করোনাভাইরাস সংক্রমণ রীতিমত প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে এই দেশে। সোমবার সকালে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুয়াযী আক্রান্তের সংখ্যা ৩৬৬৬। মৃতের সংখ্যা একশো ছাড়িয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু এলাকাকে করোনাভাইরাসের হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। যা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্বেগ ক্রমশই বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে করোনভাইরাসের বিরুদ্ধে রণনীতি বদল করতে চলেছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। 

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আইসিএমআর  দ্রুত পরীক্ষার দিকেই সবুজ সংকেত দিচ্ছে। অর্থাৎ দ্রুত সনাক্তকরণের মাধ্যমেই করোনাভাইরাসে সংক্রমিতদের চিহ্নিত করা হবে। দেশের করোনাভাইরাসর হটস্পট হিসেবে যেসব এলাকা চিহ্নিত হয়েছে সেই এলাকায় এই পদ্ধতিতে পরীক্ষা হবে। দ্রুত অ্যান্টিবডি পরীক্ষার মাধ্যমে করোনা আক্রান্তদের চিহ্নিত করতে খরচও অনেকটা কমে যাবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ অ্যান্টিবডি টেস্টিং কিটের দাম ২০০০-৩০০০ টাকা। আর বর্তমানে যে পিসিআর পদ্ধতিতে পরীক্ষা হয় তাতে খরচ হয় প্রায় ৪৫০০টাকা। 

বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকার পিসিআর বা পরিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন পদ্ধতির মাধ্যমেই করোনা আক্রান্তদের চিহ্নিত করছে। যা আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মীদের কাছে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ গলা থেকে সোয়াব বা লালা নিয়ে পরীক্ষা করতে হয়।  সনাক্তকরণ কিছুটা হলেও সময় সাপেক্ষ। তাই দ্রুত চিহ্নিত করণের সিদ্ধান্তে শিলমহর আইসিএমআর-এর। 

পিসিআর পদ্ধতিতে পরীক্ষার ফলাফল আসতে যেখানে ৫ঘণ্টা সময় লাগে সেখানে দ্রুত অ্যান্টিবডি পরীক্ষার ফল পাওয়া যায় মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যেই। আঙুল থেকে রক্ত নিয়েই পরীক্ষা করা হয়। 

আরও পড়ুনঃ মাত্র ৯ মিনিটেই কেল্লাফতে, মোদীর ডাকে আলো নিভিয়ে সাশ্রয় ৩২ জিগাওয়াট বিদ্যুৎ

আরও পড়ুনঃ ভারতে করোনাভাইরাসের ১০টি হটস্পট, কেমন আছে দিল্লি, মহারাষ্ট্র আর কেরল

আরও পড়ুনঃ অসাধ্য সাধন করল করোনাভাইরাস আর লকডাউন, মাত্র ১০ দিনে বদলে গেছে গঙ্গার চেহারা

মহারাষ্ট্র, তেলাঙ্গনা, অন্ধ্রপ্রদেশসহ একাধিক রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে। অ্যান্টি বডি দ্রুত পরীক্ষার মাধ্যমে চিহ্নিত করা যাবে আক্রান্তদের। ফলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কিছুটা হলেও সম্ভবপর হবে। তাই এই রাজ্যগুলি দ্রুত অ্যান্টিবডি পরীক্ষার আবেদনও জানিয়েছে। আর অ্যান্টিবডি দ্রুত পরীক্ষার কীটগুলি গ্রামসহ দেশের প্রত্যান্ত এলাকায় পাঠানো অনেকটা সহজসাধ্য। তাই আগে থেকে পরীক্ষা করে সতর্কতা অবলম্বন করতে পারবে সরকার। কারণ অ্যান্টিবডি পরীক্ষার মাধ্যমে আপনি অসুস্থ না হলেও করোনাভাইরাস আপনার দেহে আছে কী না  জানা যাবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের কর্তারাও জানিয়েছেন অ্যান্টিবডি টেস্টের মাধ্যমে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াচ্ছে কিনা তা আগে থেকেই জানা যাবে। 

সূত্রের খবর ভারত ইতিমধ্যেই অ্যান্টিবডি টেস্টিং কিট কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আমেরিকা, চিন, দক্ষিণ কোরিয়াতে প্রায় ৫লক্ষ কিটের অর্ডারও দিয়েছে। আইসিএমআরও বেঙ্গালুরুর একটি সংস্থাকে অ্যান্টিবডি কিট তৈরির বরাত দিয়েছে।