রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI) গত ৭ ফেব্রুয়ারি, রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট কমিয়েছে। 

বর্তমানে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের রেপো রেট ৬.২৫%। আর তারপরই একাধিক মার্কেট অ্যানালিস্ট মনে করছেন যে, রেট কাটের জেরে ডেট মিউচুয়াল ফান্ডগুলি (Mutual Fund Investment) আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে বিনিয়োগকারীদের কাছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

এমনকি, তারা এও মনে করছেন, এই রেট কাটের ফলে যে সেক্টর উপকৃত হবে, সেই সেক্টরের ডেট ফান্ডেই বিনিয়োগ করতে পারেন বিনিয়োগকারীরা। আর এর ফলে তাদের পোর্টফোলিও ডাইভার্সিফাইও হবে।

মিউচুয়াল ফান্ড বিশেষজ্ঞদের মতে, রেপো রেট কমার ফলে ডেট মিউচুয়াল ফান্ডগুলিতে রিটার্নের হার একটু এদিক ওদিক হতে পারে। তবে তা খুবই সামান্য, খুব একটা বেশি নয়। এছাড়াও যে ঋণপত্রে তারা বিনিয়োগ করে থাকেন, তার দামও বাড়তে পারে। আর ঠিক সেই কারণেই, কিছুটা বাড়তি প্রফিট তাদের পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২০২০ সালের মে মাসের পর, এই প্রথম রেট কাট করল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। তার আগে টানা ১১টি বৈঠকে রেপো রেট ৬.৫ শতাংশই রাখা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, ডিসেম্বরের পলিসি মিটে ক্যাশ রিজার্ভ রেসিও অর্থাৎ, যে পরিমাণ টাকা দেশের ব্যাঙ্কগুলি RBI-এর কাছে জমিয়ে রাখে কিংবা CCR-এর ক্ষেত্রে ৫০ বেসিক পয়েন্ট কমিয়ে তা ৪ শতাংশ করা হয়েছিল।

অপরদিকে বাজারে নগদের জোগান বাড়াতে এবং ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে CCR কমিয়ে ৪ শতাংশ করা হয়েছিল। বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞরা সুপারিশ করছেন ‘বারবেল’কৌশল গ্রহণ করা উচিৎ। সেটা আবার কী? অর্থাৎ, এখন বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদী সিকিওরিটিজ ও স্বল্পমেয়াদি সিকিওরিটিজে বিনিয়োগ করা উচিত বলেই মনে করছেন তারা।

তাছাড়া দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ রিটার্ন পাওয়া সম্ভব এবং স্বল্পমেয়াদী বিনিয়োগের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীর কাছে অর্থের জোগান ও স্থিতিশীলতাও বজায় থাকে। অন্যদিকে, সুদের হার যখন কমে যায়, তখন ডেট ফান্ডগুলির কাছে থাকা বন্ডগুলি আরও মূল্যবান হয়ে ওঠে। বন্ডের দাম এবং বন্ডের সুদ থেকে আয়, একে অপরের সঙ্গে বিপরীত সম্পর্কে যুক্ত থাকে।

মানে বন্ডের দাম বেড়ে গেলে বন্ড থেকে প্রাপ্ত সুদের পরিমাণ আবার কমে যায়। অন্যদিকে, রেপো রেট বেড়ে গেলে তা ডেট মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগকারীদের জন্য খারাপ বলে মনে করা হয়। অর্থাৎ, বন্ড থেকে প্রাপ্ত সুদের হার বেড়ে গেলে সেই ডেট ফান্ডগুলির ন্যাভ কমতে শুরু করে, যা রিটার্নের পরিমাণ অনেকটা কমিয়ে দেয়।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।