বলিউড অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তী এবং সুশান্ত সিং রাজুপত একে অপরকে বহুদিন ধরে ডেট করছিলেন। লিভ ইনেও ছিলেন বলে জানা যায়। তবে সুশান্তের মৃত্যুর খবর শুনে যেখানে প্রাক্তন প্রেমিকা অঙ্কিতা লোখান্ডে শোকস্তব্ধ হয়ে যান সেখানেই রিয়ার বহাল তবিয়তে পোস্ট করে যাচ্ছিলেন নিজের ইনস্টাগ্রামে। মায়ের হাতে বানানো পিৎজার ছবি পোস্ট করেছিলেন ইনস্টাগ্রামে। পরে অবশ্য তা ডিলিট করে দেন। এই নিয়েই এখন চলছে নানা নিন্দা, নানা চর্চা। সুশান্তের মৃত্যুর জন্য কি একটু দুঃখিত নন তিনি। প্রসঙ্গত, এই বছরেই নভেম্বর নাগাদ বিয়ের ডেট করার ব্যবস্থা চলছিল সুশান্ত সিং রাজপুতের পরিবারের। 

আরও পড়ুনঃ'শান্তিতে ঘুমোও, অনেক যন্ত্রণা সইতে হয়েছে তোমায়' সুশান্তের শেষবিদায়ে টুইট প্রিয়ঙ্কার

এমনটাই সম্প্রতি জানালেন সুশান্তের এক জ্ঞাতি ভাই। বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল পাটনায়। মুম্বইতে খুব শীঘ্রই আসতেন অন্যান্য প্রস্তুতির জন্য। মুম্বইতেই পরিবারের সদস্য এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুবান্ধবদের নিয়ে ছোট করে বিয়ের অনুষ্ঠান করার কথা ছিল সুশান্তের। যদিও পাত্রীর পরিচয় রিভিল করেননি সেই ভাই। সূত্রের খবর, বহুদিন ধরে অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীকে ডেট করছিলেন সুশান্ত। বহু জায়গায় তাঁদের একসঙ্গে দেখা গিয়েছে। নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে কখনই কোনও মন্তব্য করেননি তাঁরা। আত্মহত্যায় সুশান্তের মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন বাবা কৃষ্ণকুমার রাজপুত। সাংঘাতিক অসুস্থও হয়ে পড়েছিলেন তিনি। 

আরও পড়ুনঃএই বছর নভেম্বরে বিয়ে ছিল সুশান্তের, জোর কদমে প্রস্তুতি নিচ্ছিল অভিনেতার পরিবার

অন্যান্য আত্মীয় পরিজন এবং প্রতিবেশীরাই সামলেছেন তাঁকে। ছেলেকে শেষবারের মত দেখার জন্য সোমবার রাতে পাটনা থেকে মুম্বই এসে পৌঁছছেন তিনি। সঙ্গে রয়েছেন পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও। কুপার হাসপাতালে রাখা হয়েছে সুশান্তের দেহ। সেখানে তাঁর করোনা টেস্ট হয়েছে। যদি টেস্ট নেগেটিভ আসে তবেই পোস্ট মর্টেম করানো হবে বলে জানা গিয়েছে। ইরফান খান, ঋষি কাপুর, সাজিদ খান এবার সুশান্ত সিং রাজপুত। একের পর এক বলিউড শিল্পী, অভিনেতাদের মৃত্যুর খবরে ভরে চলেছে সংবাদমাধ্যম। আত্মহত্যার কারণে মৃত্যু হয় সুশান্তের। ঘর থেকে অভিনেতার ঝুলন্ত দেহ পরিচারিকায় প্রথম দেখে বলে জানা গিয়েছে। 

 

 

আরও পড়ুনঃমানসিক অবসাদ গ্রাস করল এমন প্রাণোচ্ছল সুশান্তকেও, আতঙ্কিত দীপিকা পাডুকোন

সিনেজগতের সকলে ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি কেউই মেনে নিতে পারছে না খবরটা। সুশান্ত সিং রাজপুতের হাসিমুখটাই চিরজীবন চোখের সামনে থেকে যাক। ওই হাসিমুখ দেখলে কেউ ধরতেও পারবে না যে তার পিছনেই লুকিয়ে আছে মন ভরা অবসাদ। কথা বলার একটি লোকও ছিল না পাশে। মা-কে হারিয়েছেন সেই পাটনা থেকে দিল্লি আসার সময়। তারপর মায়ের মত বোধহয় আর কাউকে কাছে টেনে নিতে পারেননি। একাকিত্ব এমনভাবে এক প্রাণোচ্ছল ছেলেকে গ্রাস করবে তা দুঃস্বপ্নেও ভাবেনি কেউ। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল মাত্র ৩৪।