স্বাধীনতার লড়াইয়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনই ছিল মহাত্মা গান্ধীর প্রধান অস্ত্র। তাঁর দেখান পথেই দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ইংল্যান্ডের থেকে স্বাধীনতা পেয়েছে ভারত। সেই ব্রিটেনেই এবার মহাত্মা গান্ধীর একটি চশমার নিলামে দাম উঠল প্রায় ১৫ লক্ষ টাকার কাছাকাছি।

ব্রিটিশ যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টলে উদ্ধার হয়েছে মহাত্মা গান্ধীর ব্যবহার করা একটি চশমা। জানা যাচ্ছে সোনার জল করা এই চশমাটি গান্ধীজিকে কেউ উহহার দিয়েছিলেন। ১৯০০ শতকে এটি উপহার পেয়েছিলেন। তবে সবচেয়ে মজার হল চশমা উদ্ধারের গল্পটি। ইন্ট ব্রিস্টল অকশন হাউস নামের ওই নিলামখানা দাবি করেছে কোনও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁদের লেটারবত্সে ওই চশমাটি রেখে যান। 

আরও পড়ুন: দেশে করোনা জয়ীর সংখ্যা ১৫ লক্ষ ছাড়াল, এক দিনে রেকর্ড গড়ে সুস্থ হলেন ৫৪ হাজারের বেশি

হ্যানহ্যামের ইস্ট ব্রিস্টল অকশনের তরফে রবিবার জানানো হয়েছে, মহাত্মা গান্ধীর এই চশমাটি পেয়ে তাঁরা খুবই অবাক হয়েছিলেন। কারণ এই চশমা পাওয়ার উপায়টিও ছিল একদম অন্যরকম। অকশন হাউসের লেটারবক্সে খামে মুড়ে কেউ এই চশমাটি রেখে গিয়েছিলেন। শুরুতে বুঝতে না পারলেও, পরে যখন এর সঙ্গে যুক্ত ঐতিহাসিক গুরুত্ব সামনে আসে, ভীষণই অবাক হয়েছিলেন অকশন হাউসের কর্তৃপক্ষ।

 

 

মালিক অ্যান্ডি স্টো জানান, "যিনি এই চশমাটি পেয়েছেন তিনি এটির ইতিহাস জানতেন না, তাই ঐতিহাসিক মূল্য অনুধাবন করতে পারেননি। এমনকি তিনি আমাদের জানিয়েছিলেন, এটি অপ্রয়োজনীয় হলে যেন আমরা ফেলে দিই। এই আবিষ্কারের ঐতিহাসিক মূল্য অপরিসীম।"

ইতোমধ্যে অনলাইন নিলামে এই চশমাটির দাম উঠেছে ৬ হাজার পাউন্ড। জানা গিয়েছে, এই চশমাটি ইংল্যান্ডের এক প্রবীণ ব্যক্তির কাছে ছিল। তাঁর বাবা জানিয়েছিলেন, এই চশমাটি তাঁর কাকা উপহার হিসেবে পেয়েছিলেন যখন তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামে কাজ করতেন ১৯১০ থেকে ১৯৩০ সালের মধ্যে।

মনে করা হচ্ছে গান্ধীজি এই চশমাটি ১৯১০ থেকে ১৯২০ সালের মধ্যে পড়তেন।  চশমাটির দুটি ডান্ডা সোনার জল করা, দুটি কাচ জোড়া লাগানোর ছোট্ট ধাতব টুকরোটিও সোনার জলের রঙ করা পাত দিয়ে মোড়া। আগামী ২১ আগস্ট অনলাইনে চশমাটির নিলাম শুরু হতে চলেছে। ইতিমধ্যেই চশমাটির ব্যাপারে অনেক মানুষ আগ্রহ দেখিয়েছেন, বিশেষ করে ভারত থেকে অনেকেই খোঁজ করেছেন। অনুমান করা হচ্ছে নিলামে এই চশমার দাম উঠতে পারে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার পাউন্ড। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ৯ লাখ ৮০ হাজার থেকে ১৪ লাখ ৬৮ হাজার।

আরও পড়ুন: স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে বাহিনীর জন্য একাধিক বিধিনিষেধ, রাষ্ট্রপতি ভবনে আমন্ত্রিত মাত্র ৯০

শোনা যায় গান্ধীজি প্রায়ই তাঁর ব্যবহৃত জিনিসপত্র  পরিচিতদের উপহার হিসেবে দিতেন। এই চশমাটিও সেরকম ভাবেই ওই প্রবীণ ব্যক্তির দাদু পেয়েছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। তার পরে বংশ পরম্পরায় হাত বদল হয়েছে।