পাকিস্তানের গুরুদুয়ারার ভেতরে এক বয়স্ক শিখ দম্পতিকে গুলি করে হত্যার তিন দিন পর পুলিশ প্রধান সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে। নিহতদের পরিচয় পাওয়া গেছে। ৭০ বছর বয়সি জগন্নাথ এবং তাঁর স্ত্রী আসমা ওয়ান্টি। তাঁরা পেশোয়ার থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত মারদান জেলার বাবু মহল্লার ওই গুরুদুয়ারার তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করছিলেন।

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে একটি গুরুদুয়ারার ভেতরে এক বয়স্ক শিখ দম্পতিকে গুলি করে হত্যার তিন দিন পর পুলিশ প্রধান সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে। নিহতদের পরিচয় পাওয়া গেছে। ৭০ বছর বয়সি জগন্নাথ এবং তাঁর স্ত্রী আসমা ওয়ান্টি। তাঁরা পেশোয়ার থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত মারদান জেলার বাবু মহল্লার ওই গুরুদুয়ারার তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করছিলেন। বুধবার গুরুদুয়ারার ভেতরেই তাঁদের গুলি করে হত্যা করা হয়। প্রাদেশিক পুলিশ ধৃত সন্দেহভাজনের নাম জানিয়েছে শের শাহ, যে আমাজুগারির বাসিন্দা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

মারদান জেলার পুলিশ কর্তা (ডিপিও) মাসুদ আহমেদ বাঙ্গাশ জানিয়েছেন, পুলিশ কর্তা, কাউন্টার-টেররিজম ডিপার্টমেন্ট (সিটিডি) এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ তদন্তকারী দল (জেআইটি) এখনও পর্যন্ত তদন্ত চালিয়ে সন্দেহভাজনের সঙ্গে কোনও নিষিদ্ধ গোষ্ঠী, সন্ত্রাসবাদী সংগঠন বা সংঘবদ্ধ কোনও নেটওয়ার্কের যোগের প্রমাণ পায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনের উদ্দেশ্য এখনও অস্পষ্ট। সন্দেহভাজনের জবানবন্দি এবং এ পর্যন্ত সংগৃহীত অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখছে।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা গুরুদুয়ারায় প্রবেশ করে এবং গুলি চালানোর পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুরুদুয়ারার নিরাপত্তার জন্য একজন পুলিশ প্রহরীকে নিযুক্ত করা হয়েছিল, কিন্তু হামলার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। ওই প্রাঙ্গণে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো থাকলেও তদন্তকারীরা দেখেছেন যে, সেগুলোর ডিজিটাল ভিডিও রেকর্ডারটি সচল ছিল না।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভারতের অকাল তখত এবং বিজেপি তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। অকাল তখতের জাঠেদার (প্রধান পুরোহিত) জ্ঞানী কুলদীপ সিং গর্গাজ এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ সোহেল খান আফ্রিদির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তাঁরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখেন, অপরাধীদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করেন।

বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক তরুণ চুঘ এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, ১৯৫০ সালের নেহরু-লিয়াকত চুক্তির আওতায় ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশেই সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা রক্ষায় পাকিস্তান ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হয়েছে।