির নজরে দেখবে সেটাই স্বাভাবিক। নীনার জানান, তাঁকে তাঁর অধিকাংশ বন্ধুরা বিয়ে করতে চেয়েছিল। অভিনেত্রীর কথায়, "আজও ইন্ডাস্ট্রিতে হিরোরা নিজেদের থেকে কুড়ি পচিশ বছরের ছোট অভিনেত্রীদের সঙ্গে রোম্যান্স করতে পারেন, কিন্তু হিরোইনরা, হিরোদের চেয়ে বয়সে বড়ো হবে, এই বিষয়টি বলিউডে হতে এখনও অনেক সময় লাগবে।" 

এছাড়াও নীনার কথায়, ভালোবাসা শুধু মা-বাবা এবং সন্তানের জন্যই থাকে। স্বামী অথবা নিজের সঙ্গীর সঙ্গে যে সম্পর্কটা থাকে তা কেবল যৌন চাহিদা।