পেনশনভোগীর মাসিক পেনশন উল্লেখযোগ্য ভাবে কম ঢুকছিল। মামলার আবেদনে দাবি করা হয়, কোথাও কোথাও পেনশনের পরিমাণ ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে মাসে প্রায় ২৮ হাজার টাকা পর্যন্ত কম দেওয়া হচ্ছিল…

উচ্চ বেতনের ভিত্তিতে পেনশনের জন্য যাঁদের অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই অর্থ জমা পড়েছে, তাঁদের পেনশন আনুপাতিক হারে কমানো যাবে না। এমনই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। EPFO-র ২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্দেশিকাকে বেআইনি ঘোষণা করে তা খারিজ করেছে আদালত। বিচারপতি শম্পা দত্ত (পাল)-এর সিঙ্গল বেঞ্চ জানিয়েছে, ২০১৬ সালের সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী উচ্চ বেতনের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট পেনশনভোগীদের পেনশন নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে পেনশনের যে বকেয়া রয়েছে, তা আইন অনুযায়ী সুদ-সহ মেটাতে হবে বলেই নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

কী নিয়ে বিতর্ক?

এয়ারপোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (AAI)-র উচ্চ বেতনের পেনশনভোগীদের তরফে ‘সবদারনগর এডুকেশন অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ এবং আরও বেশ কয়েক জন এই মামলা দায়ের করেন। মামলাকারীদের অভিযোগ ছিল, ২০১৪ সালের ১ সেপ্টেম্বরের সময়সীমাকে ভিত্তি করে EPFO পেনশনের হিসাব পরিবর্তন করছিল। অবসরের আগের শেষ ৬০ মাসের গড় বেতনের ভিত্তিতে পেনশন নির্ধারণের পরিবর্তে ‘প্রো-রাটা’ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছিল। এর ফলে অনেক পেনশনভোগীর মাসিক পেনশন উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে যাচ্ছিল। মামলার আবেদনে দাবি করা হয়, কোথাও কোথাও পেনশনের পরিমাণ ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে মাসে প্রায় ২৮ হাজার টাকা পর্যন্ত কম দেওয়া হচ্ছিল।

EPFO-র যুক্তি খারিজ আদালতের

পেনশন তহবিলে ঘাটতি এবং সকলের ক্ষেত্রে সমতা বজায় রাখার যুক্তি দেখিয়েছিল EPFO। কিন্তু সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি কলকাতা হাই কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে EPS-এর নিয়মে যে সংশোধন করা হয়েছিল, সেখানে উচ্চ বেতনভোগী কর্মীদের ক্ষেত্রে বিকল্প বেছে নেওয়ার পর ‘প্রো-রাটা’ পদ্ধতিতে পেনশন কমানোর কোনও উল্লেখ নেই। ফলে সেই সংশোধনীকে উপেক্ষা করে EPFO-র জারি করা ২০২৪ সালের সার্কুলারকে এক্তিয়ার-বহির্ভূত বলে উল্লেখ করেছে আদালত।

পেনশনভোগীদের জন্য কী অর্থ এই রায়ের?

এই রায়ের ফলে উচ্চ বেতনের ভিত্তিতে পেনশনের দাবিদারদের ক্ষেত্রে আগের নিয়ম অনুযায়ী পেনশন নির্ধারণের পথ খুলল। যাঁদের ক্ষেত্রে ‘প্রো-রাটা’ পদ্ধতিতে পেনশন কমানো হয়েছিল, তাঁদের বকেয়া অর্থও আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী সুদ-সহ মেটাতে হবে। মামলাকারী সংগঠনের দাবি, শুধু AAI নয়, দেশের বিভিন্ন জায়গায় উচ্চ বেতনের পেনশনভোগীরা একই ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছেন। কলকাতা হাই কোর্টের এই রায়ের প্রভাব বৃহত্তর ক্ষেত্রেও পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।