মায়ের কথা বড্ড মনে পড়ে তাঁর। আর মায়ের কথা মনে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরনো কথাগুলো মনে পড়ে যায় বড্ড। মায়ের খুব খারাপ সময়ের কথা বেশি করে মনে পড়ে। অনেকদিন আগে মা মারা যাওয়ার পরও তিনি এখনও মাকে মনে করেন। মায়ের জন্য কষ্ট হয়। তাঁর সঙ্গে কষ্ট পাচ্ছেন তাঁর স্ত্রীও। তাঁরা আর কেউ নয়, তার ব্রিটেনের রাজপুত্র প্রিন্স হ্যারি এবং তাঁর স্ত্রী মেগান মর্কেল। তবে এই কষ্টের মধ্যে থাকতে না পেরে তাঁরা কি বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?  না, সেই নিয়ে এই ব্রিটিশ রাজ দম্পতি পরিষ্কারভাবে কিছু বলেননি। তবে কথাতে যেন সেই ধরনের একটা আভাস রয়েছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। 

প্রিন্স হ্যারি এবং মেগান মর্কেলের সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে জল্পনার জাল তৈরি হয়েছে। ওই সাক্ষাৎকারে প্রিন্স হ্যারি সরাসরি তাঁর অভিযোগের তির সরাসরি প্রিন্স উইলিয়ামের দিকে নিশানা করেছেন। হ্যারি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে দাদার সম্পর্ক মোটেই ভালো নয়। কিছু দিন আগে ব্রিটিশ রাজপরিবারে দুই জায়ের মধ্যে অশান্তির একটা আভাস পাওয়া গিয়েছিল বটে। উইলিয়ামের সঙ্গে হ্যারির বন্ধুত্ব বা দুরত্ব কোনওদিন প্রকাশ্যে আসেনি। সাক্ষাৎকারে মনের মধ্যে জমে থাকা সমস্ত ক্ষোভ উজাড় করে দিয়েছেন হ্যারি। তিনি বলেন, ঘর থেকে বের হলেই সারাক্ষণ ক্যামারাম্যানরা তাঁর প্রতি মুহূর্ত বন্দি করে রাখতে চায়, তা মোটেই ভালোলাগে না। এই ক্যামেরার এই ফ্ল্যাশগুলোকে বন্দুকের গুলির থেকে কোনও অংশে কম কিছু লাগে না তাঁর। ক্যামেরার ফ্ল্যাশের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মায়ের কথা মনে পড়ে যায়। পুরনো কথা মনে পড়ে যায়। আর এই পুরনো কথা, মায়ের কথা আরও বেশি আশন্ত করে। 

প্রিন্স হ্যারির পাশাপাশি মেগান তাঁর শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। তিনি বাকিংহাম প্যালেসের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন, ওই পরিবারে খুব কম মানুষ আছেন, যাঁরা তাঁর খবর জিজ্ঞাসা করেন। রাজপ্রাসাদে কেউ তাঁর খবর জিজ্ঞাসা পর্যন্ত করেন না। সবাই নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত। প্রিন্স হ্যারি এবং মেগান মর্কেল এই সাক্ষাৎকার সম্প্রচার হওয়ার পর থেকেই নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছে, রাজপ্রাসাদ ছেড়ে প্রিন্স হ্যারি ছেলে ও বউকে নিয়ে আলাদা কোথাও সাধারণ জীবন-যাপন করবেন। এই জল্পনা আরও খানিকটা উসকে দিয়েছে প্রিন্স হ্যারির এক বন্ধু দাবি করেছেন, রাজকীয় পরিবারের জন্ম হলেও, এখানকার আদব-কায়দার সঙ্গে প্রিন্স হ্যারি মানিয়ে নিতে পারছেন না। মেগানেরও একই অবস্থা। চলতি বছর শেষের দিকে হ্যারি, মেগান  ছয় সপ্তাহের জন্য আমেরিকা যাবেন। তারপরেই হয়তো ডায়না পুত্র চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন বলে মনে করা হচ্ছে।