করোনার ধাক্কায় রাজধানি দিল্লির অবস্থা টালমাটাল। লকডাউন-এ খুব একটা পরিস্থিতির এদিক-ওদিক হয়নি। সমস্যা দ্বিগুণ করে দিয়েছে, নিজামুদ্দিন মার্কাজে তাবলিগি জামাত-এর সমাবেশ। এই অবস্থায় করোনার বাড়বাড়ন্ত রুখতে এবার নতুন করে কোমর বেঁধে নামল দিল্লি সরকার। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল জানালেন, করোনা-যুদ্ধে এবার তারা চালু করছে 'অপারেশন শিল্ড'।

কী এই অপারেশন শিল্ড?

অপারেশন শিল্ড হল ছয় দফার পরিকল্পনা। যাদের ইংরাজি আদ্যক্ষরগুলি পর পর সাজালে তৈরি হয় ইংরাজি শব্দ শিল্ড, বাংলায় য়ার অর্থ বর্ম। অর্থাৎ, এই ছয় দফা পরিকল্পনার মাধ্যমেই দিল্লিবাসীকে মারাত্মক করোনার হাত থেকে বাঁচাতে বর্মে মুড়ে রাখতে চলেছে দিল্লি সরকার।

কী এই ছয় দফা পরিকল্পনা?

এস - সিলিং - করোনাভাইরাস সংক্রমণের জরুরি এলাকাগুলিকে ভৌগলিকভাবে চিহ্নিত করে তাদের সিল করে দেওয়া।

এইচ - হোম কোয়ারেন্টাইন - ওই এলাকার সব বাসিন্দাদের হোম কোয়ারেন্টাইন বা গৃহ বিচ্ছিন্নতায় রাখা।

আই - আইসোলেশন অ্যান্ড ট্রেসিং - আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে যাঁরা এসেছেন, তাঁদের খুঁজে বার করা ও বিচ্ছিন্ন করা।

- এসেন্সিয়াল সাপ্লাই - এসেন্সিয়াল সাপ্লাই বা প্রয়োজনীয় পণ্য়ের সরবরাহ নিশ্চিত করা।

এল - লোকাল স্যানিটাইজেশন - দিল্লির বিভিন্ন এলাকা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে স্য়ানিটাইজ বা জীবানুমুক্ত করা।

ডি - ডোর টু ডোর হেল্থ চেক - করোনাভাইরাস সংক্রমণের জরুরি এলাকাগুলি-তে, ডোর টু ডোর অর্থাৎ প্রত্যেকটি বাড়িতে গিয়ে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা।

ভারতে প্রথম পতন করোনা-যোদ্ধার, চলে গেলেন বিনা পয়সায় রোগী দেখা চিকিৎসক

লকডাউনে পুলিশ হল ডাক্তার, এমার্জেন্সি রেসপন্স ভ্যানেই জন্ম নিল ফুটফুটে একরত্তি

২ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষের সমাবেশ, ভারতের পর পাকিস্তান-কে ডোবালো তাবলিগি জামাত

'কোভিড-১৯ইন্ডিয়া' অর্থাৎ ভারতে সরকারে তৈরি কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা সংক্রান্ত ওয়েবসাইট-এর তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত দিল্লিতে মোট কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা ৬৬৯। এরমধ্যে সুস্থ হয়ে গিয়েছেন ২১ জন। আর মৃত্য়ু হয়েছে ৯ জনের। বুধবারই, মহারাষ্ট্রের পর ভারতের দ্বিতীয় রাজ্য হিসাবে প্রকাশ্য়ে ফেস মাস্ক পরাটা বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে দিল্লি সরকার। এবার আনা হল 'অপারেশন শিল্ড'। কতটা কার্যকর হয়, সেটাই দেখার।