রক্তের মারাত্মক ​​সংক্রমণের ফলে খোয়া গিয়েছিল পুরুষাঙ্গনা-পুরুষ হয়ে ডুবে গিয়েছিলেন অবসাদেকিন্তু, আবার তাঁর জাগছে পুরুষ হওয়ার আশাডান হাতে তৈরি হয়েছে নতুন লিঙ্গ

রক্তের মারাত্মক ​​সংক্রমণের ফলে পুরুষাঙ্গ খোয়া গিয়েছিল ব্রিটেনের এক ব্যক্তির। কিন্তু, ডান হাতটা ছিল বলেই এখন আবার তিনি য়ৌন জীবনে ফিরে পাওয়ার আশা করছেন। ডাক্তাররা তাঁর ডান হাতে একটি নতুন পুরুষাঙ্গ তৈরি করে দিয়েছেন।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

ব্রিটেনের বাসিন্দা ম্যালকম ম্যাকডোনাল্ড মেকানিক হিসাবে কাজ করেন। ২০১৪ সালে মারাত্মক পেরিনিয়াম সংক্রমণে তাঁর হাতের আঙ্গুল, পায়ের আঙ্গুল এবং যৌনাঙ্গ সেপসিস হয়ে কালো হয়ে গিয়েছিল। ম্য়ালকম জানিয়েছেন, তখনই তিনি বুঝেছিলেন তিনি পুরুষাঙ্গটি হারাতে চলেছেন।

এরপর সংক্রমণ এক পর্যায়ে মারাত্মক আকার ধারণ করে। তাঁর শরীর থেকে আলাদা হয়ে পুরুষাঙ্গটি পড়ে গিয়েছিল মাটিতে। থেমে গিয়েছিল তাঁর যৌনজীবন। এরপরই তিনি অবসাদে ডুবে যেতে শুরু করেছিলেন। শুরু হয়েছিল বেহিসাবি মদ্যপান। এইভাবে বছর দুই না-পুরুষ হয়ে কেটেছিল তাঁর। পরিবার-পরিজন, বন্ধুবান্ধব কারোর সঙ্গে দেখা করেননি।

এরপর, অবশ্য তাঁর জীবনে আবির্ভাব ঘটে প্রায় এক দেবদূতের। লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডেভিড ব়্যাল্ফ, 'বায়োনিক লিঙ্গ' তৈরির জন্যই খ্যাত। পুরুষাঙ্গ ছাড়াই জন্মগ্রহণকারী এক ব্যক্তিকেও তিনিই পুরুষাঙ্গ তৈরি করে দিয়েছিলেন। এহেন অদ্যাপক র‌্যাল্ফ, ম্যালকমকে জানান আর্ম-গ্রাফ্ট পদ্ধতিতে তিনি আবার পুরুষাঙ্গ ফিরে পেতে পারেন। তবে এতে, বছর দুয়েক সময় লাগতে পারে। অবসন্ন ম্য়ালকম তখন দুই কেন দশ বছর পর্যন্তও অপেক্ষা করতে রাজি ছিলেন।

কাজেই অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্তটি নিতে বেশি সময় নেননি তিনি। তবে বাধ সেধেছিল খরচ। তারও জোগার হয়ে যায়। পুরুষাঙ্গ হারিয়ে ম্যালকমের শুধু যে যৌন জীবন নষ্ট হয়ে গিয়েছিল, তাই নয়, মূত্র ত্যাগের ক্ষেত্রেও বড় সমস্যা দেখা দিয়েছিল। এই সমস্ত দিক টিন্তা করে এই অপারেশনটিকে জীবন-পরিবর্তনশীল বলে আক্ষা দেয় ব্রিটেনের স্বাস্থ্য দপ্তর। ম্যালকমও জাতীয় স্বাস্থ্যবিমার থেকে ৫০,০০০ ইউরোর তহবিল পেয়েছিলেন।

চলমান করোনাভাইরাস মহামারির কারণে তাঁর অস্ত্রপচারের তারিখ নিয়ে কানিক সমস্যা হয়েছিল। তবে ইতিমধ্য়েই প্রাথমিক বেশ কয়েকটি প্রক্রিয়ার কাজ শেষ হয়েছে। আর তাতেই ম্যালকমের মতে তাঁর জীবনে অকাল 'ক্রিস্টমাস' নেমে এসেছে। আর তাঁর সান্টা ক্লস হলেন ডাক্তার ডেভিড ব়্যাল্ফ, যাঁকে ম্যালকম বলতেন 'পিনাস মাস্টার' বা 'লিঙ্গ মাস্টার'।

ডেভিড ব়্যাল্ফ ও তাঁর অস্ত্রপচারের দলে থাকা ডাক্তাররা ম্যালকমের নিজস্ব রক্তনালী এবং স্নায়ু ব্যবহার করে একটি নতুন পুরুষাঙ্গ তৈরি করেছেন। এর জন্য ম্যালকমের ডান হাতের ত্বক ব্যবহার করা হয়েছে। এরপর তাঁরা ম্যালকমের ডানহাতের সঙ্গে সংযুক্ত থাকা ওই পুরুষাঙ্গটিতে মূত্রনালী তৈরি করেছেন এবং একটি হ্যান্ড-পাম্প দিয়ে ফোলানো দুটি নল তারমধ্যে বসিয়ে দিয়েছেন। এতে করে তাঁর ওই নতুন পুরুষাঙ্গ দিয়ে মূত্রত্যাগ করা ও মিলনের সময়ে উত্থানেও কোনও সমস্য়া হবে না।

আপাতত প্রায় গঠিত ওই পুরুষাঙ্গটি ম্য়ালকমের ডানহাতেই সংযুক্ত রয়েছে। ম্যালকম জানিয়েছেন অনেকেরই নিজের হাতের সঙ্গে পুরুষাঙ্গ দেখে অদ্ভূত বোধ হতে পারে। কিন্তু, তিনি যে অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন, তাতে সেই দৃশ্য তাঁর অদ্ভূত তো লাগেইনি, বরং দারুণ আনন্দ হয়েছে।

চার বছর আগে থেকে এই প্রক্রিয়াটি শুরু হলেও চলতি করোনভাইরাস মহামারির কারণে এখনও পুরো প্রক্রিয়াটি এখনও সম্পূর্ণ হয়নি। এখন ম্যালকমের ডানহাত থেকে পুরুষাঙ্গটি নিয়ে তাকে যথাযথ স্থানে স্থাপন করবেন ডাক্তাররা। ম্যালকমের আশা এই বছরের শেষের মধ্য়েই সেই প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। নতুন করে পুরুষের জীবন ফিরে পাবেন তিনি।