RBI Policy: বিশ্বজুড়ে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার আবহেই এবার রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মুদ্রা নীতি কমিটির বৈঠক শুরু হয়েছে। অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে থাকায় এবার রেপো রেটে কোনও বদল হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। সুদের হার না বাড়লে গৃহঋণ নেওয়া গ্রাহকরা স্বস্তি পাবেন।

RBI Policy: বিশ্বজুড়ে মূল্যবৃদ্ধি এবং অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার আবহে আজ থেকে শুরু হল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (RBI) মুদ্রা নীতি কমিটির (MPC) বৈঠক। গত কয়েক মাস ধরে বিশ্বের অনেক বড় বড় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক সুদের হার বাড়ালেও, অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে আরবিআই এবার রেপো রেট অপরিবর্তিত রাখতে পারে। এর প্রধান কারণ হল, বাইরের অনেক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও অন্যান্য দেশের তুলনায় ভারতে মূল্যবৃদ্ধি এখনও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে (RBI Policy)।

রয়টার্সের একটি সমীক্ষায় ৭২ জন অর্থনীতিবিদের মধ্যে ৬৮ জনই বলেছেন যে বুধবারের মুদ্রা নীতি ঘোষণায় সুদের হার একই থাকবে। যদিও এখনই সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা কম, ভবিষ্যতে মূল্যবৃদ্ধি বাড়তে পারে এমন আশঙ্কায় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক আরও সতর্ক অবস্থান নিতে পারে।

ভারতের পরিস্থিতি আলাদা কেন?

পাঁচ মাস আগে ইরানকে কেন্দ্র করে মার্কিন-ইজরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলির কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি সুদের হার বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভ এবং ব্যাঙ্ক অফ জাপান সুদের হারে কোনও পরিবর্তন করেনি। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে, ভারতের অবস্থা বেশ স্থিতিশীল। জুনে মাসে, খুচরো মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে ৪.৩৮ শতাংশে পৌঁছে গেছিল। গত ১৭ মাসের মধ্যে এই প্রথমবার মুদ্রাস্ফীতি আরবিআই-এর ৪ শতাংশ লক্ষ্যের উপরে গেল। তবে এটি এখনও আরবিআই-এর ২ থেকে ৬ শতাংশের নিরাপদ সীমার মধ্যেই রয়েছে। খাদ্য এবং জ্বালানির দাম বাদ দিয়ে যে কোর ইনফ্লেশন বা মূল মুদ্রাস্ফীতি, সেটাও ৪ শতাংশের কাছাকাছি। তাই আরবিআই আরও কিছু তথ্য হাতে পাওয়ার পরেই সুদের হার পরিবর্তনের বিষয়ে ভাবতে চায়। সিটিব্যাঙ্কের চিফ ইন্ডিয়া ইকোনমিস্ট সমীরণ চক্রবর্তী বলেছেন, "মূল মুদ্রাস্ফীতি যদি ৪.৫ শতাংশের উপরে না থাকে, তাহলে ২০২৬ সালের আগে সুদের হার বাড়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।"

গৃহঋণ গ্রাহকদের জন্য তাহলে কী অপেক্ষা করছে?

রেপো রেট অপরিবর্তিত থাকাটা যাঁরা ইতিমধ্যেই গৃহঋণ নিয়েছেন বা বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর। বিশ্বজুড়ে যখন বড়সড় অনিশ্চয়তা চলছে, তখন গৃহঋণের সুদের হার না বাড়াটা নিঃসন্দেহে সুবিধাজনক হবে।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।