- Home
- Business News
- আপাতত হচ্ছে না ভারত-মার্কিন Trade Deal বৈঠক, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ১০% শুল্ক নিয়ে জটিলতা
আপাতত হচ্ছে না ভারত-মার্কিন Trade Deal বৈঠক, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ১০% শুল্ক নিয়ে জটিলতা
India-US Trade Deal:ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনার বৈঠক আপাতত স্থগিত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে ১০ শতাংশ বিশ্বব্যাপী শুল্ক চাপানোর পরেই এই সিদ্ধান্ত।সূত্র জানিয়েছে, দুই দেশই খতিয়ে দেখতে সময় নিতে চায়।

বাণিজ্য চুক্তি হচ্ছে না!
ভারত ও আমেরিকার মধ্যে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনার জন্য ওয়াশিংটন ডিসি-তে দুই দেশের মুখ্য আলোচকদের যে বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, তা আপাতত পিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। রবিবার বাণিজ্য মন্ত্রকের সূত্র মারফত এই খবর জানা গিয়েছে।
সময় প্রয়োজন: বাণিজ্য মন্ত্রকের সূত্র
বাণিজ্য মন্ত্রকের এক সূত্র ANI-কে জানিয়েছে, "দুই দেশই মনে করছে যে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং তার প্রভাব খতিয়ে দেখার জন্য কিছুটা সময় নেওয়া দরকার। তাই ভারতীয় মুখ্য আলোচক ও তাঁর দলের প্রস্তাবিত সফর আপাতত স্থগিত রাখা হোক। দুই দেশের সুবিধে মতো নতুন তারিখ ঠিক করা হবে।"
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রভাব
শনিবার ভারত সরকার জানিয়েছিল যে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপের প্রভাব তারা খতিয়ে দেখছে।
বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের একটি বিজ্ঞপ্তি
বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রক একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানায়, "আমরা শুল্ক নিয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের গতকালের রায়টি লক্ষ্য করেছি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এই বিষয়ে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন। মার্কিন প্রশাসন কিছু নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। আমরা এই সমস্ত কিছুর প্রভাব খতিয়ে দেখছি।"
মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়
শুক্রবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের বেশিরভাগ শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে রায় দেয়। এরপরেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রায় সঙ্গে সঙ্গে সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ হারে বিশ্বব্যাপী শুল্ক চাপানোর নির্দেশ দেন।
ভারতের জন্য ১০ শতাংশ শুল্ক!
হোয়াইট হাউসের এক কর্তা ANI-কে জানিয়েছেন যে ভারতকে এই শুল্ক দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, নতুন কোনও আইন না আসা পর্যন্ত এই শুল্ক চালু থাকবে। এর মাধ্যমে তিনি বুঝিয়ে দেন যে আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তিগুলি শরিক দেশগুলি মেনে চলবে বলেই আশা করা হচ্ছে। ভারতকে কি ১০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে এবং এটি কি আগের শুল্কের পরিবর্তে বসবে? এই প্রশ্নের উত্তরে হোয়াইট হাউসের ওই কর্তা বলেন, "হ্যাঁ, ১০ শতাংশ, যতক্ষণ না অন্য কোনও আইন আনা হচ্ছে।"
মার্কিন কর্তার পরামর্শ
হোয়াই হাউসের কর্তা সমস্ত বাণিজ্য শরিকদের চুক্তি মেনে চলার পরামর্শও দেন। মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটে রায় দেয় যে ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৭ সালের 'ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট' (IEEPA) ব্যবহার করে শুল্ক চাপিয়ে নিজেদের আইনি ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন করেছে।
ট্রাম্পের বার্তা
সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে "ভয়ংকর সিদ্ধান্ত" বলে ট্রাম্প ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ১২২ নম্বর ধারা অনুযায়ী ১০% বিশ্বব্যাপী শুল্ক চাপানোর জন্য একটি এগজিকিউটিভ অর্ডার সই করেন। এই আইন অনুযায়ী, ব্যালেন্স অফ পেমেন্টের ঘাটতি মেটাতে সাময়িকভাবে (১৫০ দিনের জন্য ১৫% পর্যন্ত) আমদানি শুল্ক বসানো যায়।
ভারত মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি
উল্লেখ্য, গত ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও আমেরিকা একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির কাঠামো নিয়ে সহমত হয়েছিল। এই কাঠামোর লক্ষ্য ছিল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির (BTA) আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, যার মধ্যে আরও বেশি বাজার পাওয়ার সুযোগ এবং সাপ্লাই চেনকে মজবুত করার মতো বিষয়গুলিও রয়েছে।
ভারত মার্কিন বিবাদ
যদিও ভারত মার্কিন বিবাদ শুরু হয়েছে রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে। মার্কিন নির্দেশ অমান্য করেই মোদী সরকার রাশিয়া থেকে তেল কিনছিল। কিন্তু বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার পরে মোদী সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারি কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি।

