গত ৫ বছর ধরে যারা মিউচুয়াল ফান্ডে এসআইপি করছেন, তাদের রিটার্ন এখন ফিক্সড ডিপোজিটের (FD) চেয়েও খারাপ অবস্থায়। শেয়ার বাজারের এই পতন চলতে থাকলে বিনিয়োগকারীদের লোকসান আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বাজার বিশ্লেষক অম্বরীশ বালিগা।
মিউচুয়াল ফান্ডের এসআইপি-তে (SIP) যারা গত পাঁচ বছর ধরে টাকা রাখছেন, তাদের লাভ হয়তো ফিক্সড ডিপোজিটের (FD) চেয়ে খুব একটা বেশি হয়নি। শেয়ার বাজারের এই খারাপ দশা যদি আরও কিছুদিন চলে, তাহলে রিটার্নের অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে। এমনটাই মনে করছেন স্বাধীন বাজার বিশ্লেষক অম্বরীশ বালিগা।
এএনআই-কে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে বালিগা বলেন, শেয়ার বাজারের এই টানা পতন বিনিয়োগকারীদের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে। বিশেষ করে যারা বাজার পড়লেই আরও বেশি করে টাকা ঢেলেছেন, তারাও এখন হতাশ।
তিনি বলেন, "এসআইপি-র সাম্প্রতিক ডেটা দেখলেই বুঝবেন। গত পাঁচ বছরে যারা মিউচুয়াল ফান্ডে এসআইপি করেছেন, আমার মনে হয় না তারা এফডি-র সুদের চেয়ে বেশি কিছু পেয়েছেন। বাজার যদি আরও কিছুদিন এমন থাকে, তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।"
ভারতীয় শেয়ার বাজার এখন বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম, মূল্যবৃদ্ধি, টাকার দাম কমে যাওয়া, সুদের হার বৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে সাপ্লাই চেইনে সমস্যার কারণে বিনিয়োগকারীরা চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। ঠিক এই সময়েই বালিগার এই মন্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
তিনি দেশের অর্থনীতির জন্য দুর্বল বর্ষাকেও একটা বড় ঝুঁকি বলে মনে করছেন।
বালিগা জানান, আগে যারা বাজার নিয়ে আশাবাদী ছিলেন এবং দাম কমলেই শেয়ার কিনছিলেন, তারাও এখন অনেক বেশি সতর্ক। কারণ, টাকা ঢালার পরেও শেয়ারের দাম ক্রমাগত পড়েই চলেছে।
তাঁর কথায়, “বাজার নিয়ে যারা খুব পজিটিভ ছিলেন, তারা প্রতি পতনেই অ্যাভারেজ করছিলেন। কিন্তু এখন তারাও ক্লান্ত। কারণ, প্রতিবার অ্যাভারেজ করার পরেও দেখা যাচ্ছে শেয়ারের দাম আরও নিচে নামছে।” বাজার আরও পড়ার আশঙ্কা থাকলেও, বালিগার মতে বর্তমান ভ্যালুয়েশন বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। তবে বারবার বাজার পড়ার কারণে নতুন করে টাকা ঢালার আগে বিনিয়োগকারীরা এখন কোনও পজিটিভ খবরের অপেক্ষায় আছেন। তিনি বলেন, "ভ্যালুয়েশন এখন বেশ লোভনীয়। কিন্তু সাধারণত শেয়ার কেনার জন্য বেশিরভাগ মানুষই কোনও একটা ভালো খবরের অপেক্ষা করেন।" তবে আপাতত সেরকম কোনও পজিটিভ খবর চোখে পড়ছে না, বরং বেশিরভাগ খবরই নেতিবাচক বলে তিনি জানান।
বালিগা পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিকে একটা বড় চিন্তার কারণ হিসেবে দেখছেন। কারণ, অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লে মূল্যবৃদ্ধি বাড়ে, যা সুদের হারের ওপর চাপ ফেলে। এর সঙ্গে টাকার দাম কমে যাওয়া এবং সাপ্লাই চেইনের সমস্যা বাজারের বিপদ আরও বাড়াচ্ছে। তিনি বেশ কয়েকটি রাজ্যে দুর্বল বর্ষার কারণে তৈরি হওয়া ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেন। বালিগা সতর্ক করে বলেন, এই পরিস্থিতির কারণে খুব শিগগিরই মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও বাড়তে পারে। তিনি বাজারের পুরনো ট্রেন্ডের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, বিনিয়োগকারীদের সেন্টিমেন্ট যখন একদম তলানিতে গিয়ে ঠেকে, ঠিক তখনই সাধারণত বাজার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। তবে এবার বাজার ঠিক কী কারণে ঘুরে দাঁড়াবে, তা এখনও অনিশ্চিত।
পশ্চিম এশিয়ার সমস্যার সমাধান হলে সেটা একটা পজিটিভ দিক হতে পারে। তবে সেটাই বাজারকে টেনে তুলবে, নাকি অন্য কোনও খবর, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
আইটি (IT) সেক্টর নিয়ে বালিগা জানান, ভারতীয় আইটি কোম্পানিগুলোর ওপর মার্কিন সরকারের গ্রিন কার্ড স্থগিতের সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে ক্ষতি করতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এটা লাভজনকই হবে, কারণ এর ফলে আরও বেশি কাজ ভারতে চলে আসবে।
মার্কিন সরকারের নির্দেশে নাম থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সাময়িক অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। এর প্রভাব তাদের কাজ এবং লাভের ওপরও পড়তে পারে। বালিগা বলেন, “আমি বিষয়টাকে এভাবেই দেখছি যে, ওই নির্দেশে যে আইটি কোম্পানিগুলোর নাম রয়েছে, তাদের জন্য এটা সাময়িক বা মাঝারি মেয়াদের জন্য একটা নেতিবাচক খবর।” তবে তিনি মনে করেন, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে কোম্পানিগুলো আমেরিকা থেকে আরও বেশি কাজ ভারতে সরিয়ে আনতে বাধ্য হবে। এতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের খরচও কমবে। তাঁর মতে, এই পরিবর্তনটা রাতারাতি হবে না, বরং আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে এর প্রভাব দেখা যাবে। (এএনআই)
