করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতে একটি নতুন ওষুধের আবিষ্কারের দিকেই এগিয়ে গেছে ইংল্যান্ডের এক দল চিকিৎসক। সাউথাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালে ইতিমধ্যেই  পরীক্ষামূলকভাবে এই ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে করোনা আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে।আগামী জুন মাসের মধ্যেই প্রাথমিক ফলাফল পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা। ইন্টারফেরন বিটা নামে একটি প্রোটিন থেকেই মূলত এই ওষুধ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান হয়েছে।  

এই ওষুধটি তৈরি করেছে ইংল্যান্ডের বায়োটেক কোম্পানি সিনাইর্জেন।  সাউথাম্পটন হাসপাতালের এক পদস্থ কর্তা রিচার্ড মার্সডেন জানিয়েছেন ইন্টারফেরন বিটা নামে এই প্রোটিন মানুষের শরীরের মধ্যেই থাকে। যেকোনও রকম জীমানুর আক্রমণ প্রতিহত করতে সাহায্য করে। করোনাভাইরাস প্রতিহত করে এই ওষুধটি আমাদের বেঁচে থাকার উপায় বলে দিতে পারে বলেও তিনি জানিয়েছেন।  প্রোটিনের সরাসরি প্রয়োগ অ্যান্টি ভাইরাল প্রক্রিয়ার মত কাজ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। আর এই ওষুধ প্রয়োগে এক সপ্তাহের মধ্যেই মানুষের ইমিউনিটি পাওয়ার বাড়তে থাকে বলেও পর্যবেক্ষণে ধরা পড়েছে। 

ইন্টারফিরন বিটা সাধারণত স্কলেরোসিস চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। সিনাইর্জেন ইতিমধ্যেই প্রমান করেছে এই ওষুধ প্রয়োগ করে হাঁপানি ও ফুসফুসের রোগীরা যথেষ্ট ভালো ফল পেয়েছে। পরীক্ষার পরই বোঝা যাবে এটি করোনা আক্রান্তদের পক্ষে কতটা সহায়ক । 

ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানান হয়েছে নেবুলাইজারের মাধ্যমে এই ওষুধ প্রয়োগ করা হবে। ইতিমধ্যেই ৭৫ জন রোগীর ওপর প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। ব্রিটেনের ১০টি হাসপাতালে এই পরীক্ষা চলছে। তবে রোগীরা জানেন না তাঁদের কী ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। তবে অনেকেই উপকৃত হচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সংস্থার চিকিৎসকরা। 

আরও পড়ুনঃ শ্রমিক ট্রেন নিয়ে যুযুধান কংগ্রেস ও বিজেপি, ভাড়ায় ৮৫ শতাংশ ভর্তুকি রেলের ...

আরও পড়ুনঃ তৃতীয় লকডাউনে কী কী ছাড় দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, এক ঝলকে চোখ বুলিয়ে নিন ..

আরও পড়ুনঃ মোদীর রাজ্য থেকে বাড়ি ফেরার দাবি, অভিবাসী শ্রমিক ও পুলিশের সংঘর্ষ, দেখুন সেই ভিডিও ...

এখনও পর্যন্ত কোরোনা সংক্রমণ রুখতে কোনও প্রতিষেধক বা ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। গোটা বিশ্বে ১০০টিরও বেশি সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা ওষুধ বা প্রতিষেধক আবিষ্কারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেমন ইবলা প্রতিরোধে তৈরি হওয়া রেমডেসিভিরকেই করোনা মোকাবিলার ওষুধ হিসেবে চিহ্নিত করে এগিয়ে যেতে চাইছে তেমনই ব্রিটেনও ইন্টারফেরন বিটাকেই আগামী দিনে করোনা মোকাবিলার অত্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।