ভারতের পর পাকিস্তানকেও ডোবালো তাবলিগি জামাত। ভারতের নিজামুদ্দিন মার্কাজে লকডাউন বিধি উপেক্ষা করেই জড়ো হয়েছিলেন হাজার হাজার দেশি-বিদেশি মানুষ। সেখান থেকে ভারতে ১৪টি রাজ্যে দ্রুত ছড়িয়ে গিয়েছে করোনাভাইরাস সংক্রমণ। এবার তাদের সদস্যরা একই কাজের জন্য সমালোচিত হচ্ছেন প্রতিবেশি দেশ পাকিস্তানে। কারোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের মধ্য়েই মার্চ মাসে পাকিস্তানের রায়ওয়াইন্দ মার্কাজে তাবলিগি জামাত তাদের বার্ষিক গণ সমাবেশের আসর বসিয়েছিল। আর তারপর ভারতের অনুরূপ ছবি দেখা যাচ্ছে পাকিস্তানেও।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, পাক পঞ্জাব-এর রাজ্য সরকার এই সমাবেশের তীব্র বিরোধিতা করেছিল। বারবার তাবলিগি জামাত নেতাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছে প্রশাসন। কিন্তু তারপরেও জামাত তাদের বার্ষিক গণসমাবেশ চালু রেখেছিল। শেষ পর্যন্ত সরকারের চাপাচাপিতে ছয় দিনের অনুষ্ঠানের দিন কমিয়ে তিন দিন করা হয়েছিল। পাক পঞ্জাব সরকারের হিসাব মতো, ১০ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ওই সমাবেশে প্রায় ৭০,০০০ থেকে ৮০,০০০ তাবলিগি জামাত সদস্য অংশ নিয়েছিলেন। জামাত কর্তৃপক্ষের অবশ্য দাবি সংখ্যাটা ২,৫০,০০০-এরও বেশি। পাকিস্তানের বাইরে ৪০টি দেশ থেকে আগত ৩০০০ বিদেশি ওই সমাবেনে যোগ দেন। কোভিড-১৯ মহামারীর বাড়াবাড়িতে পাকিস্তান সব আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় তাঁরা আর দেশে ফিরতে পারেননি।

আর এখন একের পর এক তাবলিগি জামাত সদস্য কোভিড-১৯ আক্রান্ত হচ্ছেন। এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানে মোট ৫৩৯ জন তাবলিগি জামাত সদস্য কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে রাওয়াইন্দ মার্কাজেরই ৪০৪ জন রয়েছেন। এরপরই, প্রায় দুই লক্ষ জনসংখ্যার রাওয়াইন্দ শহরটি বাাইরের পৃথিবী থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে জামাতের সমাবেশে অংশ নেওয়া প্রায় ১০,২৬৩ জনকে পাক পঞ্জাবের ৩৬টি জেলায় গৃহ-বিচ্ছিন্নতায় রাখা হয়েছে।  আরও কয়েক হাজার সদস্যের সন্ধান করা হচ্ছে।

করোনা ঝড়ে বিধ্বস্ত অম্বানি থেকে কোটাক, একমাত্র হাসছেন এই ভারতীয় ধনকুবের

ভারতে প্রথম পতন করোনা-যোদ্ধার, চলে গেলেন বিনা পয়সায় রোগী দেখা চিকিৎসক

লকডাউনে পুলিশ হল ডাক্তার, এমার্জেন্সি রেসপন্স ভ্যানেই জন্ম নিল ফুটফুটে একরত্তি

পাক পঞ্জাব প্রদেশের স্বাস্থ্য বিভাগ দায়িত্বজ্ঞানহিনতার জন্য তাবলিগি জামাত সংস্থার প্রবল সমালোচনা করেছে। বর্তমানে ওই প্রদেশে কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমে বেড়েই চলেছে। এর জন্য জামাত সদস্যদের বেপরোয়া মনোভাবকেই দায়ী করেছে স্বাস্থ্য় বিভাগ। এখনও জামাত সদস্যরা নিজেদের এলাকায় দেদার ঘুরে বেরাচ্ছেন। বহু মানুষের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাত করে চলেছেন। কারণ, এটা তাদের ধর্ম-প্রচারের অংশ।

এর আগে মালয়েশিয়া ও ভারতে একই কারণে সমালোচিত হয়েছিল ইসলামি সন্ন্যাসীদের এই সংগঠনটি। ৯ এপ্রিল পর্যন্ত পাকিস্তানে কোবিড-১৯ রোগীর মোট সংখ্যা ৪,৪১৪, আর এই রোগজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে ৬৩ জনের। মাঝে পাকিস্তানে এই ভাইরাস ছড়ানোর হারে লাগাম লেগেছে বলে মনে করা হচ্ছিল। কিন্তু, জামাত-এর এই ঘটনার পর তা একেবারে রকেটের গতিতে উপরে উঠছে।