দুমাসের বেশি সময় ধরে দিল্লির উপকণ্ঠে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন কৃষকরা। নতুন তিনটি কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে- এই দাবিতে অনড় রয়েছে তাঁরা। এই অবস্থায় কৃষক দরদী সরকার হিসেবে প্রমাণ করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন। বাজেট ভাষণেই তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, কৃষি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ১৬.৫ লক্ষ কোটি টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে তিনি সোমবার সংসদে বলেন তাঁর সরকার কৃষি কল্যাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নূন্যতম সহায়ক মূল্য বা এমএসপি নিশ্চিত করতে পণ্য উৎপাদনের ব্যায়ের কমপক্ষে দেড়গুণ দাম নিশ্চিত করতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। কৃষি ক্ষেত্রে এই ঘটনা বিরল বলেও দাবি করেছেন নির্মলা। 

নির্মলা সীতারমন তাঁর বাজেট ভাষণে বলেন ক্রয় ও স্থির গতিতে বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে। এরফলে কৃষকদের যথেষ্ট পরিমাণে অর্থ প্রদান বেড়েছে। গমেরক্ষেত্রে ২০১৩-১৪ সালে কষকরা পেয়েছেন ৩৩,৮৭৪ কোটি টাকা। যা ২০১৯-২০ সালে বেড়ে হয়েছে ৬২.৮০২ কোটি টাকা। আর ২০২১-২২ সালে হয়েছে ৭৫,০৬০ কোটি টাকা। আয় বেড়েছে তুলা চাষিদেরও। ২০১৩-১৪ সালে তাঁরা পেয়েছিলেন ৯০ কোটি টাকা। ২০২০-২১ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫,০০০ কোটি টাকা। গতবছর বাজেট ভাষণে তিনি জানিয়েছিলেন, গত ৬ বছরে ধান, গম, তুলা জাতীয় সফলের সংগ্রহণ বহুগুণ বেড়েছে। নির্মালা সীতারমণ জানান মোট, ৪৩,৩৬ লক্ষ কোটি কৃষক এই অর্থপ্রদানের মাধ্যমে উপকৃত হবেন। তিনি বলেন নূন্যতম সহায়ক মূল্যের ফলে দেশের দেড়কোটি কৃষক উপকৃত হবে। তিনি আরও বলেন, এপিএমসি বা মাণ্ডি ববস্থার উন্নয়নের জন্যেও বাজেটে বরাদ্দ করা হয়েছে। নতুন কৃষি আইন নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি দাবি করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার মান্ডি প্রথা তুলে দিতে বদ্ধ পরিকর।এদিন নির্মলা সীতারমন জানিয়েছেন, ১ হাজার মাণ্ডিকে ইনাম অ্যাপের মাধ্যমে নথিভুক্তি করা হবে। মাণ্ডি প্রথা কার্যকর রাখতে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলেও ঘোষণা করেন তিনি।

বাজেটের আগের রাতেই সুখবর অর্থমন্ত্রকের ঘরে, রেকর্ড গড়ল GST আদায় .. 

আরও শক্তিশালী দেশ হবে ভারত, সাধারণ বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ইঙ্গিত নির্মলার ...

২০২১ সালের বাডেটেও সীতারমন কৃষি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ১৬.৫ কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছিলেন। মন্ত্রী কৃষিক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগ ও সাফল্যের কথা তুলে ধরার সঙ্গে সঙ্গেই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির সদস্যরা নতুন তিনটি কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে সরব হন। তবে সেই বিষয়ে এদিন কোনও মন্তব্য করেননি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।