অ্যান্টি-কাউন্টারফিটিং, অথেনটিকেশন এবং সিকিউরিটি লেবেলিং পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা Holoflex Limited জানিয়েছে, পণ্যের নিরাপত্তা এবং সাপ্লাই চেনের স্বচ্ছতা বাড়াতে প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ওষুধ, প্যাকেটজাত খাদ্য, ব্যক্তিগত পরিচর্যার সামগ্রী এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের FMCG পণ্যে নকল বা জাল পণ্যের অনুপ্রবেশ ক্রমশ বাড়ছে। শিল্পমহলের মতে, এটি আর বিচ্ছিন্ন কোনও সমস্যা নয়; বরং এখন তা সরবরাহ শৃঙ্খল, ব্যবসার আয় এবং ব্র্যান্ডের বিশ্বাসযোগ্যতার উপর বড়সড় প্রভাব ফেলছে।

এই পরিস্থিতিতে অ্যান্টি-কাউন্টারফিটিং, অথেনটিকেশন এবং সিকিউরিটি লেবেলিং পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা Holoflex Limited জানিয়েছে, পণ্যের নিরাপত্তা এবং সাপ্লাই চেনের স্বচ্ছতা বাড়াতে প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
Holoflex-এর ডিরেক্টর মনোজ কোচার বলেন, “আগে নকল পণ্যের সমস্যা মূলত বিলাসবহুল সামগ্রীতে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন তা ওষুধ এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের পণ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রেও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে এর প্রভাব অনেক বেশি গুরুতর। অনেক ক্ষেত্রে মোট আয়ের ২ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতি হচ্ছে। কিছু সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রতি ১০টি পণ্যের মধ্যে একটি পর্যন্ত নকল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি সংস্থাগুলিকে প্রচলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে বহুস্তরীয় প্রযুক্তিনির্ভর অথেনটিকেশন কাঠামো গ্রহণে বাধ্য করছে। ব্র্যান্ড সুরক্ষা এখন আর শুধু নিয়ম মেনে চলার বিষয় নয়, বরং তা কর্পোরেট কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, নকল পণ্যের কারণে প্রতি বছর বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়। একই সঙ্গে সংস্থাগুলিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারি এবং ব্র্যান্ডের সুনামহানির ঝুঁকির মুখেও পড়তে হয়। জালিয়াতদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জটিল সরবরাহ শৃঙ্খল সমস্যাকে আরও কঠিন করে তুলছে।
এই প্রেক্ষাপটে Holoflex সম্প্রতি তাদের EngravionTM প্রযুক্তি চালু করেছে। এর মাধ্যমে অত্যাধুনিক Optically Variable Image Devices (OVD) তৈরি করা সম্ভব, যা সহজে শনাক্তযোগ্য এবং অত্যন্ত নিরাপদ অপটিক্যাল সুরক্ষা বৈশিষ্ট্য প্রদান করে।
সংস্থার আরেক ডিরেক্টর অজিত কুমার সুরানা জানান, বর্তমানে বাজারে এমন সমন্বিত সমাধানের চাহিদা বাড়ছে, যেখানে হোলোগ্রাফি, সুরক্ষিত মুদ্রণ, QR-ভিত্তিক অথেনটিকেশন এবং ট্র্যাক-অ্যান্ড-ট্রেস প্রযুক্তিকে একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়। এর ফলে উৎপাদন থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার উপর নজরদারি রাখা সম্ভব হয়।
তিনি আরও বলেন, “বিশ্বব্যাপী অথেনটিকেশন এবং ব্র্যান্ড সুরক্ষা বাজার আগামী কয়েক বছরে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ যৌগিক হারে বৃদ্ধি পাবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ভারতে ডিজিটালাইজেশন এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলির সক্রিয় ভূমিকার কারণে এই বৃদ্ধির হার আরও বেশি হতে পারে। Holoflex-ও ইতিমধ্যে দ্বিগুণ অঙ্কের প্রবৃদ্ধি প্রত্যক্ষ করছে।”
বর্তমানে সংস্থাটি শুধু হোলোগ্রাফিক লেবেলেই সীমাবদ্ধ নয়। তাদের পরিষেবার মধ্যে রয়েছে ট্যাম্পার-এভিডেন্ট লেবেলিং, ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম, QR ও বারকোড-ভিত্তিক অথেনটিকেশন এবং মোবাইলভিত্তিক ভেরিফিকেশন প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা রিয়েল-টাইমে পণ্যের সত্যতা যাচাই করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল পরিকাঠামোর উন্নয়ন, সরকারি নীতিগত সহায়তা এবং ক্রমবর্ধমান ভোক্তা সচেতনতার কারণে ভারতের অথেনটিকেশন প্রযুক্তি বাজার আগামী দিনে আরও দ্রুত সম্প্রসারিত হবে। ফলে নকল পণ্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানই হয়ে উঠতে পারে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র।


