দুষণমুক্ত হচ্ছে গঙ্গার জল  ৪০-৫০ শতাংশ উন্নতি গঙ্গার জলের জলে বাড়ছে অক্সিজেনের পরিমান কমছে বায়ু দূষণও

লকডাউনের পর কেটে গেছে দশ দিনেরও বেশি সময়। আর এই কদিনেই বদলে গেছে গঙ্গার চেহারা। ধীরে ধীরে স্বচ্ছ হচ্ছে গঙ্গার মলিন জল। গঙ্গার জলের স্বচ্ছতা ফিরে আসায় খুশির হাওয়া বারানসীর বাসিন্দাদের মধ্যে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিমত তাঁরা খালি চোখেই বুঝতে পারছেন গঙ্গার জল পরিষ্কার হচ্ছে। ইতিমধ্যেই পাখির যাতায়াত বেড়েছে গঙ্গার ওপর দিয়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সেই দাবি আরও জোরাল হল আইটি বিএইচইউ-র অধ্যাপাকদের সার্ভের পর। ইন্সিউট অব কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর অধ্যাপক পিকে মিশ্র জানিয়েছেন একাধিক কারখানার বর্জ্য পদার্থই গঙ্গা দূষণের মূল কারণ। কিন্তু করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সামাজিক দূরত্বে জোর দেওয়ায় বর্তমান ২১ দিনের লকডাউনের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। তার তাতেই বন্ধ রয়েছে কারখানা। যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে গঙ্গার দূষণা নিয়ন্ত্রণে। 

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred
Scroll to load tweet…

পিকে মিশ্র জানিয়েছেন, কারখানার কারণেই ১০ শতাংশ গঙ্গার জল দুষিত হয়। কিন্তু লকডাউনের কারণে কারখানাগুলি বন্ধ রয়েছে। ইতিমধ্যে বারানসী এলাকায় ৪০-৫০ শতাংশ উন্নতি হয়েছে গঙ্গার জলের। গত ১৪ই মার্চ বৃষ্টি হয়েছিল। তাতে গঙ্গার জল বেড়েছিল। যার অর্থই হল এখনও নদীর জল পরিষ্কারের ক্ষমতা রয়েছে। তবে এখনও স্থানীয় মানুষরা গঙ্গার জল ব্যবহার করছেন না। স্নান বা অন্য কাজ থেকেই বিরত থাকছেন। যা গঙ্গা দূষণ নিয়ন্ত্রণে খুবই সদর্থক ভূমিকা গ্রহণ করবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। 

আরও পড়ুনঃ ৯ মিনিট শুধু বাড়ির আলোই বন্ধ রাখুন, রাস্তার আলোসহ বিপদ এড়াতে জ্বেলে রাখুন বাকি সবকিছু

আরও পড়ুনঃ কোয়ারেন্টাইন সেন্টার তৈরি ঘিরে গুলি বোমার লড়াই, রণক্ষেত্র পাড়ুইয়ে মৃত ১

আরও পড়ুনঃ ১২ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৩০২, ক্রমশই প্রকট হচ্ছে নিজামুদ্দিন যোগ

উত্তর প্রদেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের বারানসী থেকে জানান হয়েছে, বর্তমানে গঙ্গায় দ্রবীভূত অক্সিজেনের স্তর প্রতিলিটির জলে ৮.৯ মিলিগ্রাম। নিম্নপ্রবাহে সেই পরিমানই ৮.৩। জলের এই গুণমানই প্রমান করছে উন্নতি হচ্ছে গঙ্গার চরিত্রের। পাশাপাশই আরও জানান হয়েছে যে কোনও স্বাস্থ্যকর জবে দ্রবীভূত অস্কিজেনের স্তর থাকতে হবে লিটার প্রতি ৭ মিলিগ্রামে। 

বারানসী, কানপুরসহ গঙ্গাতীরের অধিকাংশ শহরেই পালন করা হচ্ছে লকডাউন। তাই বন্ধ রয়েছে কালকারখানা। বন্ধ যান চলাচল। অধিকাংশ মানুষই বর্তমানে গৃহবন্দি। যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পরিবেশের ওপর। কিছুটা হলেও কমেছে বায়ু দূষণ। দুষণ কমায় বেড়েছে দৃশ্যমানতা। পাশাপাশি উন্নত হচ্ছে গঙ্গার জলও।