আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের আরও এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা। যার জেরে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আয়কর রিটার্নের সময়সীমা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময় বৃদ্ধির সুবিধা যেমন আযকরদাতারা ব্যক্তিগত আয়-ব্যয়-এর হিসাব জমা করার ক্ষেত্রে পাবেন, তেমনি ব্যবস্যায়িক ক্ষেত্র থেকে নানা ধরনের আয়-ব্যায়ের হিসাবেও মিলবে এই সুযোগ। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের জন্য যে অতিমারি চলছে, তার জেরেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক।  

আরও পড়ুন- করোনা আবহে জিএসটি সংগ্রহে রেকর্ড, গত ছয় মাসে অগাস্টে সর্বোচ্চ কর আদায়

কেন্দ্রীয় অর্থ-মন্ত্রক যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, তাতে জানিয়েছে যে, ব্যক্তিরা তাদের আয়কর প্রদানের হিসাবের রিটার্ন যা ইনকামট্যাক্স অ্যাক্ট ১৯৬১ অনুযায়ী ২০২০ সালের জুলাই মাসের মধ্যে জমা করতে হয় তাতে ফের ডিউট ডেট বা রিটার্ন জমা করার মেয়াদ বাড়িয়েছে। এর ফলে ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ সালের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা করা যাবে। 

এর আগে অবশ্য মে মাসেই কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়ে দিয়েছিল, আয়কর রিটার্ন জমা করার তারিখ ৩১ জুলাই থেকে বাড়িয়ে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত করার। নতুন করে যে বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে তাতে এও জানানো হয়েছে, যে সব আয়করদাতার অ্যাকাউন্টস অডিট করার পর রিটার্ন জমা পড়ে, তাদের ক্ষেত্রে রিটার্ন জমা  করার তারিখ আইন মোতাবেক ৩১ অক্টোবর। কিন্তু, এই তারিখের মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে। যার ফলে যেসব আয়করদাতা এই ধরনের রিটার্ন জমার ক্ষেত্রে বিচার্য তারা ৩১ জানুয়ারি, ২০২১ পর্যন্ত রিটার্ন জমা করার সুবিধা পাবেন। এমনকী, যেসব আয়করদাতার পার্টনারও এইসব রিটার্ন জমা করার ক্ষেত্রে যৌথভাবে জড়িত, তারাও এই সুযোগ পাবে।  

আরও পড়ুন- সারদাকাণ্ডে নতুন চমক, একাই ২৬০ কোটি টাকা জমা দিয়েছিলেন এক জনপ্রতিনিধি

যে আয়করদাতাকে কোনও আন্তর্জাতিক বা অন্তর্দেশীয় লেনদেন-এর নির্দিষ্ট রিপোর্টের ভিত্তিতে রিটার্ন তৈরি করতে হয়, তাদের ক্ষেত্রে আগেরবার রিটার্ন জমা করার মেয়াদ ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছিল। নতুন বিজ্ঞপ্তিতে এই মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।  

আরও পড়ুন- ধার করেই চলছে কেন্দ্রের সংসার, সংসদে অর্থমন্ত্রীর স্বীকারোক্তিতে চাপে মোদী সরকার

যে সব আয়করদাতাকে বিভিন্ন ধরনের রিপোর্টের ভিত্তিতে রিটার্ন তৈরি করতে হয়, যেমন- ট্যাক্স অডিট রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক ও অন্তর্দেশীয় লেনদেন, তাদের ক্ষেত্রেও রিটার্ন জমা করার তারিখ ৩১ ডিসেম্বর, ২০২০। 

সেলফ অ্যাসেসমেন্ট ট্যাক্সের ক্ষেত্রে ছোট এবং মাঝারি আয়করদাতারাও স্বস্তি পেয়েছেন। কারণ এদের ক্ষেত্রেও রিটার্ন জমা করার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে, এই বিজ্ঞপ্তি-কে কেন্দ্র জানিয়েছে, যে সব আয়করদাতা এখনও তাদের আয়কর প্রদান করেননি এবং যাদের ১ লক্ষ টাকারও বেশি সেলফ অ্যাসেসমেন্ট ট্যাক্স জমা করতে হবে, তাদের একটা জিনিস মনে রাখতে হবে যে নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে আয়কর জমা না করলে তাদের রিটার্ন ফাইলে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করতে হতে পারে। 

আয়কর-এর সঙ্গে সঙ্গে ২০১৮-২০১৯ সালের জিএসটি রিটার্ন জমা করার ক্ষেত্রেও সময়সীমা ২ মাস বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর করে দেওয়া হয়েছে। যাদের ব্যবসায়িক বার্ষিক আয় ২ কোটি টাকা তাদের জিএসটি-র বার্ষিক রিটার্ন জমা করা বাধত্যামূলক। যারা ব্যবসা থেকে বছরে ৫কোটি টাকা আয় করেন তাদের ক্ষেত্রে জিএসটি-র রিকনসাইলেশন স্টেটমেন্ট-এর সুবিধা থাকবে।