পূর্ব বেহাল কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে দৃঢ়কণ্ঠে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রত্না চট্টোপাধ্যায়ের নাম ঘোষণা করলেন। একটা সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যান্ত অনুগত ছিলেন তাঁর স্বামী শোভন চট্টোপাধ্যায়। ২০১১ ও ২০১৬র নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েই বিধানসভায় গিয়েছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়।  কিন্তু তিনি দল ছাড়ার পর থেকেই পূর্ব বেহালে কেন্দ্র ধীরে ধীরে প্রভাব বাড়ছিল রত্না চট্টোপাধ্যায়। অনেক দিন ধরেই শোভন চট্টোপাধ্যায়ের ওয়ার্ডের দায়িত্ব পেয়েছেলিন। এবার তাঁকে প্রার্থী করা হল শোভন চট্টোপাধ্যায়ের কেন্দ্র পূর্ব বেহালার। 

সূত্রের খবর আগেই নাকি তৃণমূল নেত্রী প্রার্থী হওয়ার জন্য তৈরি থাকতে নির্দেশ দিয়েছিল রত্না চট্টোপাধ্যায়কে। তবে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে নিষেধ করা হয়েছিল দলের পক্ষ থেকে। নির্দেশ পাওয়ার পরেই রত্না চট্টোপাধ্যায় বিধানসভা ভোটে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন। তবে আগেই তিনি জানিয়েছিলেন দল যা বলবে তা তিনি মাথা পেতে নেবেন।

সুশান্ত সিং রাজপুত মাদক মামলার চার্জশিট দাখিল, ১২ হাজার পাতার চার্জশিটে নাম রয়েছে রিয়ার ...

'খেলা হবে জেতা হবে', তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে আত্মবিশ্বাসী মমতা জানিয়ে দিলেন ...

বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর গভীর বন্ধুত্ব ও তৃণমূল ত্যাগ- সব মিলিয়ে ধীরে ধীরে রত্না চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্কে চিড় ধরছিল শোভন চট্টোপাধ্যায়ের। তাঁদের দাম্পত্য বিবাদ বর্তমানে আদালতের কাঠগড়ায়। এই অবস্থায় শোভন চট্টোপাধ্যায়কে যদি ওই কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী করে তাহলে গোটা রাজ্যই দেখবে ভোটের নতুন লড়াই। সেখান সমুখ সমর হবে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে। যদিও শোভন চট্টোপাধ্যায় এই কেন্দ্র থেকে বিজেপির হয়ে লড়াই করবেন কিনা তা এখনও নিশ্চত নয়। বিজেপি এখনও প্রার্খী তালিকা প্রকাশ করেনি। 

২০১৯ সালের ১৮ অগাস্ট শোভন চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে গিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তারপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রত্না চট্টোপাধ্যায়কে তাঁর স্বামীর ছেড়ে যাওয়া সমস্ত দায়িত্ব নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেইমত তৈরি হচ্ছিলেন রত্নাও। তাই বিধানসভা ভোটে প্রার্থী তালিকায় বেহালা পূর্ব কেন্দ্র থেকে তাঁর নাম থাকা খুব একটা নতুন বিষয় নয় তাঁর কাছে। বর্তমানে ওই কেন্দ্রে তাঁর প্রভাব যথেষ্টই বাড়ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। দিন কয়েক আগে বেহালায় প্রচারে গিয়েছিলেন শোভন ও বৈশাখী। সেখানে তাঁদের কালো পাতাকা দেখান হয়েছিল।