পত্রলেখা বসু চন্দ্র, বর্ধমান:  বিধানসভা ভোটের মুখে বিদ্রোহের ইঙ্গিত? লোকসভা ভোটে যিনি বর্ধমান পূর্ব কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হয়েছিলেন, সেই পরেশচন্দ্র দাসের ফেসবুকে পোস্টে তোলপাড় শুরু হয়েছে গেরুয়াশিবিরের অন্দরে। সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে কার্যত দলের রাজ্য নেতৃত্বকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন লোকসভা ভোটে পরাজিত প্রার্থী।

আরও পড়ুন: গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে টাকা ভর্তি ভ্য়ানে ডাকাতি, বার্নপুরের ঘটনায় আতঙ্ক

ফেসবুক পোস্টে কী লিখেছেন পরেশচন্দ্র দাস? বিজেপি-এর কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অত্যন্ত ঘনিষ্ট তিনি। কিন্তু দলের রাজ্য নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। ফেসবুকে পরেশচন্দ্র লিখেছেন, 'জেলায় জেলায় যাঁরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের অনেকেই মানুষের সঙ্গে সম্পর্কহীন। নানা ধরনের অসামাজিক ও অসৎ কাজে লিপ্ত। এসব কী রাজ্য নেতৃত্ব জানেন না, না কি তাঁরা নিরুপায়। তাঁদের উদ্দেশ্যে আমার অনুরোধ দেওয়াল লিখন পড়ুন, না হলে দেরি হয়ে যাবে। স্বপ্ন আমাদের পূরণ হবে না আগামী বছর। নন্দলাল হয়ে লাভ কী?' তিনি আরও লিখেছেন, 'গত এক মাসে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য কমিটির মাইক্রোস্কোপিক এবং গুরুত্বহীন পরিবর্তন লক্ষ্য করেছি। কিন্তু তা যে নিতান্তই অপ্রতুল সে কথা সকলেই জানেন কেবল রাজ্য নেতৃত্বের কয়েকজন ছাড়া।'

বিজেপিতে সর্বোচ্চ পদে কেন ওবিসি, তফশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্তদের কেন আনা হচ্ছে না? প্রশ্ন তুলেছেন পরেশচন্দ্র দাস। ফেসবুকে পোস্টে লিখেছেন, 'সর্বোচ্চ স্তরে ওবিসি, এসসি, এসটিদের দায়িত্ব দিয়ে জনসংযোগ ঘটাতে না পারলে বিজেপি সম্ভবত শক্তিশালী হবে না। আজকের ভারতের ছবি এটাই।' বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বের কাছে তাঁর প্রশ্ন, 'মুসলমানদের নিয়ে রাজ্যের স্ট্রাটেজি কি? তারা কী অচ্ছুৎ নাকি? মুসলমানরা কী সরকার গঠনে অংশগ্রহণ করবেন না? আমাদের উচিত পার্টিসিপেশন ফর এভরিওয়ান, ডেভলপমেন্ট ফর অল নীতি গ্রহণ করা এবং অবিলম্বে অযোগ্যদের সরিয়ে জেলায় জেলায় সংগঠনকে শক্তিশালী করা।'

 

দলের অন্দরেও তো বটেই, বিজেপি নেতা পরেশচন্দ্র দাসে এমন বিস্ফোরক ফেসবুকে পোস্টে শোরগোল পড়ে গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পোস্টের নিচে কমেন্ট করে পক্ষে-বিপক্ষে নিজেদের মত জানিয়েছেন নেটিজেনদের অনেকেই।