নিজের পাড়া ছেড়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে চাইছেন অন্যত্র। আর থাকতে চান না নিজের হাতে তৈরি করা বাড়িতে। করুণ সুরেই কথাগুলি বললেন ৬১ বছরের প্রৌঢ়। বাড়ি বিক্রির বিজ্ঞাপনও ঝুলিয়েদিয়েছেন ইতিমধ্যে। কিন্তু কী এমন হল যে নিজের সাধের বাড়িটাই বিক্রি করে দিতে চাইছেন। যা শুনলে আবারও মনে করিয়ে দেবে সেই নার্স আর চিকিৎসকদের কথা। যাঁরা করোনা যুদ্ধের সৈনিক বলে এক রবিবার গোটা দেশে তাঁদের স্বাগত জানিয়ে তালি অথবা থালা বাজিয়ে ছিল। কিন্তু সেই থালা বাজানো প্রতিবেশী বা বাড়ির মালিকই তাঁদের যুদ্ধভূমি থেকে বিশ্রামের জন্য ফিরতে নিষেধ করেছিল। সংক্রমণের আশঙ্কায় রাতের অন্ধকারেই বাড়ি থেকে বার করে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। আর এই প্রৌঢ়ের গল্পও তাঁদের সঙ্গে মিলে যায়। 
 
তফাৎ শুধু একটু। ওঁরা করোনা যুদ্ধের সৈনিক হয়ে আক্রান্তদের সুস্থ করে বাড়ি পাঠাতে মরিয়া ছিলেন। আর মধ্যপ্রদেশের শিবপুরীর বাসিন্দা এই প্রৌঢ়ের ৩৪ বছরের ছেলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন। বর্তমানে তাঁর ছেলে অবশ্য সুস্থ। দুবাই ভ্রমণের পূর্ব ইতিহাস রয়েছে আক্রান্তের। ১৮ই মার্চ দেশএ ফিরেছেন।  করোনাভাইরাস আক্রান্ত হওায় হওয়ার পর স্বাস্থ্য বিধি মেনেই চিকিৎসা হয়েছে ছেলের। আক্রান্ত কোয়ারেন্টাইনেই ছিলেন। কিন্তু সেই সময় থেকেই আক্রান্তের পরিবারের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে দিয়েছিল প্রতিবেশীরা। পথ চলতি মানুষও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের এড়িয়ে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যেই দুধওয়ালা ও সবজিওয়ালাকে তাঁদের বাড়িতে যেতে নিষেধ করে দিয়েছে প্রতিবেশীরা। অভিযোগ করেন আক্রান্ত। আক্রান্তের বাবা আরও জানিয়েছেন রোজ রাতেই কয়েকজন প্রতিবেশী তাঁদের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে গোটা পরিবারকেই শাপান্ত করতে থাকে। তাই বাড়ি বিক্রি করে অন্যত্র চলে যেতে চান তাঁরা। 

আরও পড়ুনঃ স্যানিটাইজারের চাহিদা মেটাতে গিয়ে মৃত্যু ২ শ্রমিকের, মহারাষ্ট্রের রাসায়নিক কারখানায় বিস্ফোরণ
আরও পড়ুনঃ লকডাউনের মধ্যেই এইচডিএফসির শেয়ার অধিগ্রহণ চিনের ব্যাঙ্কের, দেশের কর্পোরেট সংস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ
আরও পড়ুনঃ দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, কী করে সেখানে উল্টো ছবি দেখাচ্ছে কেরল
আক্রান্ত জানিয়েছেন এখনও স্থানীয় স্বাস্থ্য দফতর নিয়মিত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে । প্রয়োজনী  ওধুষও খাচ্ছেন তিনি। কিন্তু তারপরেও প্রতিবেশীদের হেনস্থা মনবল ভেঙে দিয়েছে তাঁর। একই অভিযোগ একটি বেসরকারি বিমান সংস্থারও। বিদেশ যাত্রার পূর্ব ইতিহাস থাকায় দিল্লি ও নয়ডাকে তাঁদের সংস্থার কর্মীদের হেনস্থা করা হচ্ছে। অন্যদিকে মধ্যপ্রদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৬২। গোটা দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার। এখনও পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৩০০ জনের।