APSEZ Haldia Terminal: কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দরের হলদিয়া ডক কমপ্লেক্সের (HDC) মধ্যে অবস্থিত এই টার্মিনালটি HDC বাল্ক টার্মিনাল লিমিটেড কর্তৃক ডিজাইন, বিল্ড, ফিন্যান্স, অপারেট অ্যান্ড ট্রান্সফার (DBFOT) মডেলের মাধ্যমে ৩০ বছরের ছাড়ের অধীনে তৈরি করা হয়েছে।
APSEZ Haldia Terminal: পশ্চিমবঙ্গের বুকে এবার নয়া প্রোজেক্ট আদানি গ্রুপের হাতে। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হার ধরেই উদ্বোধন হল হলদিয়া বাল্ক টার্মিনালের (HBT)। আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি এটি জাতির প্রতি উৎসর্গ করেন (apsez haldia terminal)। বার্ষিক ৪ MMTPA ধারণক্ষমতার শুস্ক বাল্ক কার্গো তথা ড্রাই বাল্ক ফেসিলিটি পরিচালনার জন্য ডিজাইন করা এই টার্মিনালটি হুগলি নদীর উপর একটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম। যেটির সঙ্গে আবার সরাসরি রেলর সংযোগও রয়েছে (haldia terminal adani port)।
কী জানালেন আদানি গ্রুপের কর্তা?
ভারতের পূর্ব সামুদ্রিক করিডোরের মাধ্যমে বাল্ক কার্গো চলাচলের জন্য একটি কাঠামোগত আপগ্রেড বলা চলে। আদানি পোর্টস এবং এসইজেড-এর ডিরেক্টর এবং সিইও অশ্বিনী গুপ্তা জানিয়েছেন, “হলদিয়া বাল্ক টার্মিনাল হল একটি পরবর্তী প্রজন্মের সুবিধা, যা হুগলিতে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় এবং সরাসরি রেল পরিবহনের ব্যবস্থা করতে সক্ষম। যা ভারতের পূর্বদিকের সমুদ্র উপকূলে জেটি ডাম্পিং সমস্যাকে দূর করে এবং উন্নত স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের মাধ্যমে কার্গো পরিবহণ ও বোঝাই করার সময় ক্ষতির সম্ভাবনাকে অনেকটাই কমিয়ে আনে। পরিষ্কার, নিরাপদ এবং আরও টেকসই কার্যক্রমকে নিশ্চিত করতে সক্ষম আমরাও। টার্মিনালটি পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ডের ইন্ডাস্ট্রি সাপ্লাই চেইনকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সেইসঙ্গে, আধুনিক মাল্টিমোডাল পরিকাঠামোর মাধ্যমে সরবরাহ খরচ কমানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দৃষ্টিভঙ্গিকেও সমর্থন করছে।"
কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দরের হলদিয়া ডক কমপ্লেক্সের (HDC) মধ্যে অবস্থিত এই টার্মিনালটি HDC বাল্ক টার্মিনাল লিমিটেড কর্তৃক ডিজাইন, বিল্ড, ফিন্যান্স, অপারেট অ্যান্ড ট্রান্সফার (DBFOT) মডেলের মাধ্যমে ৩০ বছরের ছাড়ের অধীনে তৈরি করা হয়েছে। গত ২০২৩ সালের ১৪ জুলাই থেকে শুরু হয়ে আজ কমিশনিং প্রস্তুতি পর্যন্ত, এটি উপযুক্ত নির্মাণ সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। এটি আবারও সময়মতো APSEZ-এর প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষমতাকেই সবার সামনে তুলে ধরল।
হুগলি নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত এই টার্মিনালটি আমদানি করা কয়লা এবং বিভিন্ন ধরণের শুষ্ক বাল্ক পণ্য পরিচালনা করার জন্য সূসজ্জিত। পূর্ব উপকূল ভারতের শুষ্ক বাল্ক আমদানির প্রায় ৬০%, যার মধ্যে রয়েছে কয়লা, বক্সাইট এবং চুনাপাথর। যা হলদিয়াকে পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ডের ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও বিদ্যুৎ শিল্পের জন্য সবচেয়ে দক্ষ এবং সরাসরি সামুদ্রিক প্রবেশ বন্দর হিসেবে করে তুলেছে। এই ক্ষমতা বৃদ্ধি এই শিল্পগুলির জন্য সরবরাহ খরচ এবং পরিবর্তনের সময়কে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করবে।
নির্মাণ শুরু হওয়ার পর থেকে, APSEZ নিম্নলিখিত পরিকাঠামোগত কাজগুলি সম্পন্ন করেছে। ২,০০০ T রেলওয়ে ওয়াগন লোডিং সিস্টেম (RWLS) স্থাপন এবং ১.৫৪ কিলোমিটার ডেডিকেটেড রেললাইন চালু করা। যা সরাসরি জাহাজ থেকে ট্রেনে পণ্য পরিবহন করতে সক্ষম। পাশাপাশি বিদ্যমান জেটির সংস্কার, উন্নত কনভেয়র সিস্টেম স্থাপন, স্বয়ংক্রিয় স্টকইয়ার্ড ব্যবস্থাপনার জন্য দুটি স্ট্যাকার-কাম-রিক্লেইমার স্থাপন, দ্রুত জাহাজ ছাড়ার জন্য দুটি মোবাইল হারবার ক্রেন যুক্ত করা, RWLS এবং ডেডিকেটেড রেল লাইন হল টার্মিনালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।
হলদিয়া টার্মিনাল এই মুহূর্তে ভারতের প্রধানমন্ত্রী গতিশক্তি জাতীয় মাস্টার প্ল্যানের প্রত্যক্ষ একটি উদাহরণ। এটি এখন একটি মাল্টিমোডাল বন্দর পরিকাঠামোকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরে। দেশের পূর্বাঞ্চলীয় এই বন্দর এখন যথেষ্ট আধুনিক এবং জাতীয় কৌশলগত গুরুত্বকেই প্রতিফলিত করছে।
কী কী সুবিধা থাকছে?
ইনস্টলড ক্যাপাসিটিঃ ৪ এমএমটিপিএ
কার্গো টাইপঃ ড্রাই বাল্ক (কয়লা এবং অন্যান্য পণ্য)
ড্রাফ্টঃ ৮.৫ মিটার
বার্থসঃ ১ (বার্থের দৈর্ঘ্য: ১৯৩ মিটার; এক্সট্রিম মুরিং পয়েন্ট: ৩৩৭ মিটার)
মোবাইল হারবার ক্রেনঃ ২
স্ট্যাকার-কাম-রিক্লেইমার্সঃ ২
রেলওয়ে ওয়াগন লোডিং সিস্টেমঃ ১ ইউনিট (২,০০০ টন ধারণক্ষমতা)
ডেডিকেটেড রেল লাইনঃ ১.৫৪ কিমি
কনভেয়র সিস্টেমঃ ২.১০ কিমি
ছাড়ের সময়কালঃ ৩০ বছর
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।