পঞ্জাবে শিখ ধর্মগুরুর ধর্মসভা হোক কি দিল্লির মার্কাজ নিজামুদ্দিনে তাবলিগি জামাত সদস্যদের জমায়েত - বারবারই করোনা-যুদ্ধে ভারতে পিছনে টেনে ধরছে ধর্ম। বৃহস্পতিবার ছিল রাম নবমী। হিন্দুদের এই উৎসবের দিনে ফের ধর্মের হাতে বিজ্ঞানের পরাজিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছিল। আশঙ্কা সত্যি করে দেশের অনেক জায়গাতেই রামনবমী উপলক্ষ্যে হয়েছে জমায়েত, মেলা। এমনকী কোথাও কোথাও খোদ শাসক দল বিজেপির কর্মীদেরই যজ্ঞ আয়োজন করতে দেখা গিয়েছে। অযোধ্য়ার সাধুরাও সরায়ুতে ডুব দিতে না পেরে ক্ষুব্ধ যোগী ও মোদীর উপর।

সাধারণত, এই উৎসবের দিনটিতে অযোধ্যায় রাস্তা ভরে যায় সারা দেশ থেকে আসা রামভক্তদের ভিড়ে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অযোধ্যায় রামমন্দির নির্মাণ হওয়া নিশ্চিত হওয়ার পর এইদিন অযোধ্যায় আরও সমারোহে পালিত হওয়ার কথা ছিল রামনবমী। কিন্তু, বাধ সেধেছে সেই করোনা। বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস সঙ্কটের মধ্যে মোদী বা যোগী কোনও সরকারই রামভক্তদের প্রভু রামের আশ্রয়ে ছেড়ে দিতে ভরসা পাননি। অযোধ্য়ায় যাওয়ার প্রধান রাস্তা এবং রাম জন্মভূমি হিসাবে চিহ্নিত স্থানটি বৃহস্পতিবার সারাদিন নির্জনই ছিল। কিন্তু, সব জায়গায় কি অবস্থাটা এমনই ছিল?

আয়ুর্বেদিক ওষুধেই জব্দ করোনা, বেঙ্গালুরুর ডাক্তারের হাতে সুস্থ হলেন প্রিন্স চার্লস

১৯৪৮-এর পদক্ষেপই করোনা-যুদ্ধে বাঁচাবে ভারত-কে, আশার আলো মার্কিন গবেষণায়

লকডাউনের ফাঁকা রাস্তায় দু'পায়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে একটি গাছ, ভাইরাল হল ভিডিও, দেখুন

লকডাউন ছাড়াই করোনা-মুক্তির পথে, দক্ষিণ কোরিয়া পারলে ভারত কি পারে না

বস্তুত, রামনবমীর দিন অযোধ্যায় লকডাউন যেটুকু চোখে পড়েছে তা ওই প্রধানরাস্তা এবং রামজন্মভূমিতেই। বিখ্যাত হনুমান গড়ি মন্দির-সহ অযোধ্যার সব মন্দিরে এবং ভিতরের ছোট রাস্তা, গলিগুলিতে সরকারের কঠোর সামাজিক দূরত্বের আইন কেউ মানেননি। স্বয়ং পুলিশকেই দেখা গিয়েছে জনসাধারণকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশ অনুসরণ করাতে গিয়ে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে নিজেরাই সেই বিধি ভেঙে জটলা করে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। অন্য কাউকে জটলা না করার কথা তাঁরা কীভাবে বলবেন?

তবে, রামনবমীর দিন অযোধ্যায় যে প্রধান তিন কর্মসুচি পালন করা হয়, সেই সরায়ু নদীতে ডুব দেওয়া, হনুমান গড়ি মন্দিরে ভগবান হনুমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং রাম জন্মভূমির দর্শন করা, এইবার সরকারি নির্দেশে কোনওটিই করা যায়নি। তাতেই মোদী ও যোদী প্রশাসনের উপর চরম ক্ষুব্ধ অধিকাংশ সাধুসন্তরা। এই 'চাপিয়ে দেওয়া লকডাউন'কে তাঁরা মনে করছেন অন্যায়। সামাজিক দূরত্বের মতো ব্যবস্থা করোনাভাইরাস-এর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে পারবে, এটা তাঁরা বিশ্বাস করছেন না। তাঁদের মতে একমাত্র আধ্যাত্মিকতাই দেশকে করোনাভাইরাস-এর প্রকোপ থেকে বাঁচাতে পারে।

হনুমান গড়ি মন্দিরের অন্যতম সাধু সুভাষ যাদবের মতে, অন্যান্য বছরের মতো করেই অযোধ্যায় রামনবমী উদযাপন করার অনুমতি দেওয়া উচিত ছিল কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের। তাঁর দাবি, পবিত্র সরায়ু নদীতে নিমজ্জন শুধু যে মানবদেহকে পরিষ্কার করে তাই নয়, দেহে অমৃতের সঞ্চারও করে। সেই অমৃতই করোনাভাইরাসকে প্রতিরোধ করত।

এখানেই থামেননি ক্ষুব্ধ সুভাষ যাদব। তিনি বলেছেন, ইন্দিরা গান্ধী সরকারকে জরুরি অবস্থার পরে যেমন মূল্য চোকাতে হয়েছিল, যোগী ও মোদী প্রশাসনকেও এই 'অন্যায়'-এর জন্য বড় দাম দিতে হবে। একইসঙ্গে উদ্বাস্তু শ্রমিকদের প্রত্যেককে সরকারে পক্ষ থেকে ১০,০০০ টাকা করে অর্থসাহায্য দেওয়ার দাবিও তুলেছেন হনুমান গড়ি মন্দিরের এই সাধু। কারণ সরকারের এই লকডাউনের সিদ্ধান্তে, তাদের জীবন পথ হারিয়েছে।

তবে হনুমান গড়ি মন্দিরের মোহান্ত রাজু রাজ এই লকডাউনকে সমর্থনই করেছেন। সুভাষ যাদবের বক্তব্য নিয়ে তিনি বলেছেন, দ্বিমত থাকতেই পারে তবে, সকলেই এই লকডাউন মানছেন।