করোনা আতঙ্কে এবার মাথা হাত মাংস ব্যবসায়ীদের। ভয়ে নাকি আর কেউ মুরগির মাংস খেতে চাইছেন না! সারাদিন দোকানে বসে একজনও খদ্দের পাওয়া যাচ্ছে না। কী আর করবেন! বাধ্য হয়েই জলের দরে মুরগির মাংস বিক্রি করে দিচ্ছেন বিক্রেতারাই। রীতিমতো মাইকিং করে মুরগির 'সেল' চলছে পূর্ব বর্ধমানের ভাতারে।

আরও পড়ুন: মৎস্যজীবীদের জালে দৈত্যাকার চিলশঙ্কর মাছ, হুলুস্থুলু কাণ্ড দিঘায়

কী ব্য়াপার? স্রেফ চিনে নয়, করোনা ভাইরাসে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। এখনও পর্যন্ত এই মারণ ভাইরাসের হদিশ মিলেছে ২৫টি দেশে। নদিয়ার তেহট্টেও নাকি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি অনেকেই! দিন কয়েক আগে এমনই গুজব ছড়িয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। বলা হয়েছিল, কোনও এক চিকিৎসক নাকি জানিয়েছেন, যাঁরা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁরা সকলেই পোলট্রির মুরগি মাংস খেয়েছিলেন! ঘটনাটি নজরে আসতেই নড়চড়ে বসে প্রশাসন। গুজব ছড়ানোর অভিযোগে একজনকে আটকও করে পুলিশ। কিন্তু ঘটনা হল, সাধারণ মানুষের আতঙ্ক কাটেনি। ভয়ে মুরগির মাংস খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন অনেকেই। আর তাতেই বিপাকে পড়েছেন মাংস ব্যবসায়ীরা।

আরও পড়ুন: নাম বদলাচ্ছে 'মাদার ডেয়ারি', মিশে যাচ্ছে 'বাংলার ডেয়ারি'-র সঙ্গে

'গোটা মুরগি ৫৫, আর কাটা মুরগী ১০০ টাকা।' পূর্ব বর্ধমানে ভাতার বাজারের বিভিন্ন জায়গায় পোস্টার লাগিয়েছেন মাংস বিক্রেতারা। মানুষদের ভয় দূর করতে রীতিমতো মাইকে প্রচারও চালাচ্ছেন তাঁরা। ভাতার বাজারে দীর্ঘদিন ধরেই মুরগি বিক্রি করছেন সুকান্ত দাস। তিনি জানিয়েছেন, 'রোজই কমবেশি ভালই বিক্রি করতাম। বিশেষ করে রবিবার লাইন দিয়ে মুরগি কিনতেন ক্রেতারা। এখন করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে কেউ কিনতে চাইছেন না। তাই মাইক লাগিয়ে প্রায় অর্ধেক দামে মুরগি বিক্রি করছি। তাতেও বিক্রি খুবই কম।' তবে স্রেফ বর্ধমানেই নয়, রাজ্যের সর্বত্রই পরিস্থিতি তথৈবচ। মুরগির বিক্রি চল্লিশ শতাংশেরও বেশি কমেছে বলে জানা গিয়েছে।