গোটা দেশে করোনাসংক্রমণের ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। এর মধ্যে দিল্লির  নিজামুদ্দিন এলাকা উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসনের। ধর্মীয় সমাবেশে যোগদানের পর এখানে একসঙ্গে ছিলেন দুই হাজারেরও বেশি মানুষ। এদের মধ্যে ৬০০ বেশি মানুষকে ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে। বাকিদের পাঠান হয়েছে কোয়ারেন্টাইনে। দক্ষিণ দিল্লির এই এলাকা এখন পুরোটাই করোনা সংক্রমিত বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১২৮ জনের শরীরে সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেওয়া হবে তা নিয়ে চিন্তায় দিল্লি সরকার। এর মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী কেজিরওয়ালের ব্লাড প্রেশার আরও বারিয়ে দিয়েছে সফদরজং হাসপাতালের দুই চিকিৎসকের করোনা সংক্রমমের ঘটনা। বুধবার ওই চিকিৎসকের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে বলে জানা গেছে। এর আগে মঙ্গলবারই রাজধানীর মহল্লা ক্লিনিকের এক চিকিৎসক কোভিড ১৯ রোগে আক্রান্ত হন। গত সপ্তাহে আরেক মহল্লা চিকিৎসকের শরীরেও মেলে ভাইরাস। একের পর এক চিকিৎসকের এভাবে করোনা সংক্রমণেনর ঘটনায় বুধবার এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল।

প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন ওঁরা, সাফাইকর্মীদের পুষ্পবৃষ্টি করে শ্রদ্ধা জানালো পঞ্জাব

দেশবাসীর মঙ্গল কামনায় হিন্দু ধর্মের ওম মন্ত্র জপছেন স্পেনের চিকিৎসকরা, ভাইরাল ভিডিও

মারণ করোনা বাসা বাঁধেনি তো শরীরে, নিশ্চিত হতে এবার ঘরে বসেই করা যাবে পরীক্ষা

করোনা আক্রান্তদের নিরন্তর সেবা করে চলেছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। তাঁদের সংস্পর্শে আসায় অনেকেই আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন এই মারণ ভাইরাসে। সাফাই কর্মীরও নিজেদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কাজ করে চলেছেন। এই অবস্থায় কেজরিওয়াল ঘোষণা করলেন, করোনা আক্রান্তের চিকিৎসা করতে গিয়ে যদি কোনও স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যু হয় তাহলে তার পরিবারকে ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে দিল্লি সরকার ৷ চিকিৎসক, নার্স , সাফাইকর্মী সকলের ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য বলে জানিয়েছেন তিনি ৷

 

 

এদিন দিল্লির চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করেন কেজরিওয়াল। সেখানেই তিনি বলেন, "আপনাদের অবদান যুদ্ধে যাওয়া সৈনিকদের থেকে কিছু কম নয়...যদি কোনো স্বাস্থ্য কর্মীর, তিনি সরকারি অথবা বেসরকারি সংস্থারই হোন না কেন, নার্স এবং সাফাই কর্মীরা, করোনা আক্রান্তের সেবা করতে গিয়ে মারা গেলে, সরকার তাঁর পরিবারকে ১ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্য করবে।"

এদিকে করোনাভাইরাসের গোষ্ঠী সংক্রমণ যাতে না ছড়িয়ে পড়ে তারজন্য দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণা করেছে ভারত সরকার। এই কঠিন পরিস্থিতিতে দেশের খেটে খাওয়া গরিব মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। যদিও তাদের জন্য কেন্দ্র ও রাজ্যের তরফে বিভিন্ন পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এদিকে সংক্রমণ আটকাতে একমাত্র উপায় মানুষকে গৃহবন্দি রাখা। ২১ দিনের এই লকডাউনে বিভিন্ন রাজ্যের পরিস্থিতি কেমন তা জানতে বৃহস্পতিবার ফের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন প্রধানমন্ত্রী।