- Home
- West Bengal
- Kolkata
- দ্বিতীয় দফার মহারণ: দক্ষিণবঙ্গের ১৪২ আসনে ঘাসফুলের দাপট, কোথায় কোথায় 'গোহারা' হারতে পারে বিজেপি?
দ্বিতীয় দফার মহারণ: দক্ষিণবঙ্গের ১৪২ আসনে ঘাসফুলের দাপট, কোথায় কোথায় 'গোহারা' হারতে পারে বিজেপি?
২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ১৪২টি আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিপত্যের সম্ভাবনা। কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং হাওড়ায় বিজেপির প্রতিকূল পরিস্থিতি এবং তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থীদের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষ বিশ্লেষণ।

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে দ্বিতীয় দফার ১৪২টি আসনই নির্ধারণ করতে পারে আগামীর নবান্ন কার দখলে থাকবে। ২৯ এপ্রিলের এই ভোটে কলকাতা এবং তার সংলগ্ন জেলাগুলোতে তৃণমূলের যে সাংগঠনিক শক্তি, তা বিজেপির কাছে বড় উদ্বেগের কারণ। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই দফার বেশ কিছু আসনে বিজেপিকে 'গোহারা' হারানোর ক্ষমতা রাখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল।
কলকাতা ও সংলগ্ন নগরী: কলকাতার ১১টি আসনের সবকটিতেই তৃণমূলের আধিপত্য অনস্বীকার্য। বিশেষ করে কলকাতা পোর্ট আসনে ফিরহাদ হাকিম, টালিগঞ্জ আসনে অরূপ বিশ্বাস এবং ভবানীপুর আসনে স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয় নিয়ে বিরোধীদের মনেও সংশয় নেই। এই আসনগুলোতে বিজেপির ভোটব্যাঙ্ক গত লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়া বিঁধাননগর ও রাজারহাট এলাকাতেও সুজিত বসু ও অদিতি মুন্সীদের দাপটে বিজেপি কোণঠাসা।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার দুর্ভেদ্য দুর্গ: তৃণমূলের সবচেয়ে শক্তিশালী জেলা দক্ষিণ ২৪ পরগনা, যেখানে ৩১টি আসন রয়েছে। ভাঙড় আসনে সওকত মোল্লা, ক্যানিং পূর্ব আসনে বাহারুল ইসলাম এবং বারুইপুর পশ্চিমে বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রার্থীরা নিজেদের এলাকায় অপ্রতিরোধ্য।
সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক এবং গ্রাম বাংলার মানুষের মধ্যে 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার'-এর প্রভাব এই জেলায় বিজেপিকে খাতা খুলতে বাধা দিতে পারে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার (SIR) আতঙ্ক সংখ্যালঘুদের তৃণমূলের দিকে আরও বেশি সংহত করেছে।
হাওড়া ও হুগলির শিল্পাঞ্চল: হাওড়া জেলার ১৬টি এবং হুগলির ১৮টি আসনে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনগুলোর মজবুত ভিত রয়েছে। হাওড়া মধ্য আসনে অরূপ রায় এবং উলুবেড়িয়া দক্ষিণ আসনে পুলক রায়ের জয় প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। হুগলির সিঙ্গুর আসনে বেচারাম মন্না এবং চন্দননগর আসনে ইন্দ্রনীল সেনের ব্যক্তিগত ক্যারিশমা বিজেপির মেরুকরণের রাজনীতিকে ম্লান করে দিতে পারে।
নদিয়া ও পূর্ব বর্ধমানের সমীকরণ: নদিয়ার ১৭টি আসনে লড়াই হলেও, নবদ্বীপ এবং শান্তিপুর-এর মতো বৈষ্ণবতীর্থগুলোতে তৃণমূলের প্রভাব যথেষ্ট। পূর্ব বর্ধমানের ১৬টি আসনের মধ্যে মন্টেশ্বর ও পূর্বস্থলী-তে তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থীরা বড় ব্যবধানে জয়ের আশা রাখছেন।
তৃণমূলের অনুকূল ফ্যাক্টর: ১. উন্নয়ন ও জনকল্যাণ: 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার', 'কন্যাশ্রী' এবং বিনা পয়সায় রেশন—তৃণমূলের এই তিন অস্ত্র মহিলাদের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়। ২. সংখ্যালঘু মেরুকরণ: ভোটার তালিকায় নাম কাটার বিতর্ক এবং সিএএ (CAA) নিয়ে উদ্বেগ সংখ্যালঘু ভোটকে তৃণমূলের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করেছে। ৩. বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতা: দক্ষিণবঙ্গের এই জেলাগুলিতে বিজেপির নিচুতলার সংগঠন তৃণমূলের তুলনায় অনেক দুর্বল, যা তাদের হারের অন্যতম কারণ হতে পারে।
নির্বাচন কমিশন সন্ধে ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত বাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও, তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি—মানুষের আশীর্বাদ থাকলেই জয় নিশ্চিত। দ্বিতীয় দফার ফলাফলই বলে দেবে, বিজেপি এই 'দক্ষিণ দুয়ারী' লড়াইয়ে কতটা মুখ থুবড়ে পড়বে।

