করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ত্রস্ত গোটা দেশ। সংক্রমণ রুখতে সামাজিক দূরত্বেই জোর দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মেনে আর নিজেদের নিরাপদে রাখতেই গোটা দেশ আজ ঘরবন্দি। প্রায় স্তব্ধ জনজীবন। জরুরী পরিষেবা ছাড়া বন্ধ প্রায় সমস্ত পরিষেবা। ২১ শতকে এসেও প্রায় থকমে গেছে জনজীবন। শুধু ভারত নয় এই ছবিই গোটা বিশ্বের প্রায় সর্বত্র। মহামারীর কাছে ইতিমধ্যেই হার মেনেছে ইতালি, চিনের মত শক্তধর দেশগুলি। এখনও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। কিন্তু চরম এই বিপর্যয়ের মধ্যেও থেমে নেই জীবন । নিয়ম মেনেই বসন্তের পর এসেছে গ্রীষ্ণ। নিয়ম মেনেই এখনও ফুল ফুটছে গাছে। তেমনই প্রকৃতির নিয়মেই মহামারীর মধ্যেও এক মা জন্ম দিয়েছে যমজ সন্তানের। 

ছত্তিশগড়ের রায়পুরের দম্পতি বিনয় ও প্রীতি ভর্মা। বিপর্যস্ত এই সময়েও তাঁদের ঘরে খুশির হাওয়া। এই সময় তাঁদের বাড়িতেই এল কোভিড আর করোনা। সদ্যই প্রীতি জন্ম দিয়েছেন দুই সন্তানের । একটি পুত্র ও একটি কন্যা। আর তাদের নামও রেখেছেন মহামারীর নামে। বর্তমানে সুস্থ রয়েছে ভর্মা দম্পতির যমজ সন্তান। স্থানীয় ডাক্তর ভিমরাও আম্বেদকর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেলিন প্রীতি। সেখানেই জন্ম দেন দুই সন্তানের। নতুনদের স্বাগত জানাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করেছিল বলেও জানিয়েছিলেন ভর্মা দম্পতি। পুত্রসন্তান কোবিডর ওজন ছিল ২.৯ কেজি। আর করোনার ওজন ছিল ২.৭ কেজি। গভীর রাতেই প্রীতি সন্তানদের জন্ম দিয়েছিলেন। আর তাতে এই লকডাউনের সময় সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বাড়িতে আনার পরেও সন্তানের রীতিমত পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন দম্পত।

আরও পড়ুনঃ করোনা-রোধে হল না সরায়ুর অমৃত আহরণ, অযোধ্যায় 'ইন্দিরা' অভিশাপে বিদ্ধ মোদী ও যোগী

আরও পড়ুনঃ ১৯৪৮-এর পদক্ষেপই করোনা-যুদ্ধে বাঁচাবে ভারত-কে, আশার আলো মার্কিন গবেষণায়

আরও পড়ুনঃ লকডাউন মানছেন না বয়স্ক বাবা, আটকাতে এবার পুলিশে এফআইআর দায়ের ছেলের

 


করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে সন্তান জন্মদেওয়ার আগে খুবই আশঙ্কিত ছিলেন ভর্মা দম্পতি। কিন্তু হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীরা তাঁদের যথেষ্ট সাহায্য করেছে। আর সন্তান জন্মের পরেই দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সরাই তাঁর দুই সন্তানকে করোনা আর কোবিড বলে ডাকতে শুরু করেছিল। তখনই নাকি ভর্মা দম্পতি ঠিক করেছিলেন মহামারীর নামেই নাম রখবেন তাঁদের সন্তানদের। সেই চিন্তা থেকেই ছেলে মেয়ের নাম রেখেছেন করোনা আর কোভিড।