আনন্দ রাঠির একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৭ অর্থবর্ষ থেকে ভারতের আইটি কোম্পানিগুলির ব্যবসায় বড়সড় লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, বিশ্বজুড়ে সংস্থাগুলি এখন AI পরিকাঠামো তৈরির বদলে সেটিকে ব্যবসায়িক কাজে লাগানোর দিকে ঝুঁকছে। আর এই নতুন কাজের সুযোগ পাবে ভারতীয় সংস্থাগুলিই।

আনন্দ রাঠির একটি সেক্টর রিপোর্ট বলছে, ২০২৭ অর্থবর্ষ থেকে ভারতের আইটি সার্ভিস কোম্পানিগুলোর ব্যবসায় দারুণ গতি আসতে পারে। এর কারণ হলো, বিশ্বজুড়ে টেকনোলজি সংস্থাগুলো এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) পরিকাঠামো তৈরির বদলে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে AI ব্যবহারের দিকে বেশি নজর দিচ্ছে।

সার্ভিস-নির্ভর ব্যবসায় AI-এর মোড়

রিপোর্টে বলা হয়েছে, AI-তে বিনিয়োগের চক্রটা এখন 'সক্ষমতা তৈরি' থেকে সরে 'লাভ প্রমাণ' করার দিকে এগোচ্ছে। এই পর্যায়টা মূলত সার্ভিস-নির্ভর হবে, যা ভারতীয় আইটি কোম্পানিগুলোর জন্য লাভজনক। কারণ টেকনোলজি সার্ভিসে তাদের দক্ষতা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত। আনন্দ রাঠি জানাচ্ছে, "আমাদের মূল থিসিস হলো, AI চক্রটি 'সক্ষমতা তৈরি' থেকে 'আসল লাভ দেখানোর' দিকে মোড় নিচ্ছে।"

ব্রোকারেজ সংস্থাটি আশা করছে, গত কয়েক বছর ধরে আটকে থাকা কাজগুলো ২০২৭ অর্থবর্ষ থেকে ভারতীয় কোম্পানিগুলোর কাছে আসতে শুরু করবে। কারণ জেনারেটিভ AI এখন পরীক্ষানিরীক্ষার স্তর পেরিয়ে সংস্থাগুলোতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতে চলেছে। এই ট্রেন্ড ২০২৮ ও ২০২৯ সালে আরও বাড়বে, যা আইটি সার্ভিস সেক্টরের জন্য বেশ কয়েক বছরের একটা গ্রোথ সাইকেল তৈরি করতে পারে।

বাজারের সুযোগ বাড়াবে AI

রিপোর্ট বলছে, গত প্রায় তিন বছর ধরে আইটি সেক্টর বেশ কিছু সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। যেমন, সংস্থাগুলো টেকনোলজিতে কম খরচ করছে, ডিল ফাইনাল হতে দেরি হচ্ছে। একটা ভয়ও ছিল যে AI আসায় হয়তো চিরাচরিত আইটি সার্ভিসের চাহিদা কমে যাবে।

কিন্তু রিপোর্ট জানাচ্ছে, ব্যাপারটা ঠিক উল্টো। AI বরং বাজারকে আরও বড় করছে, ছোট নয়। কারণ AI ব্যবহার করতে গেলে ডেটা তৈরি, সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন, গভর্নেন্স, পুরনো টেকনোলজি আপগ্রেড, সাইবার সিকিউরিটি এবং AI এজেন্ট ম্যানেজমেন্টের মতো কাজে আরও বেশি খরচ করতে হবে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, "AI বাজারকে সংকুচিত করার বদলে আরও প্রসারিত করছে।" এর ফলে AI ডেপ্লয়মেন্ট, ডেটা অপটিমাইজেশন এবং AI অপারেশনসের মতো নতুন ক্ষেত্রে ভারতীয় আইটি কোম্পানিগুলোর জন্য কাজের সুযোগ তৈরি হবে।

বিশ্বের প্রথম সারির টেকনোলজি সংস্থাগুলো AI পরিকাঠামো তৈরিতে বিপুল টাকা খরচ করছে। আনন্দ রাঠির মতে, প্রথম পাঁচটি হাইপারস্কেলার সংস্থার মোট মূলধনী ব্যয় প্রায় ৮২৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে। স্বাভাবিকভাবেই, সংস্থাগুলোর বোর্ড এবং চিফ ফিনান্সিয়াল অফিসাররা এখন এই বিপুল বিনিয়োগের রিটার্ন দেখতে চাইছেন।

আয়ের পরিসংখ্যান ও ঝুঁকি

ইতিমধ্যেই ভারতীয় আইটি কোম্পানিগুলো AI সার্ভিস থেকে আয় করতে শুরু করেছে। যেমন, টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (TCS) জানিয়েছে, AI থেকে তাদের বার্ষিক আয় ২.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ইনফোসিসের মোট আয়ের ৮.২ শতাংশ আসছে AI সার্ভিস থেকে। HCLTech এবং LTIMindtree-ও AI থেকে ভালো আয় করছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে, আনন্দ রাঠি কিছু ঝুঁকির কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে। যেমন, AI-এর কারণে আইটি সার্ভিসের দামে চাপ আসতে পারে, বিশ্ব অর্থনীতির অবস্থাও খুব একটা ভালো নয়। এছাড়া, সংস্থাগুলো উচ্চমানের AI-এর কাজে যাওয়ার আগেই অটোমেশনের কারণে হয়তো নিচুস্তরের আইটি কাজগুলো কমে যেতে পারে।