কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে চলেছে দেশ। করোনাভাইরাস মহামারীর দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রীতিমত করোনার হটস্পট মহারাষ্ট্র। দিনে দিনে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। আর সেখানেই কিনা লকডাউনের নিয়ম উপেক্ষা করলেন বিজেপির প্রতীকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। 

ওয়ার্ধার বিজেপি বিধায়ক দাদারাও কাচে। রবিবার ছিল তাঁর জন্মদিন। আর সেই উপলক্ষ্যে তাঁর বাড়ির সামনে ছিল না তিল ধরানোর জায়গায়। সূত্রের খবর প্রায় ২০০ মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। অধিকাংশই ছিলেন তাঁর অনুগামী। যেখানে রীতিমত উপেক্ষিত সামাজিক দূরত্ব। রীতিমত ঠাসাঠাসি করেই হয়েছিল জমায়েত। স্থানীয় প্রশাসনের অভিযোগ লকডাউনের নিয়ম উপেক্ষা করেই নিজের জন্মদিন পালন করছিলেন বিজেপি বিধায়ক দাদারাও কাচে। সামাজিক দূরত্ব উপেক্ষিত হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগও জানান হয়েছে পুলিশে। 

আরও পড়ুনঃ করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতে রণনীতি বদলের পথে আইসিএমআর, দ্রুত অ্যান্টিবডি পরীক্ষার নির্দেশ

আরও পড়ুনঃ মাত্র ৯ মিনিটেই কেল্লাফতে, মোদীর ডাকে আলো নিভিয়ে সাশ্রয় ৩২ জিগাওয়াট বিদ্যুৎ

আরও পড়ুনঃ ভারতে করোনাভাইরাসের ১০টি হটস্পট, কেমন আছে দিল্লি, মহারাষ্ট্র আর কেরল

যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দাদারাও কাচে। তিনি বলেছিলেন, তাঁর জন্মদিন ছিল ঠিকই। কিন্তু তিনি এতো মানুষতে আমন্ত্রণ জানাননি। করোনাভাইরাস আর লকডাউনের কারণে যাঁদের জীবন প্রায় স্তব্ধ হয়েগেছে তেমনই মাত্র ২১ জনতে তিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সেই ২১ জনের হাতে খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী তুলেদেওয়াই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। দাদারাও কাচে আরও জানিয়েছেন, খাবার বিতরণ করে সকাল ১১টা নাগাদই বাড়ি ছেড়ে বেরিয়েছিলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, তিনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। তাঁর বিরোধী পক্ষই রটিয়ে দিয়েছিল তিনি খাবার বিতরণ করছেন। আর সেই গুজবেই প্রচুর মানুষ লকডাউন উপেক্ষা করেই জড়ো হয়েছিল তাঁর বাড়ির সামনে। তিনি আরও বলেন তাঁর দলেরই দলনেতা নরেন্দ্র মোদী করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার কথা বলছেন। তা তিনি কী করে উপেক্ষা করবেন। 

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে কোনও অনুষ্ঠানের অনুমতি দাদারাও কাচে নেননি। বর্তমানে কোনও অনুষ্ঠানের অনুমতিও দেওয়া হচ্ছে না লকডাউন উপেক্ষা করায় তাঁর বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করেছে স্থানীয় পুলিশ। ওয়ার্ধার জেলা শাসক জানিয়েছেন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে বর্তমানে কোনও জমায়েতের অনুমতি দিচ্ছে না প্রশাসন। মাত্র ৫ জনের উপস্থিতে রক্তদানের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।  দাদারাওয়ের বিরুদ্ধেও তদন্ত হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।