পত্রলেখা বসু চন্দ্র, বর্ধমান:  স্বয়ং সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় যে পত্রিকা চালু করেছিলেন, সেই 'কৃত্তিবাস' পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনিও।  পত্রিকা তরফে কবি অংশুমান করের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদের কথা ঘোষণা করলেন সম্পাদক তথা সুনীল জায়া স্বাতী গঙ্গোপাধ্য়ায়। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন কেলেঙ্কারি আঁচ এবার পৌঁছল সাহিত্য় জগতেও। 
 

আরও পড়ুন: কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত সাংসদ-অভিনেত্রী শতাব্দী রায়ের বাবা, ভর্তি বেসরকারি হাসপাতালে

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে পড়ান অধ্যাপক অংশুমান কর। কবি হিসেবেও যথেষ্ট নামডাক আছে তাঁর। কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্য়ায় প্রতিষ্ঠিত 'কৃত্তিবাস' পত্রিকা সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। কিন্তু ঘটনা হল, খ্য়াতনামা এই কবি তথা অধ্যাপকের নাম জড়িয়েছে যৌন কেলেঙ্কারিতে! অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই প্রেমের ফাঁদে ফেএ বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের যৌন হেনস্থা করছেন অংশুমান। সম্প্রতি তাঁর সঙ্গে কথোপকথনের অডিও ও স্ক্রিনশট সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে দেন এক ছাত্রী। যথারীতি সেগুলি ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। ওই ছাত্রীর দাবি, যখন সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চান, তাঁকে আত্মহত্যার কথা বলে পাল্টা হুমকি দেন অধ্যাপক অংশুমান কর। ঘটনাটি জানাজানি হতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে।

আরও পড়ুন: অযোধ্যা রাম মন্দির নির্মাণের জন্য় ভূমি, তারাপীঠ থেকে পাঠানো হল জল-মাটি-যজ্ঞের ভষ্ম

'কৃত্তিবাস' পত্রিকার তরফে কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় স্ত্রী স্বাতী এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, 'অংশুমান করকে কেন্দ্র করে যে ঘটনা ঘটেছে, তাতে আমি কৃত্তিবাস পত্রিকার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককেই স্তম্ভিত, হতবাক ও আহত। তাকে যেটুকু দেখেছি, তাতে এই ঘটনা আমাদের সকলের কাছেই অপ্রত্যাশিত ও অবিশ্বাস্য।' তাঁর আরও বক্তব্য, 'পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত কোনও একজন তাঁর ব্যক্তিগত বা পেশাগত পরিসরে অনৈতিক আচরণ করলে সেই দায় কখনই পত্রিকার উপর বর্তায় না। তবুও এই ঘটনার  পরিপ্রেক্ষিতে কৃত্তিবাস পত্রিকার তরফে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত জানানো হচ্ছে যে, এই মুহুর্ত থেকে পত্রিকার কোনও কর্মকাণ্ডের সঙ্গে অংশুমানের করের কোনও সংয়োগ থাকল না, ভবিষ্যতে থাকবে না।'