8th Pay Commission: ওপিএস নাকি এনপিএস! অষ্টম পে কমিশনে কী চাইছেন সরকারি কর্মীরা?
8th Pay Commission: অষ্টম পে কমিশনে ওপিএস, এনপিএস, পেনশনের নিরাপত্তা এবং ন্যূনতম পেনশন নিয়ে নিজেদের দাবিদাওয়া পেশ করছেন সরকারি কর্মীরা। দেখে নিন পুরো আপডেট।

কর্মী সংগঠনগুলোর ক্ষোভ
কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের বেতন আর পেনশন নিয়ে প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে। অষ্টম পে কমিশনের বৈঠকগুলোও চলছে জোরকদমে। শুধু বেতন বাড়ানো নয়, অবসরের পর আর্থিক নিরাপত্তার দাবিও জোরালো হচ্ছে। বিশেষ করে ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম বা এনপিএস নিয়ে অনেক কর্মী সংগঠনই ক্ষোভ উগরে দিয়েছে। তাদের সাফ দাবি, পুরনো পেনশন স্কিম বা ওপিএস আবার ফিরিয়ে আনতে হবে।

কী করছে অষ্টম পে কমিশন?
২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর অষ্টম পে কমিশন গঠন করে কেন্দ্রীয় সরকার। বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাইয়ের নেতৃত্বে এই কমিশন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের বেতন, ভাতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা খতিয়ে দেখে সুপারিশ করবে। আপাতত দেশজুড়ে কর্মী সংগঠন ও পেনশনভোগীদের মতামত নেওয়ার কাজ চলছে। সেপ্টেম্বরে পুদুচেরি ও চণ্ডীগড়ে বৈঠক হয়েছে। এরপর ৭ ও ৮ অক্টোবর বেঙ্গালুরুতে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
ওপিএস নিয়ে কেন এত চর্চা?
২০০৪ সালের পর চাকরিতে যোগ দেওয়া কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের পেনশন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। এনপিএস হলো কন্ট্রিবিউশন-ভিত্তিক পেনশন ব্যবস্থা। এখানে চাকরিজীবনে কর্মী ও সরকার নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা দেয়। অবসরের পর সেই জমানো টাকা ও বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করে পেনশন মেলে। অন্যদিকে, ওপিএস হলো নির্দিষ্ট সুবিধার পেনশন ব্যবস্থা। এতে অবসরের পর একটা বাঁধা আয়ের নিশ্চয়তা থাকে। আর ঠিক এই কারণেই ওপিএস আর এনপিএস নিয়ে বিতর্ক আবার মাথাচাড়া দিয়েছে।
কর্মী সংগঠনগুলোর মূল দাবি
অষ্টম পে কমিশনের কাছে কর্মী সংগঠনগুলো একগুচ্ছ দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দাবি হলো পুরনো পেনশন স্কিম বা ওপিএস ফিরিয়ে আনা। বেশ কিছু সংগঠন চাইছে, অবসরের আগে পাওয়া শেষ বেতনের ওপর ভিত্তি করে পেনশন ঠিক করা হোক। বিশেষ করে শেষ বেতনের ৫০ শতাংশ যেন পেনশন হিসেবে পাওয়া যায়, সেই দাবিও উঠেছে। পাশাপাশি বর্তমান এনপিএস এবং ইউনিফায়েড পেনশন স্কিম বা ইউপিএস-এও কিছু বদল চাইছেন কর্মীরা।
ন্যূনতম পেনশন নিয়েও দাবি
শুধু পেনশনের নিরাপত্তাই নয়, ন্যূনতম পেনশন বাড়ানোর দাবিও উঠেছে। বেশ কিছু পেনশনভোগী সংগঠন চাইছে, ন্যূনতম পেনশন ৪৫,০০০ টাকা করা হোক। এছাড়া শেষ বেতনের নির্দিষ্ট শতাংশ হারে পেনশন দেওয়ার দাবিও রয়েছে। পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তার পরিবারের সদস্যরা যাতে আর্থিকভাবে সুরক্ষিত থাকেন, তার জন্য ফ্যামিলি পেনশনেও বদল আনার দাবি জানিয়েছে কয়েকটি সংগঠন।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর থেকে পেনশন
অষ্টম পে কমিশনের কাছে শুধু ওপিএস বা এনপিএস নয়, আরও অনেক দাবি জমা পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বেতন নির্ধারণের ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, ন্যূনতম মজুরি, পেনশনে সমতা এবং ন্যূনতম পেনশনের মতো বিষয়গুলো। তাই অষ্টম পে কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের শুধু বেতনেই নয়, অবসরের পর আর্থিক নিরাপত্তাতেও বড় প্রভাব ফেলবে।
এখনই কি চালু হবে ওপিএস?
কর্মী সংগঠনগুলো আপাতত তাদের দাবিদাওয়া ও মতামত জানিয়েছে। অষ্টম পে কমিশন এগুলো খতিয়ে দেখে নিজেদের রিপোর্টে কী সুপারিশ করে, সেটাই এখন দেখার। এরপর কেন্দ্রীয় সরকার ঠিক করবে তারা এই সুপারিশগুলো মেনে নেবে, নাকি কিছু রদবদল করে কার্যকর করবে। তাই এখনই ওপিএস চালু হয়ে যাচ্ছে, এমনটা বলা যাবে না। তবে কর্মী সংগঠনগুলোর এই দাবি যে পে কমিশনের কাছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তা বলাই বাহুল্য।
চূড়ান্ত রিপোর্ট কবে আসবে?
চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য অষ্টম পে কমিশনকে ১৮ মাস সময় দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মে বা জুন মাসের মধ্যে এই রিপোর্ট জমা পড়ার কথা। বেতন, ভাতা আর পেনশন নিয়ে এই রিপোর্টে কী সুপারিশ থাকে, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের মধ্যে প্রবল উন্মাদনা রয়েছে। বিশেষ করে ওপিএস নিয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়, এনপিএস বা ইউপিএস-এ কোনো বদল আসে কি না এবং ন্যূনতম ও ফ্যামিলি পেনশনে কী পরিবর্তন হয়, সেদিকেই এখন সবার নজর।

